কলকাতা পুরসভার শেষ তিন দশকের ইতিহাসে এই প্রথম ফিরে যাচ্ছে কাউন্সিলরদের উন্নয়ন তহবিলের বিপুল পরিমাণ টাকা। এই টাকার পরিমাণ ১০০ কোটিরও বেশি বলে জানা গিয়েছে। সাংসদ-বিধায়ক উন্নয়ন তহবিলের মতোই কলকাতা পুরসভার কাউন্সিলরদের নিজের নিজের ওয়ার্ডের উন্নয়নের জন্য একটা টাকা বরাদ্দ করা হয়। কিন্তু সম্প্রতি পুর বোর্ড ভেঙে যাওয়ায় কোনও ওয়ার্ডেই কাউন্সিলর নেই। সে কারণেই তহবিলে টাকা থাকলেও সংস্কার ও পরিষেবা খাতে খরচ করা যাচ্ছে না। জানা গিয়েছে, প্রতি ওয়ার্ডের উন্নয়নের জন্য পুর-বাজেটে প্রায় ৬৫ থেকে ৭৫ লাখ টাকা বরাদ্দ হয়।
এবার পুর বাজেটের কয়েকদিন পরই বিধানসভা নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা করা হয়। ফলে চালু হয় আদর্শ নির্বাচনী আচরণ বিধি। এর পর রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদল ঘটে। ইস্তফা দেন মেয়র ফিরহাদ হাকিম। স্বাবাভিকভাবেই ভেঙে যায় পুরবোর্ড। ফলে এই মুহূর্তে কলকাতা পুরসভার ১৪৪ ওয়ার্ডেই কোনও কাউন্সিলর নেই। সে কারণে তহবিলে টাকা পড়ে থাকলেও কোনও প্রকল্পের জন্য সুপারিশ আসছে না। কলকাতা পুরভায় কার্যত অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। ‘কাউন্সিলর ডেভেলপমেন্ট’ ও ‘মেইনটেনেন্স’ তহবিলের অনুমোদন না মেলায় জল, নিকাশি, রাস্তা, আলো-পার্ক মেরামতের জন্য কোনও অর্থই খরচ করা সম্ভব হচ্ছে না। বলা যেতে পারে, পুরসভার একাধিক প্রকল্পের কাজ কার্যত থমকে রয়েছে।
নভেম্বরের শেষে পুরভোট হতে পারে বলে ঘোষণা করেছে শুভেন্দু অধিকারী সরকার। ভোট মিটে নতুন পুর বোর্ড গঠন হতে ডিসেম্বর গড়িয়ে যাবে বলে অনুমান। তারপরই নব নির্বাচিত কাউন্সিলরদের সুপারিশ, তারপর বরো এবং মেয়র পারিষদের বৈঠক প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করার পরই অর্থ বরাদ্দের বিষয়টি চূড়ান্ত হবে। রাজনৈতিক মহলের অনুমান, চলতি বছরে বরাদ্দকৃত অর্থ খরচের সম্ভাবনা কার্যত নেই। সেক্ষেত্রে সরকারি নিয়মে ১৪৪ ওয়ার্ডের উন্নয়নে কাউন্সিলর তহবিলের বরাদ্দ ১০০ কোটির বেশি টাকা ট্রেজারিতেই ফিরে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে। পুরসভার অর্থবিভাগেরও ধারণা, চলতি বছরে কাউন্সিলর উন্নয়ন তহবিলের টাকা খরচ করার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। তবে পুরসভার প্রশাসক স্মিতা পাণ্ডে জানিয়েছেন, যে সমস্ত প্রকল্পে আগে থেকেই অর্থ বরাদ্দ করা আছে সেগুলির কাজ নিময় মেনেই চলছে।
বরাদ্দ অর্থ খরচ করতে না পারার বিষয়ে পূর্বতন তৃণমূল বোর্ডের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন পুরসভায় বিজেপির দলনেতা মীনা দেবী পুরোহিত। তাঁর অভিযোগ, মেয়র ইস্তফা দিয়েছেন বলেই বোর্ড ভেঙেছে। বোর্ড না ভাঙলে কাউন্সিলররা সকলেই তাঁদের উন্নয়ন তহবিলের টাকা খরচ করতে পারতেন। কিন্তু এখন যা পরিস্থিতি তাতে পুরো টাকাই সরকারের ঘরে ফিরে যাবে। অন্যদিকে পুরসভায় বাম নেত্রী মধুছন্দা দেব মনে করছেন, নিয়ম মেনে টাকা খরচ না হওয়ায় আগামী আর্থিক বছরে ওয়ার্ড পিছু বরাদ্দ কমতে পারে। অন্যদিকে বিদায়ী বোর্ডের মেয়র পারিষদ দেবাশীষ কুমারও এই সমস্যার কথা মেনে নিয়েছেন। তবে তাঁর দাবি, কাউন্সিলরদের তহবিলের টাকা খরচ না হওয়ায় পুরসভার বাজেট ঘাটতি কিছুটা কমে যাবে। অন্যদিকে মমতা ঘনিষ্ঠ প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর তপন দাশগুপ্তর দাবি, নির্বাচন কমিশন ও বিজেপি সরকারের কূট কৌশলেই প্রতিটি ওয়ার্ডে উন্নয়নের কাজ আটকে গেল।




