• facebook
  • twitter
  • youtube
Saturday, 31 October, 2026

পশ্চিমবঙ্গ থেকেই নতুন ইতিহাস বিজেপির, ৪৬ বছর পর প্রথম শ্রমিক সংগঠন গঠন

দীর্ঘ সাড়ে চার দশকের নীতি বদলে এ বার নিজস্ব শ্রমিক সংগঠন গড়ে তুলল বিজেপি। আর সেই সংগঠনের প্রথম আত্মপ্রকাশ হল পশ্চিমবঙ্গে।

পশ্চিমবঙ্গ থেকেই নতুন ইতিহাস বিজেপির, ৪৬ বছর পর প্রথম শ্রমিক সংগঠন গঠন

দীর্ঘ সাড়ে চার দশকের নীতি বদলে এ বার নিজস্ব শ্রমিক সংগঠন গড়ে তুলল বিজেপি। আর সেই সংগঠনের প্রথম আত্মপ্রকাশ হল পশ্চিমবঙ্গে। শনিবার নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ঠিকাকর্মীদের নিয়ে নতুন শ্রমিক সংগঠন চালু করল গেরুয়া শিবির। সংগঠনের নাম রাখা হয়েছে ‘এনএসসিবিআই এয়ারপোর্ট কনট্রাক্টরস ওয়ার্কার্স মোর্চা’। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য সমাজমাধ্যমে এই উদ্যোগকে ‘বিজেপি ট্রেড ইউনিয়ন সেল’ বলে উল্লেখ করেছেন।

১৯৮০ সালে বিজেপির প্রতিষ্ঠার পর থেকে দলের নিজস্ব কোনও শ্রমিক সংগঠন ছিল না। ছাত্র সংগঠনও নেই। এত দিন রাজনৈতিক ও আদর্শগত অবস্থানের কারণেই এই ধরনের শাখা সংগঠন তৈরি করা হয়নি বলে দাবি করে এসেছে বিজেপি। ছাত্রদের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ এবং শ্রমিকদের ক্ষেত্রে ভারতীয় মজদুর সংঘের উপর নির্ভর করত দল। পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পালাবদলের পর রাজ্যে ভারতীয় মজদুর সংঘের সক্রিয়তাও বেড়েছে। এ বার সেই অবস্থান থেকে সরে এসে নিজেদের শ্রমিক সংগঠন তৈরির পথে হাঁটল বিজেপি।

এত দিন কেন নিজস্ব শ্রমিক সংগঠন তৈরি করেনি দল, তার ব্যাখ্যাও দিয়েছেন শমীক। তাঁর বক্তব্য, কোনও রাজনৈতিক দলের নিজস্ব শ্রমিক সংগঠন থাকলে সেই দল ক্ষমতায় আসার পর শ্রমিকদের পক্ষে সরকারের বিরুদ্ধে নিজেদের অধিকার ও বঞ্চনা নিয়ে আন্দোলন করা কঠিন হয়ে পড়ে। তবে নতুন সংগঠন সেই নীতির বাইরে গিয়ে কাজ করবে বলে দাবি বিজেপি নেতৃত্বের। শমীকের কথায়, “দেশের জন্য কাজ করব, কাজের জন্য প্রাপ্য অর্থ নেব— এই অবস্থান নিয়েই আজ আমরা সংগঠন তৈরি করছি।”

শনিবার দমদম বিমানবন্দরে সংগঠনের আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে শমীকের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক সুনীল বনসল। তাঁর দাবি, এটিই বিজেপির প্রথম আনুষ্ঠানিক শ্রমিক সংগঠন। দিনটিকে ‘ঐতিহাসিক’ বলেও উল্লেখ করেন তিনি। বনসল জানান, আগামী দিনে দেশের অন্যান্য জায়গাতেও বিজেপির নিজস্ব শ্রমিক সংগঠন গড়ে তোলা হবে।

এর আগে বিভিন্ন সময়ে শ্রমিকদের এক ছাতার তলায় আনার উদ্যোগ নিয়েছিল বিজেপি। স্থানীয় স্তরে কর্মী সংগঠন এবং শ্রমিক সম্পর্ক বিভাগও তৈরি হয়েছিল। দিলীপ ঘোষ রাজ্য সভাপতি থাকাকালীন তৈরি হয়েছিল ‘ভারতীয় জনতা মজদুর ট্রেড ইউনিয়ন’ নামে একটি সংগঠন। তবে সেটি রাজ্য বা কেন্দ্রীয় বিজেপি নেতৃত্বের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পায়নি। ফলে এ বারই প্রথম সর্বভারতীয় নেতৃত্বের উপস্থিতিতে দলের নিজস্ব শ্রমিক সংগঠনের আনুষ্ঠানিক সূচনা হল।

রাজ্যে বিজেপির ‘ট্রেড ইউনিয়ন রিলেশনস সেল’ অবশ্য আগে থেকেই কাজ করছিল। বিভিন্ন ক্ষেত্রের শ্রমিক এবং তাঁদের সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ ও সমন্বয় রাখাই ছিল এই বিভাগের মূল দায়িত্ব। সেই সেলের পশ্চিমবঙ্গের সহ-আহ্বায়ক অরিত্র চট্টোপাধ্যায়কে বিমানবন্দরের ঠিকাকর্মীদের নতুন মোর্চার সভাপতি করা হয়েছে। একই ভাবে ওয়েবেলের ঠিকাকর্মীদের নিয়েও পৃথক সংগঠন তৈরি করেছে বিজেপি। সেখানেও সভাপতির দায়িত্ব পেয়েছেন অরিত্র।

তবে রাজ্যে ভারতীয় মজদুর সংঘ আগে থেকেই সক্রিয় থাকায় বিজেপির নতুন শ্রমিক সংগঠনের ভূমিকা কী হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। অরিত্র জানিয়েছেন, দুই সংগঠনের কাজের ক্ষেত্র আলাদা থাকবে। ভারতীয় মজদুর সংঘের মতো বিজেপির নতুন সংগঠন মূলত সংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমিকদের নিয়ে কাজ করবে না। অসংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠাই হবে তাদের লক্ষ্য।

অরিত্রর কথায়, “আমাদের ট্রেড ইউনিয়ন রিলেশনস সেল আগে থেকেই ছিল। সেই বিভাগের মাধ্যমে আমরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে শ্রমিকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতাম। এ বার সেটাকে একটা কাঠামোর মধ্যে আনার ব্যবস্থা হচ্ছে।” তিনি আরও জানান, ঠিকাকর্মী, নির্মাণ শ্রমিক এবং বিভিন্ন বেসরকারি ক্ষেত্রের শ্রমিক-কর্মচারীদের সংগঠিত করে তাঁদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের জন্য কাজ করবে এই সংগঠন।