দক্ষিণ-পূর্ব দিল্লির অমর কলোনিতে এক আইআরএস আধিকারিকের বাসভবনে ঢুকে তাঁর ২২ বছরের কন্যাকে ধর্ষণ করে খুনের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হল প্রাক্তন পরিচারককে। বুধবার সকালে রক্তাক্ত অবস্থায় ওই তরুণীর দেহ উদ্ধার হয়। এই ঘটনাকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে রাজধানীর ভিভিআইপি মহলে। পাশাপাশি কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যেও কীভাবে সবার নজর এড়িয়ে অপরাধী ওই আবাসনে প্রবেশ করে, এবং এই অপরাধ ঘটায় তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতিদিনের মতো ঘটনার দিন ভোরে আমলা ও তাঁর স্ত্রী প্রথমে প্রাতঃভ্রমণ ও তারপর জিমে যান। সেই সুযোগেই অভিযুক্ত বাড়িতে ঢোকে। সিসিটিভি ফুটেজে সকাল সাড়ে ৬টার কিছু পরে তাকে বাড়িতে প্রবেশ করতে দেখা যায়। প্রায় ৪০ মিনিট সে ভিতরে ছিল। অভিযোগ, প্রথমে তরুণীকে ধর্ষণ করে, তারপর ভারী বস্তু দিয়ে আঘাত করা হয়। এরপর মোবাইল চার্জার দিয়ে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়। পরে আলমারি থেকে প্রায় আড়াই লক্ষ টাকা লুট করে পোশাক বদলে পালায় অভিযুক্ত।
Advertisement
তদন্তে উঠে এসেছে, অভিযুক্ত আগে প্রায় ৮ মাস ওই বাড়িতে কাজ করেছে। অনলাইন জুয়ায় আসক্তি ও ধারদেনার কারণে মাসখানেক আগে তাকে বরখাস্ত করা হয়। ফলে বাড়ির নিরাপত্তা ব্যবস্থা, প্রবেশপথ ও পরিবারের রুটিন সম্পর্কে বিস্তারিত জানত সে। এমনকি বাড়ির বাইরে রাখা অতিরিক্ত চাবি কোথায় থাকে তাও সে জানত। অনুমান, সেটি ব্যবহার করেই অভিযুক্ত ওই আধিকারিকের বাড়ির ভিতরে ঢোকে।
Advertisement
পুলিশের দাবি, অভিযুক্তের কাছে ডুপ্লিকেট চাবি ও পাসকোড সংক্রান্ত তথ্যও ছিল। ফলে বহুস্তরীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা পেরিয়ে সে যেতে সক্ষম হয়। ঘটনার পর পালিয়ে দ্বারকা এলাকার একটি হোটেলে আশ্রয় নেয়। সেখান থেকেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তদন্তে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, দিল্লিতে এই নৃশংস কাণ্ড ঘটানোর আগে আলওয়ারেও এক মহিলাকে ধর্ষণের অভিযোগ রয়েছে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে। অর্থাৎ ১২ ঘণ্টারও কম সময়ে দু’টি ধর্ষণের ঘটনায় জড়িত সে। ওই ঘটনার অভিযোগ ইতিমধ্যেই স্থানীয় থানায় দায়ের হয়েছে।
এই ঘটনায় ধর্ষণ, খুন ও ডাকাতির একাধিক ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে। দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তকে জেরা করে পুরো ঘটনার ক্রম ও সম্ভাব্য উদ্দেশ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি নিরাপত্তা ব্যবস্থার ফাঁকফোকর নিয়েও তদন্ত শুরু হয়েছে । এই ভয়াবহ ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দেয়, ব্যক্তিগত পরিচিতি বা প্রাক্তন কর্মীর মাধ্যমে অপরাধের ঝুঁকি কতটা ভয়াবহ হতে পারে।
Advertisement



