ধর্মীয় বিভাজনের মাঝে সম্প্রীতির এক অনন্য নজির গড়ে চলেছে বাংলার এক বনেদি পরিবার। হুগলির আরামবাগ মহকুমার ভালিয়া গ্রামের সরকার বাড়িতে প্রায় তিনশো বছর ধরে দুর্গাপুজোর (Durga Puja) মণ্ডপে একসঙ্গে হচ্ছে সন্ধ্যারতি এবং আজান। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা এই রীতি এখনও অটুট। স্থানীয়দের কাছে ‘সরকার বাড়ি’ নামে পরিচিত এই পরিবারের দুর্গাপুজো (Durga Puja) যেন ধর্মীয় সম্প্রীতির এক জীবন্ত উদাহরণ।
সরকার পরিবারের বর্তমানে প্রজন্মের প্রবীণ সদস্য হেনা সরকার ‘দ্য স্টেটসম্যান’-কে জানান, প্রায় তিন শতাব্দী আগে তৎকালীন জমিদার বাবু রাম সরকার তাঁদের বাড়িতে দুর্গাপুজোর (Durga Puja) সূচনা করেছিলেন। তাঁর জমিদারির আওতায় বহু মুসলিম পরিবারও ছিল। সেই সময় থেকেই দুর্গাপুজোর (Durga Puja) সঙ্গে জড়িয়ে যায় এই বিশেষ ঐতিহ্য।
আরও পড়ুন: শরৎ এল রে: দুয়ারে দুর্গাপুজো, তার আগে পদ্ম ফুলের জোগানে ব্যস্ত মালদহের মুসলিম চাষিরা
আজও সরকার বাড়িতে সন্ধ্যারতির সময় ঢাকের বাদ্যি, শঙ্খধ্বনি এবং ঘণ্টার আওয়াজের সঙ্গে শোনা যায় আজানের সুর। মসজিদের মাইকে আজান পাঠ করার পর মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষজন সরকার বাড়ির পুজোমণ্ডপে (Durga Puja) একত্রিত হন নমাজ পড়তে। দুর্গাপুজোর (Durga Puja) চার দিনই এই রীতি মেনে চলা হয়।
বর্তমান প্রজন্মের সদস্য সুদর্শনা সরকার, প্রীতম সরকার এবং শ্রীকান্ত সরকার জানিয়েছেন, তাঁরা বর্তমানে কলকাতায় থাকলেও দুর্গাপুজোর (Durga Puja) সময় নিয়ম করে ফিরে আসেন তাঁদের পূর্বপুরুষের ভিটে ভালিয়ার সরকার বাড়িতে। তাঁদের কাছে এই ঐতিহ্য শুধু একটি পারিবারিক রীতি নয়, বরং দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের বার্তা বহন করে।
আরও পড়ুন: শরৎ এল রে: হাওড়ার দু’হাতের অভয়া দুর্গা, যেখানে আজও রয়েছে মহিষ বলির প্রথা
তাঁদের কথায়, ‘দুর্গাপুজোর (Durga Puja) চার দিন একই মণ্ডপে দুই সম্প্রদায়ের মানুষকে একত্রিত করার এই অনন্য রীতি আমরা কোনও ভাবেই হারাতে চাই না। ভালোবাসা, ঐক্য ও ভ্রাতৃত্বের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি মানুষের মধ্যে বিভাজন তৈরি করা ধর্মীয় গোঁড়ামির প্রাচীর ভাঙার এই ঐতিহ্য আমাদের কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ।‘
তিন শতাব্দী পেরিয়েও তাই ভালিয়ার সরকার বাড়ির দুর্গাপুজোয় (Durga Puja) থাকে সন্ধ্যারতির প্রদীপের আলো এবং আজানের ধ্বনি। ধর্মের বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে সম্প্রীতির বার্তাই যেন এই পুজোর সবচেয়ে বড় পরিচয়।
দেখুন: <iframe width=”560″ height=”315″ src=”https://www.youtube.com/embed/UbdrBzAThdg?si=_wuFtlUBp7p4O_8t” title=”YouTube video player” frameborder=”0″ allow=”accelerometer; autoplay; clipboard-write; encrypted-media; gyroscope; picture-in-picture; web-share” referrerpolicy=”strict-origin-when-cross-origin” allowfullscreen></iframe>