আইএফএ-র সভাপতি অজিত ব্যানার্জি খুব সম্ভবত চলতি মাসে কোনও একটা বিশেষ দিনে পদ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন বলে বিশ্বস্ত সূত্রে খবর। ইতিমধ্যেই মহামান্য সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দিয়েছে, স্পোর্টস কোড মেনে বিভিন্ন রাজ্যের সংস্থাগুলিকে কাজ করতে হবে। সেই অনুসারে সারা ভারত ফুটবল ফেডারেশন থেকে শুরু করে ইন্ডিয়ান অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন এবং অন্যান্য কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলি স্পোর্টস কোড নিয়মানুসারে কাজ করা প্রায় শুরু করে দিয়েছে। তবে, আগামী ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত বর্তমান কর্মকর্তারা তাঁদের পদে থাকতে পারবেন। কিন্তু তার আগেই সমস্ত সংস্থার বার্ষিক সাধারণ সভা অবশ্যই করে নিতে হবে। সেই পরিপ্রেক্ষিতে বাংলার বিভিন্ন ক্রীড়া সংস্থা এই বিষয়ে সবাইকে জানান দিয়েছে। আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই রাজ্য সাঁতার সংস্থা তাদের সাধারণ সভায় কর্মকর্তা নির্বাচন সেরে ফেলা হবে বলে প্রয়াস নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, রাজ্য অ্যাথলেটিকস সংস্থাও চেষ্টা করেছে তাদের সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত করে ফেলবে। এই কথা জানার পরে রাজ্য অ্যাথলেটিকস সংস্থার ব্যাপারে বিশেষ হস্তক্ষেপ নিয়েছেন রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ। এ বাদেও রাজ্য জুডো সংস্থা থেকে শুরু করে বেঙ্গল অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনে তোড়জোড় চলছে কীভাবে স্পোর্টস কোড এখনই চালু করা যায়। আসলে ওই স্পোর্টস কোডে বলা হয়েছে, কোনওভাবেই কোনও কর্মকর্তা যদি তিনটি টার্মে কোনও পদে থেকে গিয়েছেন, তিনি কোনওভাবেই আর থাকতে পারবেন না। আবার ৭০ বছর বয়স হয়ে গেলে কোনও কর্মকর্তা নতুন করে পদে আসতে পারবেন না। শুধু তাই নয়, বলা হয়েছে সভাপতি, সচিব ও কোষাধ্যক্ষ থেকে শুরু করে পদাধিকারীদের কোনও আত্মীয় পরিজনদের কার্যকরী সমিতিতে জায়গা দেওয়া চলবে না। তাই অনেক ক্ষেত্রেই বিরাট পরিবর্তন আসবে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।
বিশেষ করে বয়সের ধাক্কায় আইএফএ-র সভাপতি অজিত ব্যানার্জির পাশে সহসভাপতি দিলীপ নারায়ণ সাহা, কোষাধ্যক্ষ সুফল গিরি এবং চেয়ারম্যান সুব্রত দত্তর জায়গা হবে না। আবার বেঙ্গল অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি রামানুজ মুখোপাধ্যায় থেকে শুরু করে গৌতম সিনহা, কমল মৈত্র সহ আরও কিছু কর্মকর্তা বাদের তালিকায় চলে যাবেন। রাজ্য খোখো সংস্থার সভাপতি কমলেশ চ্যাটার্জিকেও পদত্যাগ করতে হবে তাঁর পদ থেকে। রামানুজ মুখার্জি রাজ্য সাঁতার সংস্থা থেকে এবং কমল মৈত্র রাজ্য অ্যাথলেটিক সংস্থা থেকে মনোনীত হয়েছিলেন। রাজ্য কুস্তি সংস্থার সচিব অসিত ব্যানার্জিকেও তাঁর পদ থেকে সরে দাঁড়াতেই হবে। রাজ্য ভলিবল সংস্থার সভাপতি রথীন (পল্টু) রায়চৌধুরী কোনও কোনও সুহৃদ ব্যক্তির কাছে তিনি তাঁর অভিমত প্রকাশ করে বলেছেন, কিছুদিনের মধ্যেই নিজে থেকেই সরে দাঁড়াবেন। স্পোর্টস কোড যখন চালুই হচ্ছে, তখন কেন ওই পদ আঁকড়ে রাখব? এমনও হতে পারে, বর্তমান সচিব জহর দাস তাঁর পদ হারাতে পারেন টানা তিনটি টার্মের কারণে। রাজ্য ব্যাডমিন্টন সংস্থার সচিব শেখর বিশ্বাস কোনওভাবেই আর তাঁর পদে থাকতে পারবেন না।
আবার বলা হয়েছে এক পদ এক সংস্থা এই নিয়মে কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালন করতে হবে। বিভিন্ন সংস্থায় পদ আগলে রাখা একজনের পক্ষে সম্ভব হবে না। ইতিমধ্যেই স্পোর্টস কোড অনুযায়ী সিএবি থেকে দুই কর্মকর্তা সরে গেছেন। তাঁরা প্রকাশ্যেই বলেছেন, যখন আমার বয়স ৭০ হয়ে গিয়েছে, তাহলে পদ আগলে রাখার কোনও প্রয়োজন নেই। প্রতি বছর সব সংস্থার আয়-ব্যয়ের হিসেব অডিট করে জমা দিতে হবে। এদিকে জানা গেছে, বিভিন্ন সংস্থায় বেশ কিছু কর্মকর্তা সরে গেছেন এবং প্রয়াত হয়েছেন, তাঁদের শূন্যস্থানে কাউকেই নিয়োগ করা হয়নি। নিয়মানুসারে তিন মাসের মধ্যে শূন্যস্থান পূরণ করতে হয়। তা করা হয়নি। তাই বিভিন্ন সংস্থায় কর্মকর্তাদের পদত্যাগের হিড়িক কীভাবে দেখতে পাওয়া যায়, তারই অপেক্ষায় থাকতে হবে।




