বাংলাদেশের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের দীর্ঘ খোলা সীমান্তকে কেন্দ্র করে অনুপ্রবেশ, চোরাচালান এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ বাড়তে থাকায় বড় সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। অমিত শাহের নেতৃত্বাধীন মন্ত্রক নির্দেশ দিয়েছে, কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী এবং সীমান্তবর্তী রাজ্য পুলিশের আধিকারিকদের বছরে অন্তত ৫০ রাত সীমান্ত গ্রামে কাটাতে হবে। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের মতো স্পর্শকাতর রাজ্যগুলিকে এই নির্দেশ কার্যকর করতে গুরুত্ব দিতে বলা হয়েছে।
বাংলাদেশের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের আন্তর্জাতিক সীমান্তের দৈর্ঘ্য প্রায় ২,২০০ কিলোমিটার। নদী, চর, কাঁটাতারহীন বিস্তীর্ণ এলাকা এবং ঘন জনবসতির কারণে এই সীমান্ত দীর্ঘদিন ধরেই নিরাপত্তার দিক থেকে দুর্বল বলে চিহ্নিত। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা, সামাজিক টানাপোড়েন ও মৌলবাদী শক্তির সক্রিয়তা বৃদ্ধি পাওয়ায় কেন্দ্র নতুন করে সতর্ক হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে পশ্চিমবঙ্গে সম্ভাব্য ঝুঁকি কমাতে মাঠপর্যায়ের নজরদারি বাড়ানোর উপর জোর দেওয়া হয়েছে।
Advertisement
সূত্রের খবর, বিএসএফ, আইটিবিপি, সশস্ত্র সীমা বল ও অসম রাইফেলসের শীর্ষ আধিকারিকদের পাশাপাশি সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলির পুলিশপ্রধানদের কাছেও এই নির্দেশ পাঠানো হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের ডিজি রাজীব কুমারের দপ্তরেও নথিটি পৌঁছনোর কথা। গত নভেম্বরে রায়পুরে ডিজি–আইজি সম্মেলনের পরেই এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়।
Advertisement
কেন্দ্রের মতে, শুধু কাঁটাতার বা টহল বাড়ালেই সীমান্ত সুরক্ষিত হয় না। সীমান্ত গ্রামগুলির বাসিন্দাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ, আস্থা তৈরি এবং স্থানীয় স্তরে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহই প্রকৃত নিরাপত্তার চাবিকাঠি বলে মনে করছে নর্থ ব্লক। এই কারণেই আধিকারিকদের নিয়মিত রাতযাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মালদহ, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও কোচবিহারকে বিশেষ গুরুত্বের তালিকায় রাখা হয়েছে। এই জেলাগুলিতে অনুপ্রবেশ, ভুয়ো নথি, পাচার এবং সীমান্তপারের নেটওয়ার্ক সক্রিয় থাকার অভিযোগ দীর্ঘদিনের।
এই উদ্যোগ কেন্দ্রের ভাইব্রান্ট ভিলেজেস ও ভাইব্রান্ট ভিজিলেন্ট কর্মসূচির অংশ। ২০২৩ সালের এপ্রিলের এই প্রকল্পের লক্ষ্য সীমান্তবাসীর উন্নয়ন ও নিরাপত্তাকে একসঙ্গে এগিয়ে নেওয়া। নির্দেশ অনুযায়ী, সফরের সময় আধিকারিকরা গ্রামবাসী, যুবসমাজ, জনপ্রতিনিধি, এনসিসি ক্যাডেট এবং সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। তাঁদের সন্দেহজনক গতিবিধি জানাতে উৎসাহিত করা হবে, যাতে সীমান্তে যে কোনও ঝুঁকি দ্রুত চিহ্নিত করা যায়।
নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি ও পশ্চিমবঙ্গের খোলা সীমান্তের বাস্তবতায় এই নির্দেশ রাজ্যের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা। এর ফলে সীমান্তে মানবিক যোগাযোগ বাড়বে, আস্থার পরিবেশ তৈরি হবে এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থাও আরও কার্যকর হবে বলে আশা করছে প্রশাসন। যোগ করা হচ্ছে অতিরিক্ত প্রশিক্ষণ, সমন্বয় বৈঠক এবং নিয়মিত মূল্যায়ন, যাতে নির্দেশের বাস্তবায়ন কাগজে সীমাবদ্ধ না থাকে এবং ফলপ্রসূ হয়। আগামীদিনে নজরদারি আরও কড়া হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
Advertisement



