উন্নাওয়ে ধর্ষণ মামলায় দোষী সাব্যস্ত কুলদীপ সিং সেঙ্গারের জামিনে স্থগিতাদেশ দিল শীর্ষ আদালত। জেলমুক্তি হচ্ছে না বিজেপি থেকে বহিষ্কৃত বিজেপি নেতা কুলদীপের। গত মঙ্গলবার দিল্লি হাইকোর্ট তাঁর জামিন মঞ্জুর করেছিল। এর পর জামিনের বিরোধিতা করে সুপ্রিম কোর্টে যায় সিবিআই।
সোমবার জামিন সংক্রান্ত মামলাটির শুনানি হয় সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, ‘দোষী সাব্যস্ত হওয়া ব্যক্তি আর এক অপরাধে দোষী সাব্যস্ত। এই বিষয়টি মাথায় রেখে আমরা দিল্লি হাইকোর্টের গত ২৩ ডিসেম্বরের নির্দেশে স্থগিতাদেশ দিচ্ছি।‘ কুলদীপ জেল থেকে ছাড়া পাবেন না বলেও জানিয়েছেন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত।
Advertisement
এই মামলায় সিবিআইয়ের পক্ষে সওয়াল করেন কেন্দ্রের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা। শুনানিতে তিনি গোটা ঘটনাকে ‘ভয়াবহ’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। কুলদীপের জামিনের বিরোধিতা করে তুষার আদালতে বলেছেন, ‘নির্যাতিতার কাছে আমাদের জবাবদিহি করতে হয়।‘ দিল্লি হাইকোর্ট রায়ে বলেছিল, আইন অনুযায়ী কুলদীপ সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাবাসের সাজা কাটিয়ে ফেলেছেন। এই যুক্তিরও বিরোধিতা করেছে সিবিআই। তুষার বলেন, ‘কুলদীপ সেঙ্গার যে অপরাধ করেছেন, তাতে তার সর্বনিম্ন সাজাও ২০ বছরের হওয়া উচিত।‘
Advertisement
সব শুনে সোমবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত স্পষ্টভাবে জানান, ‘উন্নাওয়ে নাবালিকা ধর্ষণ মামলায় দুই পক্ষের মতামত শোনা হয়েছে। সাধারণত কোনও অভিযুক্ত বা দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তি জেল থেকে বেরিয়ে গেলে তার জামিন বাতিল করে না আদালত। এক্ষেত্রে পরিস্থিতি অনেকটাই আলাদা। এই ক্ষেত্রে মুক্তি পাওয়া ব্যক্তি অন্য এক অভিযোগেও দোষী সাব্যস্ত হয়েছে।
সেকথা মাথায় রেখেই ২৩ ডিসেম্বর দিল্লি হাই কোর্ট যে রায় দিয়েছিল সেটা স্থগিত করা হচ্ছে। অর্থাৎ কুলদীপ সিং সেঙ্গারকে এখনই মুক্তি দেওয়া হবে না।‘ আগামী জানুয়ারি মাসে এই মামলার পরবর্তী শুনানি। সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পরেই নির্যাতিতার আইনজীবী বলেন, ‘আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, কোনও অবস্থাতেই অভিযুক্ত ছাড়া পেতে পারেন না।‘
২০১৭ সালে উন্নাওয়ে নাবালিকাকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে। বাঙ্গেরমউ কেন্দ্রের চার বারের বিজেপি বিধায়ক কুলদীপ এবং তাঁর সঙ্গী শশীর বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ আনেন ওই নাবালিকা। বিজেপি নেতা বর্তমানে দল থেকে বহিষ্কৃত। সেই মামলায় ২০১৮ সালের ১৩ এপ্রিল গ্রেপ্তার হন কুলদীপ। পুলিশের চার্জশিটের ভিত্তিতে পকসো আইনের ১২০বি (ষড়যন্ত্র), ৩৬৩ (অপহরণ) ৩৬৬ (অপহরণ ও বিবাহের জন্য বাধ্য করা) ৩৭৬ (ধর্ষণ)-সহ একাধিক ধারায় চার্জ গঠন করে আদালত।
সেই মামলায় কুলদীপকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাবাসের সাজা দেওয়া হয়। নিম্ন আদালতের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে দিল্লি হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন কুলদীপ। সেই মামলায় গত মঙ্গলবার বিজেপির বহিষ্কৃত নেতার জামিন মঞ্জুর করেছিল আদালত। হাই কোর্ট ১৫ লক্ষ টাকা ব্যক্তিগত বন্ডে কুলদীপের সাজা মকুব করে। জামিনের ওই নির্দেশের বিরোধিতা করে সুপ্রিম কোর্টে যায় উন্নাওকাণ্ডের তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই।
সোমবার সুপ্রিম কোর্টে প্রাক্তন বিজেপি বিধায়ক কুলদীপের জামিন খারিজ হওয়ার পরেই মুখ খুলেছেন উন্নাওয়ের নির্যাতিতা। সংবাদ মাধ্যমকে নির্যাতিতা বলেছেন, ‘আমি বিচার পাব। সুপ্রিম কোর্টের উপর সেই আস্থা রয়েছে। আমার লড়াই জারি থাকবে। যতক্ষণ না ওর ফাঁসি হচ্ছে, ততক্ষণ এই লড়াই চালিয়ে যাব। ওর মৃত্যুদণ্ড হলে তবেই আমি বিচার পাব। আমার বাবা বিচার পাবেন।‘
সুপ্রিম কোর্টকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন নির্যাতিতার মা-ও। তিনি বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্ট আমাদের কথা শুনল। এর জন্য আমরা কৃতজ্ঞ।‘ পাশাপাশি দিল্লি হাইকোর্টের এক বিচারপতির উদ্দেশেও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নির্যাতিতা। সিবিআইয়ের এক তদন্তকারী আধিকারিকের সঙ্গে কুলদীপের ‘ঘনিষ্ঠতা’ রয়েছে বলে দাবি করেছেন নির্যাতিতা।
দিল্লি হাইকোর্টের রায়ের পর সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন নির্যাতিতা ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা। বুধবার সন্ধ্যায় দশ জনপথে গিয়ে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী ও সোনিয়া গান্ধীর কাছে সাহায্য চান তাঁরা। এরপরই সিবিআই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়।
Advertisement



