• facebook
  • twitter
Saturday, 3 January, 2026

চপার মামলায় মিশেলকে জামিন শীর্ষ আদালতের

৩ হাজার ৬০০ কোটি টাকার অগস্টা-ওয়েস্টল্যান্ড আর্থিক জালিয়াতি মামলায় গত বছরের ৬ ডিসেম্বর সিবিআই-এর জবাব চেয়ে নোটিস দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট।

ফাইল চিত্র

অগস্টা-ওয়েস্টল্যান্ড হেলিকপ্টার কেনা নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল কংগ্রেস আমলে। সেই মামলায় জামিন পেলেন অন্যতম অভিযুক্ত ব্রিটিশ নাগরিক খ্রিশ্চিয়ান মিশেল জেমস। মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি বিক্রম নাথ এবং বিচারপতি সন্দীপ মেহতার বেঞ্চ এই নির্দেশ দিয়েছে। বিচারপতিরা পর্যবেক্ষণে জানিয়েছেন, মিশেল গত ৬ বছর ধরে জেলে রয়েছেন। এই বিষয়ে এখনও তদন্ত চলছে। তাই জেল হেফাজত দীর্ঘায়িত করার প্রয়োজন নেই। তবে সুপ্রিম কোর্টে সিবিআই মামলায় জামিন পেলেও এখনই জেল থেকে ছাড়া পাচ্ছেন না অভিযুক্ত ব্রিটিশ নাগরিক। তাঁর বিরুদ্ধে একটি আর্থিক প্রতারণার মামলা চলছে দিল্লি হাইকোর্টে।

৩ হাজার ৬০০ কোটি টাকার অগস্টা-ওয়েস্টল্যান্ড আর্থিক জালিয়াতি মামলায় গত বছরের ৬ ডিসেম্বর সিবিআই-এর জবাব চেয়ে নোটিস দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। বেঞ্চ এদিন জানায়, ‘আবেদনকারীকে ২০১৮ সালে ভারতে প্রত্যর্পণ করা হয়েছিল। এরপর তিনি ৬ বছর ধরে জেলে ছিলেন। সিবিআই দুটি চার্জশিট এবং একটি সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট পেশ করেছে। এখনও তদন্ত চলছে। এই পরিস্থিতিতে আমরা তাঁকে জামিন দিতে ইচ্ছুক। তাঁর উপর কী কী শর্ত আরোপ করা হবে, তার জন্য সিবিআইকে ট্রায়াল কোর্টে আবেদন করতে হবে।’

Advertisement

অগস্টা ঘুষকাণ্ডে অন্যতম অভিযুক্ত মিশেলকে ২০১৮ সালে দুবাই থেকে ভারতে প্রত্যর্পণ করা হয়েছিল। সে সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সরাসরি কংগ্রেস তথা গান্ধী পরিবারের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগের অভিযোগ তুলেছিলেন। রাফাল যুদ্ধবিমান চুক্তির ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পরে বলেছিলেন, ‘মিশেল মামার জন্যই কি রাফালে আপত্তি কংগ্রেসের?’

Advertisement

প্রসঙ্গত, ভিভিআইপিদের জন্য হেলিকপ্টার কিনতে ২০১০ সালে অগস্টা-ওয়েস্টল্যান্ডের সঙ্গে চুক্তি করে তৎকালীন ইউপিএ সরকার। ৩ হাজার ৬০০ কোটি টাকার ওই চুক্তিতে ১২টি হেলিকপ্টার কেনার কথা হয়েছিল। কিন্তু ২০১৩-য় অভিযোগ ওঠে, চুক্তিতে ঘুষের লেনদেন হয়েছে। নাম জড়িয়ে পড়ে তৎকালীন বায়ুসেনা প্রধান এস পি ত্যাগীর। সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেন তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী এ কে অ্যান্টনি। বিতর্কের চাপে চপার চুক্তি বাতিল করে মনমোহন সরকার। সিবিআই গ্রেপ্তার করে ত্যাগীকে। তদন্তে উঠে আসা তিন মধ্যস্থতাকারীর মধ্যে মিশেল এক জন। এই দুর্নীতিতে আরও ২ অভিযুক্ত গুডিয়ো হাশকে এবং কার্লো জেরোসা।

গত বছরের ২৫ সেপ্টেম্বর দিল্লি হাইকোর্ট জেমসের জামিনের আবেদন খারিজ করে দেয়। এরপর সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন অভিযুক্ত ব্রিটিশ নাগরিক। আদালত সিবিআইকে এই তদন্ত এবং বিচার প্রক্রিয়ায় দেরি হওয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলে। সুপ্রিম কোর্ট আরও জানায় যে, সিবিআই যদি এই গতিতে তদন্ত চালিয়ে যেতে থাকে, তাহলে আগামী ২৫ বছরেও বিচার শেষ হবে না। অভিযুক্ত জেমসের পক্ষে আইনজীবী আলজো কে জোসেফ এবং আইনজীবী বিষ্ণু শঙ্কর আদালতে তাঁদের মক্কেলের ৬ বছর কারাবাসের বিষয়টি উত্থাপন করেন।

Advertisement