কেন্দ্রীয় সরকারের সংস্থা ন্যাশনাল কাউন্সিল ফর এডুকেশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং সম্প্রতি অষ্টম শ্রেণির সোশ্যাল সায়েন্সের একটি বই প্রকাশ করেছে। বইটিতে ভারতের বিচার ব্যবস্থার দুর্নীতি ও দীর্ঘসূত্রিতার সমস্যার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বইটিতে বলা হয়েছে, ভারতের বিচার ব্যবস্থার প্রতিটি রন্ধ্রে দুর্নীতি রয়েছে। একইভাবে নিম্ন আদালত থেকে শুরু করে শীর্ষ আদালত পর্যন্ত বিপুল পরিমাণে বকেয়া মামলার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে বইটিতে। বলা হয়েছে, বিচারকাজে এই বিলম্ব বিচার থেকে বঞ্চিত হওয়ার সামিল।
বইয়ে বলা হয়েছে, দেশের নিম্ন আদালতে বর্তমানে প্রায় ৪ কোটি ৭০ লাখ, হাইকোর্টে ৬২ লাখ ৪০ হাজার এবং সুপ্রিম কোর্টে ৮১ হাজার মামলা বিচারাধীন রয়েছে। বিচারে বিলম্বের জন্য ক্ষতি হচ্ছে সাধারণ মানুষের। তাঁরা বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
Advertisement
বইটিতে নির্দিষ্টভাবে সুপ্রিম কোর্টের ২টি রায়ের সমালোচনা করা হয়েছে। এর একটি হল ইলেক্টোরাল বন্ড সংক্রান্ত, যা রাজনৈতিক দলগুলোর অর্থ সংগ্রহে স্বচ্ছতা আনার উদ্দেশ্যে চালু করা হয়েছিল। বলা হয়েছে রাজনৈতিক দলগুলির অর্থ সংগ্রহে স্বচ্ছতা আনার জন্য কেন্দ্রীয় সরকার ইলেক্টোরাল বন্ড চালু করেছিল।কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট এটি বাতিল করে দেয়। দ্বিতীয় যে রায়ের সমালোচনা করা হয়েছে সেটি হল তথ্যপ্রযুক্তি আইন সংশোধন সংক্রান্ত, যা ইন্টারনেটে আপত্তিজনক পোস্ট আটকানোর জন্য করা হয়েছিল, সেটিও শীর্ষ আদালত বাতিল করেছে।
Advertisement
বই প্রকাশের পর শিক্ষা ও রাজনৈতিক মহলে তুমুল আলোচনা শুরু হয়েছে। এনসিইআরটি-র অষ্টম শ্রেণির সোশ্যাল সায়েন্সের বইয়ে বিচার ব্যবস্থার গুরুত্ব সংক্রান্ত একটি অধ্যায় গত বছর পর্যন্ত ছিল। সোমবার নতুন যে বই প্রকাশিত হয়েছে সেখানে মূলত বিচার ব্যবস্থার নানা দিক সম্পর্কে সমালোচনা করা হয়েছে।বিচার ব্যবস্থায় দুর্নীতির বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর এবং তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।তবে এনসিইআরটি কর্তৃপক্ষ এখনও এই বিষয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া দেয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, বিচার ব্যবস্থায় দুর্নীতি ও বিলম্বের সমস্যা দীর্ঘদিনের। সদ্য অবসরপ্রাপ্ত সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি বিআর গাবাইও বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছিলেন। এছাড়া দিল্লি হাইকোর্টের এক বিচারপতির বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা উদ্ধারের ঘটনা নিয়ে সংসদে ইমপিচমেন্ট প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।
Advertisement



