ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর শীর্ষ নেতৃত্বে বড় রদবদল করা হল। সেনাবাহিনী এবং বিমানবাহিনীর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে নতুন অফিসারদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ভারতীয় সেনাবাহিনীর নতুন সেনাপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল ধীরাজ শেঠ। দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সামরিক অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। জাতীয় প্রতিরক্ষা অ্যাকাডেমির প্রাক্তনী ধীরাজ শেঠ ১৯৮৬ সালে সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। এর আগে তিনি সেনাবাহিনীর উপ-প্রধান হিসেবে দায়িত্ব সামলেছেন। অবসর নেওয়া জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদীর স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন তিনি। প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা, আধুনিক যুদ্ধকৌশলের সঙ্গে বাহিনীকে আরও প্রস্তুত করা এবং অপারেশনাল দক্ষতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই পরিবর্তন বলে মনে করা হচ্ছে।
অন্যদিকে ভারতীয় বিমানবাহিনীর নতুন সহ-প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন এয়ার মার্শাল আশুতোষ দীক্ষিত। অভিজ্ঞ ফাইটার পাইলট হিসেবে পরিচিত দীক্ষিত এয়ার মার্শাল নাগেশ কাপুরের জায়গায় এই দায়িত্ব পালন করবেন। সেনাবাহিনীর প্রশাসনিক কাঠামোতেও একাধিক পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন সহ-সেনাপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পাচ্ছেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল সন্দীপ জৈন। সেনাবাহিনীর বিভিন্ন অপারেশন, কৌশলগত পরিকল্পনা, আধুনিকীকরণ, এবং সামরিক ক্ষমতা বৃদ্ধির মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজের দায়িত্ব বর্তাচ্ছে তাঁর উপর।
এ ছাড়াও বিভিন্ন কমান্ডের নেতৃত্বেও পরিবর্তন হয়েছে। সাউথ ওয়েস্টার্ন কমান্ডের নতুন জেনারেল অফিসার কমান্ডিং-ইন-চিফ হয়েছেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোহিত মালহোত্রা। সাদার্ন কমান্ডের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে লেফটেন্যান্ট জেনারেল রাজেশ পুষ্করকে। লাদাখ সীমান্তের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে সেখানকার গুরুত্বপূর্ণ ফায়ার অ্যান্ড ফিউরি কর্পস-এর নেতৃত্বেও বদল আনা হয়েছে। এই কোরের নতুন কমান্ডার হয়েছেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল মদনরাজ পান্ডে। তিনি লেফটেন্যান্ট জেনারেল হিতেশ ভাল্লার স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন। সীমান্তে সেনার প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই কোরের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি এবং সীমান্তে নিরাপত্তা সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জের কথা মাথায় রেখেই সেনা ও বিমানবাহিনীর শীর্ষ নেতৃত্বে এই রদবদল করা হয়েছে। নতুন নেতৃত্বের হাত ধরে বাহিনীর আধুনিকীকরণ, কৌশলগত পরিকপ্লনা এবং ভবিষ্যতের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার দিকেই জোর দেওয়া হবে।




