প্রাক্তন সেনাপ্রধানের স্মৃতিকথা ঘিরে চলা বিতর্কে সংসদে প্রধানমন্ত্রীর অনুপস্থিতিকে কেন্দ্র করে বুধবার আরও তীব্র হল রাজনৈতিক সংঘাত। লোকসভায় বক্তব্য না রেখে অধিবেশন মুলতুবি হওয়ার পর বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে আক্রমণ করে বলেন, ‘আমি আগেই বলেছি, মোদী সত্যের মুখোমুখি হতে ভয় পাচ্ছেন। তাই তিনি সংসদে এসে বাস্তবের সঙ্গে মুখোমুখি হতে চান না।’
লোকসভায় রাষ্ট্রপতির ভাষণের উপর ধন্যবাদ প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলাকালীন বিরোধীদের প্রবল প্রতিবাদে বারবার অধিবেশন ব্যাহত হয়। বিরোধীদের দাবি, প্রাক্তন সেনাপ্রধানের স্মৃতিকথায় উল্লিখিত কিছু গুরুতর তথ্য নিয়ে আলোচনার সুযোগ দেওয়া হয়নি। এই প্রেক্ষিতেই প্রধানমন্ত্রীর নির্ধারিত বক্তব্য না হওয়াকে ‘ইচ্ছাকৃত এড়িয়ে যাওয়া’ বলে ব্যাখ্যা করেছে কংগ্রেস।
Advertisement
রাহুল গান্ধীর বক্তব্য, সীমান্ত পরিস্থিতি ও জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার দায় সরকারের রয়েছে। তাঁর দাবি, ‘সংসদ প্রশ্ন করার জায়গা। এখানে সত্য বলা ও শোনা— দুটোই গণতন্ত্রের শর্ত। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী যদি প্রশ্ন এড়ান, তা হলে দেশবাসীর কাছে ভুল বার্তা যায়।’
Advertisement
কংগ্রেসের পাশাপাশি একাধিক বিরোধী দলও সরকারের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তাঁদের বক্তব্য, সংসদের নিয়ম দেখিয়ে আলোচনায় বাধা দেওয়া হলেও দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে স্পষ্ট বক্তব্য রাখা জরুরি ছিল। বিরোধীদের অভিযোগ, নিয়মের আড়ালে লুকিয়ে সরকার আসল প্রশ্নগুলি থেকে নজর ঘোরাতে চাইছে।
অন্যদিকে, শাসকদলের পক্ষ থেকে পাল্টা দাবি করা হয়েছে, সংসদের শালীনতা ও নিয়ম ভেঙে বিরোধীরা ইচ্ছাকৃতভাবে অচলাবস্থা তৈরি করছে। শাসক শিবিরের মতে, অপ্রকাশিত বই থেকে উদ্ধৃতি দেওয়ার চেষ্টা সংসদীয় রীতির পরিপন্থী, তাই সেই বিষয়ে অনুমতি দেওয়া হয়নি।
এই টানাপোড়েনের জেরে একাধিকবার লোকসভা মুলতুবি হয়েছে এবং অধিবেশন আজকের মতো স্থগিত রাখা হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, স্মৃতিকথা বিতর্ক এখন আর কেবল একটি বইয়ের প্রসঙ্গ নয়, বরং তা সরকার ও বিরোধীদের মধ্যে আস্থা ও জবাবদিহির বৃহত্তর প্রশ্নে পরিণত হয়েছে। আগামী দিনে সংসদে এই বিষয় ঘিরে সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না পর্যবেক্ষকরা।
Advertisement



