দুর্গাপুজোর মরশুমে বহু পর্যটক বেড়াতে গিয়েছেন ভূস্বর্গে। আর সেখানে গিয়ে যা দেখলেন তাতে আনন্দে আত্মহারা হয়ে উঠলেন পর্যটকরা। বরফের ঠাণ্ডা আমেজে যেন আলতো করে নিজেদের মেলে ধরলেন নিজেদের। শীতকাল না হলেও সেখানে মরশুমের প্রথম তুষারপাত দেখা দিয়েছে ভূস্বর্গের মাটিতে। এই বরফেই যেন স্নান করতে চেয়েছিলেন পর্যটকরা। আর প্রকৃতি যেন তাতেই সাড়া দিল। খাতায়-কলমে শীতকাল এখনও সেখানে আসেনি। তবে জম্মু ও কাশ্মীরের পাহাড়ি এলাকায় এখনই শৈত্যের পরশ অনুভব করলেন পর্যটকরা। মরশুমের প্রথম তুষারপাতের সাক্ষী থাকল গুলমার্গের আফরওয়াত পর্বত এবং গুরেজ উপত্যকা।
মহাষ্ঠমীর সকালে এমন আবহাওয়া পেয়ে খুশিতে নেচে উঠেছেন বহু পর্যটক। বরফের মধ্যেই হেঁটে ঠাণ্ডা আমেজ উপভোগ করে মেতে উঠেছেন পর্যটকরা। প্রকৃতির নৈসর্গিক সেই দৃশ্য অনেকেই ক্যামেরাবন্দি করেছেন। আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে খবর, তুষারপাতের মূল কারণ পশ্চিমী ঝঞ্ঝার প্রভাব। গুলমার্গ, গুরেজ, তুলাইল, রাজদান পাস, সোনমার্গ এবং জোজিলা পাস-সহ একাধিক পাহাড়ি এলাকায় তুষারপাত হয়েছে। দু’দিন ধরে এই পরিবেশ দেখা গিয়েছে। গুরেজ উপত্যকা, তুলাইল এবং বন্দিপোরার সঙ্গে সংযোগকারী রাজদান পাসেও ঢেকেছে বরফ। রাজধানী শ্রীনগর-সহ সমতল এলাকায় বৃষ্টিপাতের কারণে দিনের তাপমাত্রা অনেকটাই কমে গিয়েছে।
এই পরিস্থিতির জেরে গোটা উপত্যকায় এখন শীতের আমেজ বিরাজমান। এমন আবহাওয়া পেয়ে খুশি পর্যটকরা। দেদার আনন্দে মেতে উঠেছেন তাঁরা। হঠাৎ এই তুষারপাতে একদিকে যেমন পর্যটকরা আনন্দিত, তেমনি ভাল ব্যবসার আশা করছেন স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায়ীরা। গুলমার্গের আফরওয়াত শৃঙ্গে তুষারপাত চোখে যেন পৃথক আরাম দিয়েছে সকলকে। আর তা দেখার জন্য পর্যটকদের উৎসাহ ছিল তুঙ্গে। বরফে আবৃত পাহাড়ি দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করার পাশাপাশি সেলফির হুড়োহুড়ি পড়ে গিয়েছিল। কলকাতা থেকে যাওয়া একদল পর্যটক জানান, এমন অপরূপ দৃশ্য দেখতে পেয়ে নিজেদের ভাগ্যবান বলে মনে করছি। এই তুষারপাত দেখে আশায় বুক বেঁধেছেন পর্যটন ব্যবসায়ীরা। কারণ শীতের মরশুমে ব্যবসা জমে ওঠে।
তাছাড়া গুলমার্গের হোটেল মালিক, গাড়ি চালক, গাইড এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীরা এখন জোর প্রচারে নেমে পড়েছেন। স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায়ী সারাহ বলেন, ‘তুষারপাতের টানেই গুলমার্গে আসেন পর্যটকরা। তুষারপাত প্রত্যাশা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।’ গুলমার্গ ডেভেলপমেন্ট অথরিটির সিইও ইলিয়াস আহমেদ নাইসুরু বলছেন, ‘আসন্ন শীতে পর্যটকদের ভিড় সামলাতে সমস্ত প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।’ এবার কাশ্মীরে আবহাওয়ার উন্নতি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। উপত্যকায় মূলত শুষ্ক আবহাওয়া বজায় থাকবে। পাহাড়ি রাস্তা এবং গিরিপথ ধরে যাওয়ার সময় পর্যটকদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। গাড়ি চালকদেরও পরামর্শ দিয়েছে প্রশাসন।




