দীর্ঘদিন শূন্য থাকার পর কলকাতায় বাংলাদেশের উপ-হাই কমিশনের ডেপুটি হাই কমিশনার পদে নিয়োগ করা হয়েছে অভিজ্ঞ কূটনীতিক এমডি খালেদকে। প্রায় ২ বছর পর এই পদে নিয়োগ করা হচ্ছে খালেদকে। কূটনৈতিক সূত্রে খবর, খুব শীঘ্রই তিনি কলকাতায় এসে দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন। বর্তমানে এমডি খালেদ চিনের ইউনান প্রদেশের কুনমিংয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের দায়িত্ব পালন করছেন।
খালেদ বাংলাদেশ বিদেশ মন্ত্রকের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে কাজ করেছেন। পাশাপাশি ভারতের সঙ্গেও তাঁর কূটনৈতিক কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সেই কারণেই কলকাতার মতো গুরুত্বপূর্ণ মিশনে তাঁকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। খালেদ তাঁর কূটনৈতিক জীবনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। কুনমিংয়ে দায়িত্ব গ্রহণের পূর্বে তিনি ইয়াঙ্গন তথা মায়ানমার, লিসবন তথা পর্তুগাল এবং এথেন্স তথা গ্রিসে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসে বিভিন্ন দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন।
২০২৪ সালে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর কলকাতার ডেপুটি হাই কমিশনারের পদ কার্যত শূন্য হয়ে যায়। এরপর প্রায় দুই বছর ধরে এই দায়িত্ব পূর্ণ সময়ের কোনও কূটনীতিকের হাতে ছিল না। সেই সময় উপ-হাই কমিশনের প্রশাসনিক কাজকর্ম দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের মাধ্যমে চললেও পূর্নাঙ্গ প্রতিনিধি না থাকায় কিছু কূটনৈতিক কার্যক্রমে প্রভাব পড়েছিল বলে কূটনৈতিক মহলের একাংশের মত।
ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে মানুষে-মানুষে যোগাযোগ, বাণিজ্য, শিক্ষা, চিকিৎসা এবং সাংস্কৃতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে কলকাতার বাংলাদেশ উপ-হাই কমিশনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরত্বপূর্ণ। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ, উত্তর-পূর্ব ভারত এবং বাংলাদেশকে ঘিরে বিভিন্ন কনস্যুলার পরিষেবা, ভিসা সংক্রান্ত কাজ ও দ্বিপাক্ষিক যোগাযোগের অন্যতম কেন্দ্র এই দপ্তর।
এমডি খালেদের নিয়োগকে তাই শুধু একটি প্রশাসনিক পদ পূরণ হিসেবেই দেখা হচ্ছে না। দুই প্রতিবেশী দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও সক্রিয় ও কার্যকর করার ক্ষেত্রেও এই নিয়োগ গুরত্বপূর্ণ বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল। খালেদ জুলাই মাসের তৃতীয় সপ্তাহে, বিশেষত ১৫ই জুলাইয়ের পরে, কলকাতায় তাঁর নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারেন বলে কূটনৈতিক সূত্রে খবর।




