• facebook
  • twitter
Friday, 6 March, 2026

সর্বসম্মতিতে সম্পদের পরিমাণ প্রকাশ্যে ঘোষণার সিদ্ধান্ত সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের  বিচারব্যবস্থার স্বচ্ছতা এবং জনগণের আস্থা বজায় রাখতে সহমত বিচারপতিরা

২০০৫ সালে তথ্য জানার অধিকার আইনের আওতায় একজন ব্যক্তি প্রধান বিচারপতির অফিসের কাছে বিচারকদের সম্পত্তির তথ্য জানতে চান।

প্রতীকী চিত্র

দেশের শীর্ষ আদালতের বিচারপতিরা সর্বসম্মতভাবে তাঁদের সম্পত্তির পরিমাণ প্রকাশ্যে ঘোষণা করতে সম্মত হয়েছেন। বিচারব্যবস্থার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং জনগণের আস্থা প্রতি দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে এই বিষয়ে সহমত হয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা। ১ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্টের সব বিচারপতিকে নিয়ে একটি ফুল কোর্ট বৈঠকে এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতি যশবন্ত বর্মার সরকারি বাসভবন থেকে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ উদ্ধারের ঘটনার পর বিচারপতিদের সম্পত্তি ঘোষণার দাবি জোরালো হয়। আইনজীবী মহল, সুশীল সমাজ ছাড়াও সমাজের বিভিন্ন মহল থেকে বিচারকদের আর্থিক স্বচ্ছতা প্রকাশ করার আহ্বান জানানো হয়েছিল। সেই মতো বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা সর্বসম্মতভাবে প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্নার কাছে তাঁদের সম্পত্তির তথ্য ঘোষণা করতে সম্মত হয়েছেন।

‘লাইভ ল’ সূত্রে খবর, ওই বৈঠকে নিজেদের সম্পত্তির হিসাব সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে আপলোড করা যাবে, এই মর্মে একটি ঘোষণাপত্রও দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন বিচারপতিরা। বিচারপতিদের ঘোষিত সম্পদের তথ্য সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে আপলোড করা হবে। ফলে এরপর থেকে একটা ক্লিকেই জানা যাবে সুপ্রিম কোর্টের কোন বিচারপতি কত সম্পত্তির মালিক।

Advertisement

বিচারকদের সম্পত্তি প্রকাশের বৈঠকে গৃহীত প্রস্তাব অনুযায়ী, ভারতের প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্নার কাছে সুপ্রিম কোর্টের সব বিচারপতি তাঁদের সম্পদের পরিমাণ ঘোষণা করবেন। পরবর্তী সময়ে সেই তথ্য শীর্ষ আদালতের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হতে পারে। তবে এই সমস্ত তথ্য সরাসরি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে কি না, সে বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

Advertisement

আইনজীবী ও বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, ভারতের নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রতিটি প্রার্থীকে হলফনামার মাধ্যমে সম্পত্তির পরিমাণ জানাতে হয় এবং সেই সব তথ্য জনগণের জন্য উন্মুক্ত থাকে। বিচারপতিদের সম্পত্তি সংক্রান্ত তথ্যও যদি একইভাবে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়, তবে বিচারব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা বাড়বে।

গত ১৪ মার্চ দোলের রাতে আগুন লেগে যায় বিচারপতি বর্মার বাসভবন চত্ত্বরে অবস্থিত একটি ঘরে। সেখান থেকে আধপোড়া বান্ডিল বান্ডিল নগদ অর্থ পান দমকল কর্মীরা। খবর দেওয়া হয় পুলিশে। সুপ্রিম কোর্ট এই ঘটনায় অভ্যন্তরীণ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। বিচারপতি বর্মাকে বদলি করা হয়েছে এলাহাবাদ হাইকোর্টে।

তবে বিচারপতিদের সম্পত্তির বিষয়ে তথ্য প্রকাশের বিষয়টি নতুন নয়। ১৯৯৭ সালে সুপ্রিম কোর্টের কলেজিয়াম প্রথমবার বিচারকদের সম্পত্তি ঘোষণার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। তবে সেই সময় বলা হয়েছিল, এই তথ্য কেবলমাত্র শীর্ষ বিচারপতির কাছেই গোপন রাখা হবে এবং এটি সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাসম্মত। কেউ যদি এই তথ্য জমা না দেন, তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে কোনও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না।

২০০৫ সালে তথ্য জানার অধিকার আইনের আওতায় একজন ব্যক্তি প্রধান বিচারপতির অফিসের কাছে বিচারকদের সম্পত্তির তথ্য জানতে চান। এই বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট নিজেই মামলা করে, যা পরবর্তীতে দিল্লি হাইকোর্ট পর্যন্ত গড়ায়।

২০০৯ সালে দিল্লি হাইকোর্ট সুপ্রিম কোর্টের বিরুদ্ধে রায় দেয়, এবং জানায় যে বিচারকদের সম্পত্তির তথ্য প্রকাশযোগ্য। পরে সুপ্রিম কোর্ট এই মামলায় হেরে যায় এবং ২০১৯ সালে চূড়ান্ত রায়ে জানানো হয় যে বিচারপতিদের সম্পত্তির তথ্য জানার অধিকার জনগণের রয়েছে। তবে সেই ঘোষণার বিষয়টি স্বেচ্ছাসম্মত হওয়ায় অনেক বিচারপতি সেই তথ্য প্রকাশ করেননি। এবার বিচারপতি বর্মার বাসভবন থেকে পাওয়া ‘নগদ’ বিতর্কের আবহে বিচার ব্যবস্থার প্রতি জনতার ভরসা বজায় রাখতে পদক্ষেপ করল সুপ্রিম কোর্ট। ‘লাইভ ল’ অনুসারে, সুপ্রিম কোর্টের সব বিচারপতি ইতিমধ্যে নিজেদের সম্পত্তির হিসাব জমা দিয়েছেন। তবে সেটি এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। ওই সম্পত্তির হিসাব প্রকাশ্যে আনার নির্দিষ্ট পদ্ধতি যথাসময়ে করা হবে বলে জানা গিয়েছে।

Advertisement