কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেসের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা, ১৯ জুন তদন্ত শুরু করছে রেল

Written by SNS June 18, 2024 4:10 pm

শিলিগুড়ি, ১৮ জুন:  সোমবার কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেসের মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের নিরাপত্তা বিষয়ক মুখ্য কমিশনার জনক কুমার গর্গ আগামী ১৯ জুন একটি তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করতে চলেছেন। এই তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু হবে বুধবার সকাল ১০টার পরে। প্রেস বিবৃতি অনুযায়ী, এই তদন্ত প্রক্রিয়ার সময় প্রয়োজন মতো দীর্ঘায়িত হতে পারে। বুধবার এনজেপি-র এডিআরএম চেম্বারে এই তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু হবে।

জানানো হয়েছে, ঘটনার তদন্তের জন্য প্রত্যক্ষদর্শী সাধারণ মানুষ, এবং তার সঙ্গে সম্পর্কিত অন্য যেকোনও বিষয় সম্পর্কে জ্ঞান থাকা সাধারণ মানুষজন উল্লেখিত তারিখগুলিতে তদন্তে সহযোগিতা করার জন্য উপস্থিত হতে পারেন। এবিষয়ে কারও কাছে থাকা প্রমাণ দিতে পারেন বা রেলওয়ে নিরাপত্তার প্রধান কমিশনারকে লিখতে পারেন।

কাটিহার উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজার (ডিআরএম) সুরেন্দ্র কুমার বলেন, “রাত থেকে পুনরুদ্ধারের কাজ চলছে। গতকাল এনজেপি (নতুন জলপাইগুড়ি জংশন) অভিমুখে দুটি পণ্যবাহী ট্রেন এবং একটি শতাব্দী ট্রেনের সঙ্গে একটি ইঞ্জিনের ট্রেইল আপলাইন করা হয়েছিল। যেহেতু এটি একটি দুর্ঘটনাস্থল, ট্রায়ালটি কিছুটা সতর্কতার সঙ্গে করা হয়েছে। কিছুক্ষণের মধ্যে পাশের লাইনও পুনরুদ্ধার করা হবে।” অন্যদিকে দুর্ঘটনাগ্রস্ত কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেসটি পুনরুদ্ধারের পর অক্ষত বাকি কামরাগুলিতে সুস্থ যাত্রীদের নিয়ে তার গন্তব্যস্থলের দিকে রওনা হয়ে যায়। এবং আজ ভোরে সেটি শিয়ালদহে পৌঁছে গিয়েছে।

উল্লেখ্য, গতকাল সোমবারের ঘটনায় এখনও পর্যন্ত রেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ৮ জনের মৃত্যু এবং ২৫ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছে। এদিকে ১৭ জুনের এই ঘটনার একদিন পরেও মঙ্গলবার এই রুটের বেশ কয়েকটি ট্রেন বাতিল করা হয়েছে এবং অন্য বেশ কয়েকটি ট্রেনের গতিপথ ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে। যেখানে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে, সেই দার্জিলিং জেলার ফাঁসিদেওয়া এলাকা থেকে ট্রেন পরিষেবা পুনরায় চালু করা হয়েছে।

সোমবার সকাল ৮.৫৫ মিনিটে উত্তরবঙ্গের জলপাইগুড়ি স্টেশনে শিয়ালদহ-গামী কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেসের কাছে একটি মালগাড়ি ট্রেন সিগন্যাল উপেক্ষা করে ধাক্কা দেয় বলে অভিযোগ। দুর্ঘটনাটি ঘটেছে দার্জিলিং জেলার ফাঁসিদেওয়া এলাকায়। দুর্ঘটনায় অন্তত আটজন নিহত ও ২৫ জনের বেশি আহত হয়েছে বলে রেল দফতরের তরফে জানানো হয়েছে। দুর্ঘটনার সময় ট্রেনে উপস্থিত একজন যাত্রী দুঃখজনক এই ঘটনার কথা স্মরণ করে উদ্বেগ ও আতঙ্ক প্রকাশ করেছিলেন। তিনি বলেন, “আমি S7-এ ছিলাম, যখন এই দুর্ঘটনাটি ঘটেছিল। এই দুর্ঘটনার পর আমরা খুবই আতঙ্কিত। আমার বাবা-মাও চিন্তিত।”

এদিকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর আগে রেলের প্রতি অবহেলার অভিযোগে কেন্দ্রীয় সরকারকে আক্রমণ করেছিলেন। প্রসঙ্গত কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস আসামের শিলচর থেকে কলকাতার শিয়ালদহের মধ্যে চলাচল করে।