• facebook
  • twitter
  • youtube
Wednesday, 30 September, 2026

মসজিদ ভাঙার ভুয়ো এআই ভিডিও ঘিরে গুজব, উজ্জয়িনীতে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ

পুলিশ সূত্রে খবর, সমাজমাধ্যমে এমন কয়েকটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে দাবি করা হয়, জেসিবি দিয়ে গোটা মসজিদটি ভেঙে ফেলা হচ্ছে

মসজিদ ভাঙার ভুয়ো এআই ভিডিও ঘিরে গুজব, উজ্জয়িনীতে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ

Image: ANI video grab

মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনীতে শাহি মসজিদের (Ujjain Shahi Masjid) একাংশ ভাঙাকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া উত্তেজনার নেপথ্যে এবার উঠে এল এআইয়ের সাহায্যে তৈরি ভুয়ো ভিডিওর অভিযোগ। পুলিশ সূত্রে খবর, সমাজমাধ্যমে এমন কয়েকটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে দাবি করা হয়, জেসিবি দিয়ে গোটা মসজিদটি ভেঙে ফেলা হচ্ছে।

বাস্তবে রাস্তা সম্প্রসারণের জন্য মসজিদের (Ujjain Shahi Masjid) রাস্তা সংলগ্ন নির্দিষ্ট কিছু অংশ ভাঙার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। ভুয়ো ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পরই গুজব ছড়িয়ে পড়ে এবং মসজিদের কাছে মানুষের জমায়েত শুরু হয়। পরে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়।

২০২৮ সালের উজ্জয়িনীর মহাকুম্ভ মেলাকে সামনে রেখে উজ্জয়িনীতে রাস্তা সম্প্রসারণ-সহ একাধিক পরিকাঠামো নির্মাণের কাজ চলছে। সেই প্রকল্পের আওতায় শহরের বেশ কিছু নির্মাণ সরানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। সেই তালিকায় রয়েছে ঐতিহাসিক শাহি মসজিদও (Ujjain Shahi Masjid) । বিষয়টি নিয়ে মামলা গড়ায় মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টে। আদালতের নির্দেশের পর প্রশাসন মসজিদের রাস্তা সংলগ্ন কয়েকটি অংশ সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি শুরু করে।

সেই কাজকে কেন্দ্র করেই সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে ভুয়ো ভিডিও। পুলিশ জানিয়েছে, ভিডিওয় এমনভাবে বিষয়টি তুলে ধরা হয় যেন গোটা মসজিদটি (Ujjain Shahi Masjid) ভেঙে দেওয়া হচ্ছে। ভিডিও দেখে বহু মানুষ ঘটনাস্থলের কাছে জড়ো হন। সোমবার পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশকর্মীদের লক্ষ্য করে পাথর ছোড়ার অভিযোগ ওঠে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে এবং লাঠিচার্জ করে। র‍্যাফ-সহ অতিরিক্ত বাহিনীও মোতায়েন করা হয়।

আরও পড়ুন: এসআরএফটিআই ঘটনায় তদন্তে সিট, নেতৃত্বে কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দাপ্রধান

পুলিশের দাবি, ভুয়ো ভিডিও ছড়িয়ে উত্তেজনা তৈরির ঘটনায় সমাজমাধ্যমের একাধিক অ্যাকাউন্টের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। কয়েকজন কনটেন্ট ক্রিয়েটরকেও চিহ্নিত করা হয়েছে। ভিডিওগুলি প্রথম কোথা থেকে ছড়িয়েছিল এবং কারা সেগুলি তৈরি ও প্রচার করেছিল তা খতিয়ে দেখছে সাইবার ক্রাইম শাখা। বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

অন্য দিকে, পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার পরে মসজিদের (Ujjain Shahi Masjid) নির্দিষ্ট অংশ সরানোর কাজ নিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের আলোচনা হয়। মসজিদ কমিটির সদস্যেরা প্রশাসনের সঙ্গে সহযোগিতা করার কথা জানান। পরে তাঁদেরই উদ্যোগে ওই নির্দিষ্ট অংশের কাঠামো সরানোর কাজ শুরু হয়।

মসজিদ (Ujjain Shahi Masjid) কমিটির সদস্য মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, উজ্জয়িনীর দীর্ঘ দিনের ‘গঙ্গা-যমুনা’ সংস্কৃতির কথা মাথায় রেখে তাঁরা প্রশাসনের সঙ্গে সহযোগিতা করছেন। একইসঙ্গে ভুয়ো ভিডিও ছড়িয়ে উত্তেজনা তৈরির অভিযোগের তদন্তও চালাচ্ছে পুলিশ।  

দেখুন: