মোদী সরকার বাদল অধিবেশনে আসন পুনর্বিন্যাস বিল পাশ করাতে আপ্রাণ চেষ্টা করছে। সেই লক্ষ্যে লোকসভায় ৩ দিনের বিশেষ অধিবেশন ডাকতে চলেছে কেন্দ্র। এই অধিবেশন আগামী ১৬ আগস্ট থেকে শুরু হবে এবং ১৮ আগস্ট পর্যন্ত চলবে। এই অধিবেশনে মহিলা সংরক্ষণ বিলটিও পেশ করবে মোদী সরকার। এছাড়া সরকারি সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, এই তিন দিনের বিশেষ অধিবেশনেই বহুল চর্চিত মহিলা সংরক্ষণ বিলটিও পেশ করতে পারে কেন্দ্রীয় সরকার।
আসন পুনর্বিন্যাস বিলটি পাস করাতে লোকসভায় দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন জরুরি। তবে শুরু থেকেই সরকারের এই পরিকল্পনার তীব্র বিরোধিতা করেছে বিরোধী শিবির। সরকার বিরোধী দলগুলির সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়েছে। কেন্দ্রীয় সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর সঙ্গে দেখা করেছেন। কংগ্রেস সূত্রের খবর, এই সাক্ষাতে বিলটি নিয়ে বিরোধী দলের জানতে চাওয়া হয়। কংগ্রেস বিলটি সমর্থন না দিলেও বিল পাশ করাতে ডিএমকে-র সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়েছে বিজেপি।
বিরোধী শিবিরে ভাঙন ধরানোর সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে সরকারি শিবিরের একাধিক সূত্রের দাবি, ডিএমকে শেষ পর্যন্ত বিলটির বিরোধিতা না করলে সরকারের পক্ষে প্রয়োজনীয় সংখ্যার অনেকটাই জোগাড় হয়ে যাবে। তবে তাতেও পুরো অঙ্ক মিলবে না। তাই কয়েকজন বিরোধী সাংসদের ক্রস ভোটিং অথবা ভোটদানে বিরত থাকার সম্ভাবনাকেও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।
ডিলিমিটেশন প্রশ্নে দক্ষিণের রাজ্যগুলির আপত্তি নতুন নয়। জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সফল রাজ্যগুলির লোকসভায় প্রতিনিধিত্ব কমে যাওয়ার আশঙ্কা বারবার তুলে ধরেছে তামিলনাড়ু-সহ একাধিক রাজ্য। সেই কারণেই ডিএমকে-র অবস্থানকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। পাশাপাশি, বিজেপি নজর দিয়েছে অন্য বিরোধী দলগুলির দিকেও। সরকারি সূত্রের খবর, এবার যে বিলটি আনা হবে তাতে বিরোধীদের মূল আপত্তির যে জায়গা, সেই আসনসংখ্যার বৃদ্ধির হার, সেটা খসড়ায় উল্লেখ করা হতে পারে। অর্থাৎ জনসংখ্যা যাই হোক, সব রাজ্যে যে ৫০ শতাংশ হারেই আসন বাড়ানো হবে, সেটা লিখিত আকারে দিতেও প্রস্তুত সরকার।




