অনশন ভাঙানো গেল না। বরং হাসপাতালের শয্যা থেকেই আন্দোলনের বার্তা আরও জোরালো করলেন পরিবেশকর্মী সোনাম ওয়াংচুক। শনিবার দিল্লির যন্তর মন্তরে অনশনমঞ্চ থেকে তাঁকে তুলে হাসপাতালে নিয়ে যায় দিল্লি পুলিশ। তবে হাসপাতালে গেলেও সেখান থেকেই অনশন চালিয়েই যাচ্ছেন সোনাম ওয়াংচুক।
রবিবার সকালে হাসপাতাল থেকে নিজের হাতে আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে একটি চিঠি লেখেন সোনাম ওয়াংচুক। সেই চিঠিতে সোমবারের সংসদ অভিযানে যোগ দেওয়ার জন্য দেশবাসীর প্রতি আবেদন জানিয়েছেন তিনি। ‘ককরোচ জনতা পার্টি’-র ডাকা ওই কর্মসূচিকে সফল করার আহ্বান জানিয়ে ওয়াংচুক দাবি করেছেন, এই আন্দোলন কেবল একটি প্রতিবাদ নয় বরং ‘ভারতের দ্বিতীয় স্বাধীনতা আন্দোলন’।
সেই চিঠিতে তিনি লিখেছেন, এই লড়াইয়ের লক্ষ্য এমন একটি ভারত গড়ে তোলা যেখানে মানুষ ভয়মুক্ত এবং অন্যায়মুক্ত পরিবেশে বাঁচতে পারবেন। শান্তিপূর্ণ গণআন্দোলনের মাধ্যমেই সেই পরিবর্তন সম্ভব বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন।
ওয়াংচুকের লেখা চিঠিটি আন্দোলনকারীদের হাতে পৌঁছে দেন তাঁর স্ত্রী গীতাঞ্জলি জে আংমো। প্রথমে হিন্দিতে লেখা ওই বার্তার পরে নিজেই তার ইংরেজি অনুবাদও করেন ওয়াংচুক। যাতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ তাঁর আবেদন বুঝতে পারেন। এদিকে, সোমবারের সংসদ অভিযানে বড় জমায়েতের সম্ভাবনা থাকায় রাজধানীতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। আন্দোলনকারীদের কর্মসূচির দিকে নজর রয়েছে প্রশাসনেরও।
উল্লেখ্য, নিটের প্রশ্নফাঁস-কাণ্ডে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে সোনাম ওয়াংচুকের সঙ্গে যন্তর মন্তরে অনশনে বসেছেন ছাত্র সংগঠন আইসা-র ছয় প্রতিনিধি। গত ২৮ জুন থেকে সোনাম ওয়াংচুক দিল্লির যন্তর মন্তরে অনির্দিষ্টকালের জন্য অনশনে বসেছেন। ডিহাইড্রেশন ও শারীরিক অবস্থার অবনতির জন্য চিকিৎসকদের পরামর্শ ও দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশে দিল্লি পুলিশ শনিবার সকালে তাঁকে সফদরজং হাসপাতালে ভর্তি করে।
হাসপাতালের বুলেটিন অনুযায়ী, তিনি কোনও ধরনের পুষ্টি বা আইভি ফ্লুইড গ্রহণে সম্মতি দেননি। সোনাম ওয়াংচুক আগের মতোই শুধুমাত্র নুন-জল খেয়ে অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন তাঁর স্ত্রী গীতাঞ্জলি জে আংমো। এবার হাসপাতাল থেকে আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে নিজেই অনশন প্রত্যাহার না করার বার্তা দিলেন সোনাম ওয়াংচুক।




