নয়া জাতীয় শিক্ষানীতি স্বাধীন চিন্তা করতে শেখাবে: মোদি

তিন বছর ধরে সমীক্ষা, আলোচনা ও পরামর্শের ভিত্তিতে জাতীয় শিক্ষানীতির খসড়া তৈরি করা হয়েছে। কোনও কিছু জোর করে চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে না।

Written by SNS New Delhi | August 8, 2020 11:00 am

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Photo: IANS)

নয়া জাতীয় শিক্ষানীতির পক্ষে সওয়াল করতে গিয়ে এর আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাবা সাহেব আম্বেদকরের নাম উল্লেখ করেছিলেন। নয়া জাতীয় শিক্ষানীতির পক্ষে শুক্রবার সওয়াল করতে গিয়ে এবার নরেন্দ্র মোদির হাতিয়ার বীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং এ পি জে আব্দুল কালাম।

এদিন ইউজিসি আয়োজিত ‘কনক্লেভ অন টান্সফর্মেশনাল রিফর্মর্স ইন হায়ার এডুকেশন আন্ডার ন্যাশনাল এডুকেশন পলিসি’ শীর্ষক এক ভার্চুয়াল সভায় প্রধানমন্ত্রী মন্তব্য করেন, ‘রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছিলেন, উচ্চশিক্ষা শুধু আমাদের জ্ঞান দান করে না, নিজেদের অস্তিত্ব উপলব্ধি করতেও সাহায্য করে। নতুন জাতীয় শিক্ষানীতির বৃহত্তর দর্শন হচ্ছে সেটাই।’

এদিন প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তৃতায় উল্লেখ করেছেন প্রয়াত বিজ্ঞানী তথা প্রাক্তন রাষ্ট্রপতির কথাও। এদিন মোদি বলেন, ‘কালাম বলতেন, শিক্ষার উদ্দেশ্য হল উৎকর্ষ ও দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে ভালো মানুষ গড়ে তোলা। শিক্ষকরাই পারেন এমন মানুষ গড়তে।

শিক্ষানীতি পরিবর্তনের মূল উদ্দেশ্য হল উন্নত শিক্ষার্থী ও দক্ষ পেশাদারির পাশাপাশি জাতিকে আরও ভালো মানুষ উপহার দেওয়া। বিরোধীরা জাতীয় শিক্ষানীতি বদল তাড়াহুড়ো করে করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে। সংসদে আলোচনা এড়িয়ে এধরনের শিক্ষানীতি জোর করে বাস্তবায়িত করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে বিস্তর।

কিন্তু প্রধানমন্ত্রী সেই অভিযোগ এদিন উড়িয়ে দিয়েছেন। বলেছেন, ‘তিন বছর ধরে সমীক্ষা, আলোচনা ও পরামর্শের ভিত্তিতে জাতীয় শিক্ষানীতির খসড়া তৈরি করা হয়েছে। কোনও কিছু জোর করে চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে না। কোনও অঞ্চলের প্রতি পক্ষপাতিত্বও করা হয়নি। একুশ শতকের ভারতের চাহিদার কথা মাথায় রেখে উন্নয়নের শিখর ছুঁতে এই নতুন জাতীয় শিক্ষানীতি তৈরি করা হয়েছে। আগামী দিনে এই শিক্ষানীতি ভারতের ভিত্তি তৈরি করবে। যে আলোচনা চলছে দেশজুড়ে এধরনের আলোচনা এবং বিতর্ক দুইই জাতীয় শিক্ষানীতির পক্ষে স্বাস্থ্যকর।’

উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী রমেশ পোখরিয়াল, শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সঞ্জয় ধোতরে, প্রাক্তন ইসরো অধিকর্তা তথা নতুন জাতীয় শিক্ষানীতির পরামর্শদাতা কমিটির প্রধান কে কস্তুরিবঙ্গন সহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলির শীর্ষস্থানীয়রা এদিন প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সে ছিলেন।

এর আগে গত সপ্তাহে ‘স্মার্ট ইন্ডিয়া হ্যাকাথন ২০২০’ গ্র্যান্ড ফিনালের সূচনাপর্বে প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, নতুন শিক্ষানীতি লোকাল ও গ্লোবালের মধ্যে মেলবন্ধন ঘটাবে। এবং বাবা সাহেব আম্বেদকরের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করে শিক্ষা সুলভ হবে।

এদিন প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য ছিল, গ্লোবাল সিটিজেন হলেও শিকড় থেকে যাতে বিচ্ছিন্ন না হতে হয়, তার জন্য নতুন শিক্ষানীতি পথ দেখাবে। এদিন মোদি আরও বলেছেন, আগের শিক্ষানীতিতে উৎকর্ষ ও চাহিদার ভারসাম্য রাখার বিষয়টিতে নজর দেওয়া হয়নি। ফলে কখনও চিকিৎসক, কখনও ইঞ্জিনিয়ার, কখনও আইনজীবী হওয়ার প্রতিযোগিতা চলেছে। বর্তমান ও ভবিষ্যত প্রজন্মের স্বার্থে এই ইদুর দৌড় থেকে শিক্ষাকে সরিয়ে আনতে হবে।

৩৪ বছর ধরে চলে আসা পুরনো শিক্ষানীতিকে সরিয়ে নতুন শিক্ষানীতিতে স্কুল পাঠ্যক্রমে পরিবর্তন করায় দেশজুড়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এদিন সেই বিতর্কের জবাব দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, দেশবাসী শিক্ষানীতির বদল চাইছিলেন। সেই কারণেই এই পরিবর্তন। মেধা ও প্রযুক্তির মেলবন্ধন ঘটানোই লক্ষ্য এই নয়া শিক্ষানীতির। নতুন শিক্ষানীতি বদলে দেবে পুরো সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি। এবার নতুন শিক্ষানীতিতে জোর দেওয়া হয়েছে মাতৃভাষা বা আঞ্চলিক ভাষা শেখানোর ওপর।

এবিষয়ে মোদির ব্যাখ্যা, ‘বিভিন্ন সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, ছোটরা মাতৃভাষার মাধ্যমে শিক্ষালাভে বেশি স্বচ্ছন্দ বোধ করে। তাই এই বিষয়টির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত মাতৃভাষায় পড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। বিশ্ব শিক্ষানীতি থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে এই জাতীয় শিক্ষানীতি তৈরি করা হয়েছে। যুব সমাজের ক্ষমতা নিয়ে ভাবা হয়েছে। ফলে তাদেরকে সারা জীবন একই চাকরিতে আটকে থাকতে হবে না।

এইভাবেই নয়া জাতীয় শিক্ষানীতি নিয়ে দেশজুড়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে সেই বিতর্কের জবাব দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন আগামীর রূপরেখা। এখন সময়ই বলবে না জাতীয় শিক্ষানীতি কতটা সফল হল ছাত্রছাত্রীদের মেধার উৎকর্ষ বৃদ্ধিতে।