• facebook
  • twitter
Sunday, 11 January, 2026

বিদেশি বিবৃতি নয়, দেশের উপর আস্থা রাখুন: পীযূষ গয়াল

ভারত–মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি বিতর্ক

প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র

বিদেশি রাষ্ট্রের বিবৃতিতে নয়, বরং দেশের উপর আস্থা রাখতে বললেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পীযূষ গয়াল। এর আগে আমেরিকা দাবি করে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁদের প্রেসিডেন্ট জোনাল্ড ট্রাম্পকে ফোন না করায় ভারত-মার্কিন বাণিজ্যচুক্তি ভেস্তে গিয়েছে। সেই দাবি অস্বীকার করে ভারতীয় বিদেশমন্ত্রক। রবিবার ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযুষও একই কথা বললেন।

রবিবার মুম্বইয়ে একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নে পীযূষ বলেন, ‘নিজের দেশকে বিশ্বাস করুন, মাতৃভূমির উপর আস্থা রাখুন, বিদেশি রাষ্ট্রের দেওয়া বিবৃতিতে নয়।’ তিনি এ-ও জানান, দুই দেশের বাণিজ্যচুক্তির ‘জটিলতা’ নিয়ে বন্ধ দরজার আড়ালে কথা হবে। সংবাদমাধ্যমের সামনে প্রকাশ্যে নয়।

Advertisement

আমেরিকার বাণিজ্যসচিব, তথা ট্রাম্প-ঘনিষ্ঠ আধিকারিক হাওয়ার্ড লুটনিক দাবি বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তিটা প্রায় হয়েই গিয়েছিল। কিন্তু একটা বিষয় স্পষ্ট, এটা ট্রাম্পের চুক্তি ছিল। কেবল প্রেসিডেন্টকে একটা ফোন করতেন মোদী। কিন্তু মোদী এটা করতে স্বচ্ছন্দবোধ করেননি। মোদী ফোন করেননি।’ লুটনিক এ-ও জানান যে, তাঁরা ভেবেছিলেন ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপিন্স, ভিয়েতনামের আগেই ভারতের সঙ্গে চুক্তি সেরে ফেলা যাবে। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি।

Advertisement

দিল্লি আমেরিকার এই দাবি উড়িয়ে দেয়। ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানান, বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি সঠিক নয়। লুটনিকের দাবি সংক্রান্ত প্রশ্নে রণধীর বলেন, ‘আমরা মন্তব্যগুলি দেখেছি। ভারত এবং আমেরিকা গত বছরের ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে আলোচনা চালাচ্ছিল। একটি ভারসাম্যপূর্ণ বাণিজ্যচুক্তি বাস্তবায়িত করার জন্য বেশ কয়েক বার আলোচনা করেছে। আমরা এই চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার কাছাকাছি পৌঁছেছিলাম। তার পরেও এ ধরনের মন্তব্য করা হয়েছে, যা একদমই ঠিক নয়।’

এ বার একই কথা শোনা গেল দেশের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষের গলায়। ট্রাম্প দ্বিতীয় বার আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর প্রথম যে দেশগুলি তাদের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি করতে আগ্রহ দেখিয়েছিল, ভারত তাদের মধ্যে অন্যতম। গত বছর দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে এই বিষয়ে দফায় দফায় আলোচনা হলেও চুক্তি ফলপ্রসূ হয়নি। উল্টে রাশিয়া থেকে তেল আমদানি অব্যাহত রাখার জন্য ভারতের অধিকাংশ পণ্যের উপর ২৫ শতাংশ (মোট ৫০ শতাংশ) শুল্ক আরোপ করে রেখেছে আমেরিকা। চুক্তির অন্যতম শর্ত হিসাবে এই শুল্ক প্রত্যাহারের কথাও বলা হবে বলে জানিয়েছিল দিল্লি। তবে সেই চুক্তি চূড়ান্ত হয়নি।

Advertisement