• facebook
  • twitter
  • youtube
Friday, 9 October, 2026

মেট্রো পরিষেবায় বিধিনিষেধ, অনুমতি দেওয়া হয়নি সিজেপিকে, ১০ অক্টোবর বিক্ষোভ ঘিরে দিল্লিতে কড়া নিরাপত্তা

দিল্লি পুলিশের যুগ্ম কমিশনার নূপুর প্রসাদ জানান, সিজেপির সহ-আহ্বায়ক সৌরভ দাস ৭ অক্টোবর বিক্ষোভের কথা জানিয়ে পুলিশের কাছে আবেদন করেছিলেন

মেট্রো পরিষেবায় বিধিনিষেধ, অনুমতি দেওয়া হয়নি সিজেপিকে, ১০ অক্টোবর বিক্ষোভ ঘিরে দিল্লিতে কড়া নিরাপত্তা

Image: SNS

১০ অক্টোবর যন্তর মন্তরে সিজেপির (CJP) বিক্ষোভের অনুমতি দিল না দিল্লি পুলিশ। অন্যদিকে, বিক্ষোভ ঘিরে জমায়েত সামাল দিতে ৯ অক্টোবর রাত ৯টা থেকে ৫৭টি মেট্রো স্টেশনে ট্রেনের ব্যবধান বাড়াতে এবং প্রবেশ ও প্রস্থানপথ বন্ধ রাখতে দিল্লি মেট্রো রেল কর্পোরেশনকে অনুরোধ জানিয়েছে পুলিশ। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বিধিনিষেধ বহাল থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি বা সিজেপি (CJP) । স্বল্প সময়ের নোটিস, আগের বিক্ষোভের নির্দেশিকা না মানা এবং আইনশৃঙ্খলা, নিরাপত্তা এবং যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের বিষয়গুলি মাথায় রেখে দিল্লি পুলিশ অনুমতি দেয়নি বলে খবর।

দিল্লি পুলিশের যুগ্ম কমিশনার নূপুর প্রসাদ জানান, সিজেপির (CJP) সহ-আহ্বায়ক সৌরভ দাস ৭ অক্টোবর বিক্ষোভের কথা জানিয়ে পুলিশের কাছে আবেদন করেছিলেন। কিন্তু নিয়ম অনুযায়ী, বিক্ষোভের অন্তত ১০ দিন আগে আবেদন জমা দেওয়ার কথা। সেই শর্ত পূরণ হয়নি। পাশাপাশি, আগের একটি বিক্ষোভের অনুমতি পাওয়ার পর আয়োজকেরা তাঁদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি ও নির্দেশিকা মেনে চলেননি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

কম সময়ে নোটিস ও নিয়মভঙ্গের অভিযোগ পুলিশের

সাংবাদিক বৈঠকে নূপুর প্রসাদ বলেন, ৭ অক্টোবর সিজেপির (CJP) জমা দেওয়া আবেদনটি খতিয়ে দেখার পর একাধিক বিষয় বিবেচনা করে অনুমতি না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘প্রথমত, খুব কম সময়ে নোটিসের আবেদনটি জমা পড়েছিল। আমাদের নির্ধারিত নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রস্তাবিত বিক্ষোভের অন্তত ১০ দিন আগে আবেদন করতে হয়। এখানে তা করা হয়নি।‘

তাঁর অভিযোগ, পূর্ববর্তী বিক্ষোভের অনুমতি পাওয়ার পর আয়োজকেরা তাঁদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেননি এবং আইনি নির্দেশও মেনে চলেননি।

নূপুর প্রসাদের কথায়, ‘এই বিষয়গুলি, বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, অন্যান্য সংগঠনের প্রকাশ্য বিক্ষোভের ডাক এবং যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করেই অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না।‘

তিনি আরও জানান, নয়াদিল্লি এলাকায় বিএনএস ১৬৩ ধারা কার্যকর রয়েছে। বর্তমান বিধিনিষেধ অনুযায়ী, সেখানে জমায়েত ও বিক্ষোভ নিষিদ্ধ।

অনুমতি ছাড়া জমায়েত হলে কিংবা ভাঙচুর ও সরকারি সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।

আরও পড়ুন: ২০২৬ সালের ‘অ্যাওয়ার্ড ফর হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডার্স অ্যাট রিস্ক’ পুরস্কার পেলেন উমর খালিদ, ২০২০ সাল থেকে জেলবন্দি এই সমাজকর্মী

বিক্ষোভের অধিকার রয়েছে, তবে নিয়ম মানতে হবে: পুলিশ

নূপুর প্রসাদ বলেন, বিক্ষোভ যাতে শান্তিপূর্ণভাবে এবং আইন মেনে হয়, তা নিশ্চিত করা পুলিশের দায়িত্ব। এর আগে যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের সময় পুলিশ সহযোগিতা করেছে বলে জানান তিনি।

তাঁর কথায়, ‘শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের জন্যই অনুমতি দেওয়া হয়। বিক্ষোভ যাতে শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়, তা নিশ্চিত করাই আমাদের ভূমিকা।‘

তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা যদি আমাদের উপর হামলা করেন, তা হলে শান্তি বিঘ্নিত হয়। আমরাও আপনাদেরই অংশ এবং প্রত্যেককে সম্মান করা আপনাদের কর্তব্য।‘

যুগ্ম কমিশনারের বক্তব্য, বিক্ষোভ করার অধিকার কোনও এক ব্যক্তি বা সংগঠনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তবে বিক্ষোভকারীদের নিয়ম ও আইনি প্রক্রিয়া মেনে চলতে হবে।

বিভিন্ন জায়গায় পুলিশি বাধা এবং মাইকে ঘোষণা নিয়ে ওঠা অভিযোগের জবাবে নূপুর প্রসাদ বলেন, বিএনএস ১৬৩ ধারা মেনেই এই পদক্ষেপ করা হচ্ছে।

৫৭টি মেট্রো স্টেশনে বিধিনিষেধ জারির অনুরোধ

নিরাপত্তার ব্যবস্থা হিসেবে ৯ অক্টোবর রাত ৯টা থেকে ১০ অক্টোবর পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ৫৭টি মেট্রো স্টেশনে দু’টি ট্রেনের মধ্যেকার সময়ের ব্যবধান বাড়ানো এবং প্রবেশ ও প্রস্থানপথ বন্ধ রাখার জন্য ডিএমআরসিকে অনুরোধ জানিয়েছে দিল্লি পুলিশ।

এই তালিকায় সেন্ট্রাল দিল্লি, যন্তর মন্তর এবং শহরের অন্যান্য অংশের সঙ্গে সংযোগকারী একাধিক মেট্রো লাইনের স্টেশন রয়েছে। সম্ভাব্য ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং স্পর্শকাতর এলাকায় জমায়েত ঠেকাতেই এই পদক্ষেপের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: সাহসিকতাকে সম্মান জানাতে ইজলায়েলের সর্বোচ্চ অসামরিক বীরত্বের সম্মান পেতে চলেছেন ভারতীয় পাইলট স্মিত মচ্ছর

যে স্টেশনগুলিতে প্রবেশ ও প্রস্থানপথ বন্ধ রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে:

সেন্ট্রাল দিল্লি: জনপথ, প্যাটেল চক, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট, লোক কল্যাণ মার্গ, রাজীব চক, নয়াদিল্লি, সেবা তীর্থ (উদ্যোগ ভবন), মণ্ডী হাউস, বারাখাম্বা রোড, আইটিও, দিল্লি গেট, খান মার্কেট, আর কে আশ্রম মার্গ, ঝান্ডেওয়ালান, সুপ্রিম কোর্ট, ইন্দ্রপ্রস্থ ও শিবাজি স্টেডিয়াম।

দক্ষিণ দিল্লি: আইএনএ (দু’টি মেট্রো লাইন), হৌজ খাস, জোরবাগ, আরজানগড়, সরাই কালে খান-নিজামুদ্দিন, লাজপত নগর, জংপুরা, আশ্রম, কালিন্দী কুঞ্জ, জসোলা, জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া ও ওখলা বিহার।

পুরনো দিল্লি ও উত্তর দিল্লি: চাওড়ি বাজার, জামা মসজিদ, করোল বাগ, রাজেন্দ্র প্লেস, বিশ্ববিদ্যালয়, বিধানসভা, সিভিল লাইনস, কাশ্মীরি গেট, টিন্ডারলোক, জি টি বি নগর, কানহাইয়া নগর, নেতাজি সুভাষ প্যালেস, আজাদপুর, আদর্শ নগর, জাহাঙ্গিরপুরী, হায়দরপুর বাদলি মোড়, মাজলিস পার্ক ও শালিমার বাগ।

পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব দিল্লি: সিলামপুর, মৌজপুর, জাফরাবাদ, ওয়েলকাম, যমুনা বিহার, খাজুরি খাস ও শাহদরা।

রোহিণী: রিঠালা, রোহিণী ইস্ট ও রোহিণী ওয়েস্ট।

দেখুন: