রাত পোহালেই ৮০তম স্বাধীনতা দিবস। আর তার প্রাক্কালে শুক্রবার জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। এদিন তাঁর ভাষণ শুরুর আগে ‘বন্দে মাতরম’ ও ‘জন গণ মন’ বেজে উঠল। এদিন তাঁর ভাষণে উঠে আসে প্রশ্নফাঁস থেকে অপারেশন সিঁদুর-সহ আত্মনির্ভর ভারতের প্রসঙ্গ। এমনকী রাষ্ট্রপতির ভাষণে উঠে আসে নকশালমুক্ত দেশের কথাও। তিনি মনে করিয়ে দেন, সমাজের সর্বস্তরের উন্নয়ন না হলে বিকশিত ভারত হবে না। দেশের পাশাপাশি বিদেশে থাকা ভারতীয়দেরও স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছা জানান রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু।
এদিকে কদিন আগেই নিট কেলেঙ্কারি নিয়ে গোটা দেশ উত্তাল হয়ে উঠেছিল। পদত্যাগ করতে হয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে। তরুণ প্রজন্মের উপর দিল্লি পুলিশের দমনপীড়ন নিয়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। তবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আসরে নেমে পরিস্থিতি শান্ত করেন। এই আবহে দেশের ৮০তম স্বাধীনতা দিবস এসে পড়েছে। তার ঠিক আগে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু বলেন, ‘ভারতকে সর্বশ্রেষ্ঠ করতে হবে, তবেই স্বাধীনতা স্বার্থক। সেই দিন দীর্ঘ পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে মুক্ত হয়েছিল ভারত। স্বাধীন দেশের নাগরিকরাই হয়ে উঠেছিলেন নিজেদের ভবিষ্যতের নির্মাতা। আজও সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের স্বপ্নপূরণ এবং ভারতকে শ্রেষ্ঠ রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। এটাই স্বাধীনতার প্রকৃত অর্থ।’
অন্যদিকে এদিন রাষ্ট্রপতির ভাষণের আগে আগ্রহ ছিল, সাম্প্রতিক সময়ের জ্বলন্ত ইস্যু নিট প্রশ্নফাঁস, যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ-সহ নানা বিষয়। দেশ গঠনে নানা ক্ষেত্রের মানুষের অবদানের কথাও উঠে আসে রাষ্ট্রপতির ভাষণে। ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক, বিজ্ঞানী, ইঞ্জিনিয়ার, চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী, কৃষক, শ্রমিক থেকে শুরু করে শিল্পী, কারিগর, ক্রীড়াবিদ, সরকারি-বেসরকারি ক্ষেত্রের কর্মী এবং সমাজকর্মীদের প্রশংসা করেন তিনি। দেশের সশস্ত্র বাহিনী, সশস্ত্র পুলিশ এবং পুলিশকর্মীদের দায়িত্ব এবং নিষ্ঠার কথা উল্লেখ করেন তিনি। রাষ্ট্রপতি বলেছেন, ‘পড়ুয়াদের ভবিষ্যতের সুরক্ষার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। পরীক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কার প্রয়োজন। দেশের তরুণ প্রজন্মের যেন শিক্ষাব্যবস্থায় ভরসা থাকে। মানুষের কথা শুনতে হবে। কেউ যেন ন্যায় থেকে বঞ্চিত না থাকেন।’
তাছাড়া ভারতের সংবিধানের ভিত্তিই হলো নাগরিকের অংশগ্রহণ। আইনসভা, প্রশাসন এবং বিচারব্যবস্থার দায়িত্বও পৃথক করে তুলে ধরেন তিনি। মানুষের আকাঙ্ক্ষা আইনসভায় তুলে ধরা, জনস্বার্থে নীতি বাস্তবায়ন এবং আর্থিক সামর্থ্যের অভাবে যাতে কেউ বিচার থেকে বঞ্চিত না হন সে কথাও মনে করিয়ে দেন রাষ্ট্রপতি। তাই দ্রৌপদী মুর্মুর কথায়, ‘আমাদের তিরঙ্গা আমাদের স্বাধীনতার প্রতীক। ভারতকে সর্বশ্রেষ্ঠ করতে হবে, তাহলেই স্বাধীনতা স্বার্থক। অন্নদাতা, ছাত্ররা, শিল্পীরা, সমাজসেবীরা, সাফাই মিত্ররা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। ১৪ আগস্ট বিভাজন বিভীষিকা দিবস। দেশভাগের যন্ত্রণা লক্ষ লক্ষ মানুষ সহ্য করেছেন। তবুও তাঁরা নিজেদের শিকড় ভোলেননি। সন্ত্রাসবাদী ও তাদের সহায়তাকারীদের, সে তারা যেখানেই লুকিয়ে থাকুক না কেন, পরিণাম ভোগ করতে হবে। সিঁদুর দেখেছে বিশ্ব। সন্ত্রাস মেনে নেওয়া হবে না। সেনাকে স্যালুট। ঐতিহ্য এবং উন্নয়নের মিশেল, সাংস্কৃতিক গৌরব দেশকে আত্মিক শক্তি দেয়। শুকিয়ে যাওয়া গাছ দেখে তোতাপাখি কাঁদছে। আর মানব সভ্যতার বিনাশ দেখেও আমরা কেন উদাস। ওই যুদ্ধের প্রভাব সারা বিশ্বে পড়েছে। তবুও আমাদের অর্থনীতি দ্রুত এগোচ্ছে। আত্মনির্ভর অভিযানে জাতীয় সুরক্ষা ও অর্থনীতি মজবুত হয়েছে।’




