• facebook
  • twitter
Monday, 12 January, 2026

বিতাড়িত নাগরিকদের দেশে ফেরাতে আটারি-ওয়াঘা সীমান্ত খুলে দিল পাকিস্তান

সীমান্ত এলাকায় নাগরিকদের দুর্ভোগ দুই দেশের সম্পর্কের অবনতির প্রতিচ্ছবি বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা।

পহেলগাম হামলার পর ভারত-পাকিস্তান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের টানাপোড়েনের জেরে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল আটারি-ওয়াঘা সীমান্ত এলাকায়। ভারতে বসবাসকারী পাকিস্তানের নাগরিকদের দেশে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেয় ভারত সরকার। বাতিল করা হয় ভিসাও। এর পরেও সীমান্ত বন্ধ রেখেছিল পাকিস্তান। অবশেষে নানা টালবাহানার পর আত্তারি-ওয়াঘা সীমান্ত এলাকা খুলে দিয়েছে পাকিস্তান। ফলে শুক্রবার সকাল থেকেই ভারতে আটকে থাকা পাকিস্তানি নাগরিকেরা সীমান্ত পেরিয়ে দেশে ফিরতে শুরু করেছেন। 

পহেলগামে জঙ্গি হামলার পর ভারত ও পাকিস্তান দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা বেড়েছে। এরই আঁচ এসে পড়েছে সীমান্ত এলাকাগুলিতে। পহেলগামে পর্যটকদের উপরে নির্বিচারে জঙ্গি হামলার ঘটনার জন্য ভারত সরাসরি পাকিস্তানকে দায়ী করে। এরপরই কড়া পদক্ষেপ করা হয় বিদেশ মন্ত্রকের তরফে। পাকিস্তানের নাগরিকদের ভিসা বাতিল করে জানিয়ে দেওয়া হয়, ২৯ এপ্রিলের মধ্যে তাঁদের ভারত ছেড়ে চলে যেতে হবে। সেইমতো, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পাকিস্তানি নাগরিকেরা পাঞ্জাবের আটারি সীমান্তে পৌঁছান। কিন্তু সেই সময় সীমান্ত বন্ধ করে দেয় পাকিস্তান। ফলে সীমান্তের দু’পাশেই বহু মানুষ, যাঁদের মধ্যে শিশু, মহিলা, প্রবীণ সকলেই ছিলেন— তাঁরা চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়েন। এরপর প্রায় ২৪ ঘণ্টা নীরবতার পর এই পদক্ষেপ করে ইসলামাবাদ। আটকে পড়া পাকিস্তানের নাগরিকদের মধ্যে অনেকেই ছিলেন বয়স্ক। অনেকে আবার আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন। তবে তাঁদের প্রত্যাবর্তনের জন্যও প্রস্তুতি ছিল ভারতের।
সীমান্তে অপেক্ষায় থাকে এক পাকিস্তানি যুবক বলেন, ‘আমি মাকে নিয়ে হরিদ্বারে এসেছিলাম তীর্থ করতে। ৪৫ দিনের  ভিসা থাকলেও তার আগেই ফিরে যাওয়ার নির্দেশ আসে। আজ সকালে সীমান্তে এসেও দেখেছি গেট বন্ধ, গভীর হতাশায় পড়ে যাই।’ এই যুবকের মতোেই সীমান্তে আটকে পড়েন  শিশু থেকে বৃদ্ধ অনেকেই।
 
অন্যদিকে পাকিস্তানেও সেখানে বসবাসকারী ভারতীয়দের ভিসা বাতিল করে দেশে ফেরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাকিস্তান থেকেও তাই গত কয়েক দিনে অনেকে ভারতে ফিরেছেন ওয়াঘা সীমান্ত পেরিয়ে। সীমান্তে এই আসা-যাওয়ার প্রক্রিয়া চলতে থাকায় সীমান্তে কঠোর নজরদারি চালাচ্ছে প্রশাসন।

প্রসঙ্গত, ২২ এপ্রিল জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগামে ভয়াবহ জঙ্গি হামলায় প্রাণ হারান ২৬ জন। এর পর থেকেই ভারত-পাক সম্পর্কের অবনতি ঘটতে থাকে। সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তি স্থগিত করে দেয় ভারত। বাতিল করেছে পাকিস্তানের উপর দিয়ে ভারতীয় বিমান চলাচলের অনুমতি। একই ভাবে পাকিস্তানও ভারতীয় পণ্যের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বন্ধ করেছে।

Advertisement

সীমান্ত এলাকায় নাগরিকদের দুর্ভোগ দুই দেশের সম্পর্কের অবনতির প্রতিচ্ছবি বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা। প্রসঙ্গত, যে দিন ভারত নির্দিষ্ট ভিসাগুলির বাতিল ঘোষণা করা হয়েছিল, তার পরের দিন বুধবার ১২৫ জন পাকিস্তানি নাগরিক আটারি-ওয়াঘা সীমান্ত দিয়ে দেশে ফিরে যান । গত এক সপ্তাহে মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯১১। বিপরীতে ভারতে প্রবেশের ক্ষেত্রেও ১৫২ জন ভারতীয় নাগরিক এবং ৭৩ জন দীর্ঘমেয়াদি ভারতীয় ভিসাধারী পাকিস্তানি নাগরিক অমৃতসর সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করেন।

Advertisement

ভিসার ধরন অনুযায়ী প্রস্থানের সময়সীমা ছিল- সার্ক ভিসার জন্য ২৬ এপ্রিল, অন্য ১২টি শ্রেণির জন্য ২৭ এপ্রিল এবং চিকিৎসা ভিসার জন্য ২৯ এপ্রিল।

Advertisement