গত বছরে অপারেশন সিঁদুরে যে ছয় সেনাজওয়ান শহিদ হয়েছিলেন, তাঁদের নাম- পরিচয় প্রকাশ করল কেন্দ্রীয় সরকার। তাঁদের মরণোত্তর সম্মান প্রদানের কথা ঘোষণা করেছে দেশের সরকার।
গতবছরেই মে মাসে ‘অপারেশন সিঁদুরে’ শহিদ হয়েছিলেন রাইফেলম্যান সুনীল কুমার, সুবেদার মেজর পবন কুমার, ল্যান্স নায়েক দীনেশ কুমার, অগ্নিবীর মুড মুরলী নায়েক, হাবিলদার সুনীল কুমার সিং, বায়ুসেনার সার্জেন্ট সুরেন্দ্র কুমার। দেশের জন্য জীবন দেওয়া এই বীর সন্তানদের নাম বীরদের উৎসর্গীকৃত স্মৃতিসৌধের থ্রি-ডি দেওয়ালে খাদাই করা হয়েছে। দুজনকে মরণোত্তর বীরের সম্মান দেওয়া হয়েছে। রাইফেলম্যান সুনীল কে দেওয়া হয়েছে বীর চক্র সম্মান। ৮ জুন রাষ্ট্রপতির থেকে এই সম্মান গ্রহণ করেন শহিদ সুনীলের মা-বাবা। সার্জেন্ট সুনীলকে দেওয়া হয়েছে বায়ুসেনা পদক। কেন্দ্রের তরফে জানা গিয়েছে, সামরিক ঐতিহ্য মেনে নয়াদিল্লির জাতীয় যুদ্ধ স্মরকে ওই ছয় বীরের নাম খোদাই করা থাকবে।
২০২৫ সালের এপ্রিলে কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলায় প্রাণ গিয়েছিল ২৬ জনের। হামলার পিছনে ছিল পাকিস্তানী জঙ্গি গোষ্ঠীরা। মিলেছিল সেই প্রমানও। পাকিস্তান অভিযোগ অস্বীকার করেছিল। কিন্তু পাল্টা প্রত্যাঘাত করেছিল ভারত। সিঁদুর অভিযানে সে দেশের একাধিক জঙ্গিঘাঁটি ধ্বংস করেছিল ভারতীয় সেনারা। তবে তা করতে গিয়ে নিজেদের প্রাণের কথাও ভাবেনি ভারতের সেনারা।
অপারেশন সিঁদুর গোটা বিশ্বের কাছে ভারতীয় সেনাদের ক্ষমতাকে তুলে ধরেছিল। সেই সঙ্গে ভারতীয় যুদ্ধাস্ত্রের ক্ষমতাও চাক্ষুস করেছিল গোটা বিশ্ব। এই অপারেশনে পাকিস্তানের কোমড় ভেঙে দিয়েছিল ভারতীয় সেনাবাহিনী। এমনকি সমুদ্র থেকে প্রায় আক্রমণ শুরুও করে ফেলেছিল ভারতীয় নৌবাহিনী। কিন্তু সেই সময় পাকিস্তানের তরফে করা যুদ্ধবিরতির আর্জি মেনে আক্রমণ থামিয়েছিল ভারতীয় সেনারা। তবে তারপরে ভারতীয় সেনার উচ্চ পদস্থ আধিকারিকেরা সাংবাদিক সম্মেলন করে জানিয়েছিলেন কিভাবে আর কতটা আক্রমণ ভারতীয় সেনা করেছে পাকিস্তানে। যদিও ভারতীয় সেনার সেই আক্রমন থেকে এখনও পুরোপুরি ঠিক হতে পারেনি পাকিস্তানের সেনাবাহিনী। ভারতীয় সেনার আক্রমণে পাকিস্তানের ১১টি বায়ুসেনা ঘাঁটি রীতিমত ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। মৃত্যু হয়েছিল প্রায় ১০০ জন জওয়ান ও ৩৫-৪০ জন পাকিস্তানি সেনার। আর তাতেই হাঁটু কেঁপে গিয়েছিল ভারতীয় সেনার। বাধ্য হয়ে ভারতের কাছে যুদ্ধবিরতির আবেদন করেছিল। আর সেই দাবি মেনে নিয়েছিল ভারতীয় সেনা। পিছিয়ে এসেছিল আক্রমণ থেকে। বেঁচে গিয়েছিল পাকিস্তান।




