বারুইপুরে অশান্তির ঘটনায় গ্রেপ্তার সিপিএম নেতা লায়েক আলি। রবিবার রাতে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তিনি এবারের বিধানসভা নির্বাচনে বারুইপুর পশ্চিম কেন্দ্র থেকে বামফ্রন্টের হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন।
বারুইপুরের অশান্তির ঘটনায় রাজনৈতিক মদতের অভিযোগ আগেই তুলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। গত শনিবার বারুইপুর সফলে তিনি বলেন, ভোটে হেরে রাজনৈতিক শক্তির উস্কানিতে এই গোলমাল ছড়িয়েছে। তাঁর ওই মন্তব্যের পরদিনই লাহেক আলিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গত ৫ জুলাই বারুইপুরের সূর্যপুরের একটি পুকুর থেকে নাবালিকার দেহ উদ্ধার করা হয়। সেই ঘটনার পর এলাকায় বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। দফায় দফায় অবরোধ, ভাঙচুর এবং পুলিশকর্মীদের উপর হামলার অভিযোগ ওঠে। সেই সময় সন্দেহের বশে ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল নামে এক যুবককে গণপিটুনিতে হত্যা করা হয়। পরে তদন্তে জানা যায়, নাবালিকাকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় তাঁর কোনও ভূমিকা ছিল না। মুখ্যমন্ত্রীও জানিয়েছেন, ইন্দ্রজিৎ নির্দোষ ছিলেন।
অশান্তির ঘটনার পর থেকেই লাহেক আলির নাম তদন্তে উঠে আসে। ঘটনার দিন তিনি বিক্ষোভে উপস্থিতও ছিলেন। স্থানীয়দের একাংশও তাঁর বিরুদ্ধে অশান্তিতে উস্কানি দেওয়ার অভিযোগ তুলেছিলেন। ঘটনার প্রায় এক সপ্তাহ পর তাঁকে গ্রেপ্তার করা হল।
লায়েক আলির গ্রেপ্তারির বিরোধিতা করেছে সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী। তাঁর অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই লাহেক আলির বিরুদ্ধে নানা ধরনের অপপ্রচার চালানো হচ্ছিল। সুজন আরও জানান, ইন্দ্রজিৎ মণ্ডলের গণপিটুনিতে মৃত্যুর খবর পেয়ে লাহেক ঘটনাস্থলে পৌঁছেছিলেন।
সোমবার লায়েক আলিকে বারুইপুর মহকুমা আদালতে পেশ করা হবে। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত মোট ৪৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে খবর, তদন্তে এলাকায় অশান্তি ছড়ানোর ঘটনায় তাঁর যোগসূত্রের প্রমাণ মিলেছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তাঁর বিরুদ্ধে খুন, অপরাধমূল ষড়যন্ত্র, দাঙ্গা, সরকারি কর্মীদের উপর হামলা, জনসম্পত্তি নষ্ট, ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়ানো, অপরাধে প্ররোজনা-সহ একাধিক গুরুতর ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে বলে সূত্রের খবর। পাশাপাশি রেলওয়ে আইনের একাধিক ধারাতেও তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তের উপর নির্ভর করে ভবিষ্যতে আরও আইনি পদক্ষেপ করা হতে পারে বলেও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।




