১৯ তম দিনে পড়ল সমাজকর্মী তথা পরিবেশবিদ সোনম ওয়াংচুকের অনশন। এখনও অটুট রয়েছে তাঁর মনোবল। বুধবার রাতে সমাজমাধ্যমে তাঁর একটি ভিডিও শেয়ার করা হয়। সেই ভিডিও বার্তায় তিনি জানান,শারীরিকভাবে দুর্বল হলেও পরিস্থিতি এতটও সঙ্কটজনক নয় যে, আগামী দু-চার দিনের মধ্যেই তাঁর মৃত্যু হবে। একই সঙ্গে তিনি সমর্থকদের অনশন প্রত্যাহার করার অনুরোধ না করে, তাঁর সঙ্গে ২০ জুলাই সংসদ অভিযানে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।
ভিডিও বার্তায় ওয়াংচুক বলেন, ‘আমার শরীর ভালো নয়, তবে খুব খারাপও নয়। এমন অবস্থা নয় যে, দু-চার দিনের মধ্যেই মরে যাব।‘ তিনি আরও বলেন, নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদ এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফার দাবিতে আগামী ২০ জুলাই সংসদ ভবন অভিযানের ডাক দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। ওই দিনই সংসদের বাদল অধিবেশন শুরু হচ্ছে। সেই কর্মসূচিতে শান্তিপূর্ণভাবে অংশ নেওয়ার জন্য সকলকে আবেদন জানান তিনি।
এদিকে বুধবার ককরোচ জনতা পার্টির প্রকাশিত মেডিক্যাল বুলেটিনে জানানো হয়েছে, ৫৯ বছরের ওয়াংচুক শারীরিকভাবে ‘খুবই দুর্বল’। এক দিনে তাঁর ওজন ৪০০ গ্রাম কমে দাঁড়িয়েছে ৫৭.১৫ কেজিতে। অনশন শুরুর আগে তাঁর ওজন ছিল ৬৬ কেজি। বুধবার তাঁর রক্তচাপ ছিল ১০৫/৭৬, রক্তে শর্করার মাত্রা ৮০ মিলিগ্রাম এবং রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা ছিল ৯৭ শতাংশ।
গত ২০ জুন থেকে যন্তরমন্তরে আন্দোলন শুরু করেছে ককরোচ জনতা পার্টি। তার সাত দিনের মাথায় অনশনে বসেন পরিবেশবিদ সোনম ওয়াংচুক। প্রথমদিকে আন্দোলনে সাধারণ মানুষের সাড়া তুলনামূলক কম থাকলেও, গত কয়েক দিনে ওয়াংচুকের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায় যন্তরমন্তরে মানুষের ভিড় বাড়ছে। দিল্লির তীব্র গরম উপেক্ষা করে ছাত্রছাত্রী, অভিভাবক, সাধারণ মানুষ এবং শিক্ষাবিদরা তাঁকে দেখতে ও সমর্থন জানাতে আসছেন।
নিটে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় দেশজুড়ে কমপক্ষে ২০ জন ছাত্রছাত্রী আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ। তাঁদের মধ্যে দেহরাদুনের রিয়া কুমারী থাপার বাবা-মাও বুধবার ফোন করে ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন।
ওয়াংচুকের সঙ্গে অনশনে বসেছিলেন ছাত্র সংগঠন আইসার ছয় জন নেতা-নেত্রী। তাঁদের মধ্যে তিনজনকে ইতিমধ্যেই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের নেহা, ইলাহাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের মণীশ এবং অম্বেডকর বিশ্ববিদ্যালয়ের অমিন এই তিন পিএইচজি গবেষক টানা ১৮ দিন ধরে অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন। তাঁদের শরীরে কিটোনের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে।
ওয়াংচুকের আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন বিরোধী শিবিরের একাধিক নেতা-সাংসদ। সোমবার যন্তরমন্তরে গিয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করেন সাহিত্যিক অরুন্ধতী রায়, অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহ, অভিনেত্রী রত্না পাঠক শাহ এবং অর্থনীতিবিদ জয়তী ঘোষ। তাঁরা সোনম ওয়াংচুক-সহ অন্যান্যদের অনশন প্রত্যাহার করার অনুরোধ জানান। এছাড়া তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও ফোন করে ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিয়েছেন।




