অত্যাধুনিক পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান কেনা নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। গত বছর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ভারতের কাছে ‘এফ–৩৫ লাইটনিং–২’ যুদ্ধবিমান বিক্রির প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে ভারত সেই প্রস্তাব কার্যত সরিয়ে দিয়ে দীর্ঘদিনের সামরিক সহযোগী রাশিয়ার তৈরি ‘সুখোই এসইউ–৫৭’ যুদ্ধবিমানের উপরেই ভরসা রাখতে চলেছে বলে প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের সূত্রে জানা গিয়েছে।
চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে তেলঙ্গানার হায়দরাবাদে আয়োজিত ‘উইংস ইন্ডিয়া প্রদর্শনী’তে রুশ সরকারি সংস্থা ইউনাইটেড এয়ারক্রাফ্ট কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে ভারতীয় বায়ুসেনাকে পঞ্চম প্রজন্মের স্টেলথ যুদ্ধবিমান প্রযুক্তি দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে দাবি। শুধু বিমান বিক্রি নয়, ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ কর্মসূচির আওতায় এই বিমানে ব্যবহৃত ‘ইজডেলিয়ে–৩০’ ইঞ্জিনের যৌথ উৎপাদনের কথাও জানিয়েছে রাশিয়া।
Advertisement
এর আগে বেঙ্গালুরুর ইয়ালেহাঙ্কা বায়ুসেনাঘাঁটিতে আয়োজিত ‘অ্যারো ইন্ডিয়া’ প্রদর্শনীতে একসঙ্গে যুদ্ধকৌশল দেখিয়েছিল মার্কিন ‘এফ–৩৫’ এবং রুশ ‘এসইউ–৫৭’। সেই সময় থেকেই জল্পনা শুরু হয়, যুক্তরাষ্ট্র বা রাশিয়ার মধ্যে কোনও একটি দেশের কাছ থেকে পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান কিনতে পারে ভারত।
Advertisement
ফ্রান্সের তৈরি ৪.৫ প্রজন্মের রাফাল যুদ্ধবিমান কেনার পর গত কয়েক মাস ধরেই পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান সংগ্রহে সক্রিয় হয়েছে ভারতীয় বায়ুসেনা। সেই পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটন দিল্লিকে ‘এফ–৩৫’ বিক্রির প্রস্তাব দিলেও প্রযুক্তি হস্তান্তরে রাজি হয়নি মার্কিন প্রশাসন। এর পরেই রাশিয়া ভারতের কাছে ‘এসইউ–৫৭’-এর রপ্তানি সংস্করণের যৌথ উৎপাদনের প্রস্তাব দেয়। পাশাপাশি এই যুদ্ধবিমানের গুরুত্বপূর্ণ ‘সোর্স কোড’ দেওয়ার বিষয়েও মস্কো সম্মত হয়েছে বলে সূত্রের দাবি।
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, অতীতে ভারতীয় বায়ুসেনা মিগ–২১, মিগ–২৭, মিগ–২৯ এবং সুখোই–৩০ সহ একাধিক রুশ যুদ্ধবিমান ব্যবহার করেছে। ফলে নতুন যুদ্ধবিমান হিসেবে রুশ প্রযুক্তির প্রতি ঝোঁক থাকাটাই স্বাভাবিক। এছাড়া ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ ও ‘আত্মনির্ভর ভারত’ কর্মসূচির মাধ্যমে দেশের মাটিতেই উন্নত সামরিক সরঞ্জাম তৈরির উপর জোর দিয়েছে কেন্দ্র। সেই কারণেই বিদেশ থেকে অস্ত্র কেনার ক্ষেত্রে প্রযুক্তি হস্তান্তরকে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হিসেবে ধরা হচ্ছে।
প্রতিরক্ষা মহলের মতে, যুদ্ধবিমানের সমস্ত কার্যকারিতা অনেকটাই নির্ভর করে তার সোর্স কোডের উপর। এটি অত্যন্ত সংবেদনশীল তথ্য। ফ্রান্স রাফাল যুদ্ধবিমানের সোর্স কোড ভারতকে দেয়নি। ফলে সেই বিমানে রুশ নির্মিত ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্র বসানো সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে, সুখোই–৩০ যুদ্ধবিমানে সেই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা সম্ভব হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসইউ–৫৭-এর সোর্স কোড পাওয়া গেলে ভবিষ্যতে বিভিন্ন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র সহজেই এই বিমানে সংযোজন করা যাবে।
Advertisement



