দেশে ইথানল মিশ্রিত জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে বড় পদক্ষেপ নিল কেন্দ্রীয় সরকার। অর্থ মন্ত্রকের নতুন বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২২ থেকে ৩০ শতাংশ ইথানল মিশ্রিত পেট্রল অর্থাৎ ই-২২, ই-২৫, ই-২৭ এবং ই-৩০ এবার থেকে আবগারি শুল্কের আওতার বাইরে থাকবে। সরকারের লক্ষ্য, পেট্রলের উপর নির্ভরতা কমিয়ে ধীরে ধীরে বিকল্প ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো। ১০ জুন, গভীর রাতে ইথানলযুক্ত পেট্রলের উপর কেন্দ্র আবগারি শুল্ক থেকে অব্যাহতি দিয়েছে। দেশজুড়ে ৪৮টি সরকারি জ্বালানি স্টেশনের মাধ্যমে এই কাজ শুরু হয়েছে।
বর্তমানে দেশে সাধারণত ই-২০ পেট্রল ব্যবহারের উপরে জোর দেওয়া হচ্ছে। তার থেকেও বেশি ইথানলযুক্ত জ্বালানিকে উৎসাহ দিতে এই করছাড়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। সম্প্রতি ইথানলের মাত্রা আরও বাড়িয়ে ই-৮৫ অর্থাৎ ৮৫ শতাংশ ইথানল মিশ্রিত জ্বালানি চালু করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় পেট্রলিয়ম মন্ত্রী হরদীপ সিংহ পুরী নিজে দিল্লির একটি পাম্প থেকে ই-৮৫ জ্বালানির সূচনা করেন।
ইথানল মূলত আখ, ভুট্টা এবং অন্যান্য কৃষিজাত পণ্য থেকে তৈরি হয়। ফলে এর ব্যবহার বাড়লে একদিকে যেমন অপরিশোধিত তেল আমদানির খরচ কমতে পারে, অন্যদিকে কৃষকরাও লাভবান হতে পারেন।
উচ্চ ইথানলযুক্ত পেট্রল থেকে আবগারি শুল্ক তুলে নেওয়ার ফলে আগামী দিনে সাধারণ মানুষ উপকৃত হতে পারেন। এখনই পেট্রলের দামে বড় কোনও পরিবর্তন দেখা না গেলেও ভবিষ্যতে উচ্চ ইথানলযুক্ত জ্বালানি বাজারে আরও সহজলভ্য হতে পারে। উৎপাদন ও সরবরাহ বাড়লে জ্বালানির খরচ কিছুটা কমার সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি ইথানল মিশ্রিত জ্বালানি তুলনামূলকভাবে কম দূষণ তৈরি করে, ফলে পরিবেশের উপর চাপও কমবে।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, সব গাড়ি এখনও উচ্চ ইথানলযুক্ত জ্বালানি ব্যবহারের উপযোগী নয়। তাই এই ধরনের জ্বালানির ব্যাপক ব্যবহার শুরু হওয়ার আগে গাড়ি নির্মাতাদেরও প্রযুক্তিগত পরিবর্তন করতে হবে।
পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের আবহে বন্ধ হরমুজ প্রণালী। তার জেরে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সঙ্কটের সৃষ্টি হয়েছে। দাম বাড়ছে পেট্রল-ডিজেলের। গত ১৫ মে থেকে ২৫ মে-র মধ্যে চার দফায় বেড়েছে জ্বালানির দাম। এই পরিস্থিতিতে ইথানলযুক্ত জ্বালানি ব্যবহারে মানুষকে উৎসাহিত করতে ২২-৩০ শতাংশ ইথানলযুক্ত পেট্রল আবগারি শুল্কমুক্ত করল কেন্দ্র।




