রাজধানী দিল্লিতে ইউনাইটেড নিউজ অফ ইন্ডিয়া (ইউএনআই)-র দপ্তর সিল করে দেওয়া এবং সাংবাদিকদের হেনস্থার অভিযোগ ঘিরে দেশজুড়ে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। সাংবাদিক সংগঠন থেকে শুরু করে রাজনৈতিক মহল—সব মহলেই এই ঘটনাকে ‘গণতন্ত্রের উপর সরাসরি আক্রমণ’ বলে আখ্যা দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ, সংসদ ভবনের কাছেই অবস্থিত ইউএনআই-র রফি মার্গের দপ্তরে আচমকাই দিল্লি পুলিশ এবং আধাসামরিক বাহিনীর বিশাল বাহিনী পৌঁছে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, প্রায় ৩০০ জনেরও বেশি পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মী দপ্তরে প্রবেশ করে কর্মীদের দ্রুত নিউজরুম খালি করার নির্দেশ দেয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যখন বেশ কয়েকজন সাংবাদিক, বিশেষ করে মহিলা কর্মীদের সঙ্গে ধস্তাধস্তির অভিযোগ ওঠে। পরে দপ্তরটি সিল করে দেওয়া হয়।
Advertisement
এই ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে দেশের একাধিক সাংবাদিক সংগঠন। প্রেস ক্লাব অফ ইন্ডিয়া, ইন্ডিয়ান ওমেন প্রেস কর্প, দিল্লি ইউনিয়ন অফ জার্নালিস্টস-সহ বিভিন্ন সংগঠন যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘এই ধরনের পদক্ষেপ শুধু একটি সংবাদ সংস্থার বিরুদ্ধে নয়, গোটা সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার উপর গুরুতর আঘাত।’ তারা আরও অভিযোগ করেছে, যথাযথ প্রক্রিয়া না মেনেই পুলিশি শক্তি প্রয়োগ করা হয়েছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
Advertisement
এডিটরস গিল্ড অফ ইন্ডিয়া-ও এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে বলেছে, আদালতের নির্দেশ কার্যকর করার ক্ষেত্রে ‘অতিরিক্ত শক্তি’ এবং ‘অযথা তাড়াহুড়ো’ দেখানো হয়েছে। গিল্ডের মতে, আদালতের নির্দেশ ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এত বড় পুলিশি অভিযান চালানো এবং দপ্তর সিল করা গণমাধ্যমের জন্য একটি ‘ভয়ঙ্কর বার্তা’ বহন করে।
একই সুর শোনা গিয়েছে মুম্বাই প্রেস ক্লাব-এর বক্তব্যেও। তারা জানিয়েছে, এই ঘটনা সাংবাদিকদের নিরাপত্তা এবং মর্যাদাকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। পাশাপাশি দ্রুত, স্বচ্ছ এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।
রাজনৈতিক মহলেও এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র চাপানউতোর শুরু হয়েছে। কংগ্রেস, আপ এবং বাম দলগুলি পুলিশি হস্তক্ষেপের কড়া সমালোচনা করে বলেছে, এটি সংবাদমাধ্যমকে ভয় দেখানোর একটি চেষ্টা। কংগ্রেস নেতা রণদীপ সিং সুরজেওয়ালা তীব্র ভাষায় আক্রমণ শানিয়ে বলেন, ‘গণমাধ্যমের সঙ্গে এই ধরনের আচরণ প্রমাণ করে দেশে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ক্রমশ সংকুচিত হচ্ছে।’
এদিকে সাংবাদিক সংগঠনগুলির তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবে। একই সঙ্গে ইউএনআই-র দপ্তর অবিলম্বে পুনরায় খুলে দেওয়া এবং ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, দেশের অন্যতম প্রাচীন সংবাদ সংস্থা ইউএনআই বহু দশক ধরে দিল্লির এই দপ্তর থেকেই সংবাদ পরিবেশন করে আসছে। হঠাৎ এই ধরনের পদক্ষেপের ফলে শুধু সংস্থার ভবিষ্যৎ নয়, শত শত সাংবাদিকের পেশাগত নিরাপত্তা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশের সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক পরিকাঠামো নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
Advertisement



