• facebook
  • twitter
Friday, 6 March, 2026

‘উনি যেখানেই যান, সেখানেই সংবিধান, যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো, গণতন্ত্রের মৃত্যু হয়’ আরএন রবির নিয়োগ নিয়ে সরব ডিএমকে সাংসদ

চলতি বছরের শুরুতে আরএন রবি তামিলনাড়ু বিধানসভায় জাতীয় সঙ্গীত নিয়ে বিতর্কের জন্ম দেন

প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র

পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল পদ থেকে সিভি আনন্দ বোস বৃহস্পতিবারই ইস্তফা দিয়েছেন। এরপর কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্যপাল পদে আরএন রবিকে দায়িত্ব দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে তাঁর শপথ নেওয়ার কথা। 

ভোটের আগে এই নিয়োগ রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে ডিএমকে-র রাজ্যসভার সাংসদ পি উইলসন সমাজমাধ্যমে রবিকে কটাক্ষ করে বলেন, ‘উনি যেখানেই যান, সেখানেই সংবিধান, যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো এবং সংসদীয় গণতন্ত্রের মৃত্যু হয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গের মানুষ এবং তৃণমূলে থাকা ভাল বন্ধুদের জন্য আমার খারাপ লাগছে।’

Advertisement

চলতি বছরের শুরুতে আরএন রবি তামিলনাড়ু বিধানসভায় জাতীয় সঙ্গীত নিয়ে বিতর্কের জন্ম দেন। সরকারের লিখে দেওয়া ভাষণ না পড়ে অধিবেশন কক্ষ ছাড়েন তিনি, যা রাজ্য সরকারের সঙ্গে সাংবিধানিক বিতর্কের সূত্রপাত করে। ডিএমকে-র পি উইলসন জানিয়েছেন, তামিলনাড়ুতে রবির কার্যক্রমে বিজেপির মনোভাব প্রতিফলিত হতো। তিনি বলেন, ‘এই ভেবে খারাপ লাগছে যে, আসন্ন নির্বাচনে ডিএমকে এক জন তারকা প্রচারককে হারাল।’ 
 
পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল পদ থেকে আনন্দ বোসের ইস্তফা ও রবিকে সেই পদে নিয়োগ নিয়ে ইতিমধ্যেই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোটের আগে কেন্দ্রের এই এক তরফা পদক্ষেপের নেপথ্যে রাজনৈতিক অভিসন্ধী থাকতে পারে বলেও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন তিনি। 
 
সূত্রের খবর, রীতি মেনেই বিরোধের জায়গায় না গিয়ে বিধানসভায় রাজ্য সরকারের লেখা ভাষণ পাঠ করেছিলেন সিভি আনন্দ বোস। তামিলনাড়ু বিধানসভায় যেমনভাবে রাজ্যপালের মাধ্যমে বিজেপির ইচ্ছে-অনিচ্ছে পরিচালিত হয়েছে, এখানে তা হয়নি। আর সেই কারণেই কেন্দ্রের বিরাগভাজন হন তিনি।
 
রবি ১৯৭৬ ব্যাচের আইপিএস অফিসার। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এবং আইবি-তে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন। কাশ্মীর, উত্তর-পূর্ব ভারত ও মাওবাদী প্রভাবিত এলাকায় বিদ্রোহ দমন, নাগা শান্তি প্রক্রিয়া এবং গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা অপারেশনে তাঁর ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ।
 
তামিলনাড়ুতে রাজ্যপাল হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর গত কয়েক বছরে মুখ্যমন্ত্রী এমকে স্ট্যালিন নেতৃত্বাধীন সরকারের সঙ্গে একাধিকবার সংঘাতে জড়িয়েছেন রবি। সরকারি ভাষণ না পড়া, বিধানসভায় বিল আটকে রাখার মতো নজির রয়েছে। 
তামিলনাড়ু বিধানসভায় পাস হওয়া একাধিক বিলে অনুমোদন না দিয়ে ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২২ সালের মে পর্যন্ত প্রায় ২১টি বিল তিনি ঝুলিয়ে রাখেন। এছাড়াও শিক্ষা নীতি নিয়ে মতবিরোধ, ‘তামিলনাড়ু’ না ‘তামিঝাগম’ মন্তব্য—এসব কারণে স্থানীয় রাজনীতিতে বিতর্ক তৈরি হয়।
 
২০২৩ সাল থেকে স্ট্যালিন সরকার রাজভবনের ঐতিহ্যবাহী স্বাধীনতা দিবস চা-চক্র বয়কট করছে, যেখানে রাজ্যপাল অংশ নিতেন। এর আগে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছে তামিলনাড়ু সরকার রবিকে বরখাস্ত করার দাবি জানিয়েছিল।
 
তবে এ টুকু স্পষ্ট যে আনন্দ বোসের বিদায়ে এবং রবির আগমনে বিজেপি শিবির খুশি। বিশেষ করে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ করে এসেছেন যে, বোস জমানায় লোকভবন ‘জীবাষ্মে’ পরিণত হয়েছে। অনেক দিন ধরেই তিনি আনন্দ বোসকে অপসারণের জন্য দরবার করছিলেন দিল্লিতে। পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল পদে রবির আগমনকে স্বাগত জানিয়েছেন বিরোধী নেতা শুভেন্দু অধিকারী। কেন্দ্রীয় বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ভোটের আগে এই পদক্ষেপ কৌশলগত এবং রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ। 

Advertisement

Advertisement