ইউনিসেফ কর্তৃক প্রকাশিত সাম্প্রতিক তথ্য-পরিসংখ্যান বলছে, বিশ্বের প্রায় ৩৫ কোটি ৬০ লক্ষ শিশু চরম দারিদ্রসীমার নীচে বসবাস করছে। ইউনিসেফের তালিকায় রয়েছে ভারতের নামও। ভারতের প্রতি হাজারটি শিশুর মধ্যে ৩৭টি শিশুর মৃত্যু হয় চরম অপুষ্টির শিকার হওয়ার কারণে। পুষ্টির অভাবে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুরা নানান ধরনের জটিল রোগ যেমন হাইপার টেনশন, সুগার, কিডনির অসুখে আক্রান্ত হচ্ছে। ইউনিসেফের রিপোর্ট বলছে, ভারতে অপুষ্টি বেড়েছে ২০১৫-এর পর থেকেই। এই পরিস্থিতিতে অপুষ্টি-ইস্যুকে হাতিয়ার করে কেন্দ্রের মোদী সরকারকে তীব্র নিশানা করেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ তথা দলের জাতীয় মুখপাত্র ডেরেক ও’ব্রায়েন৷ চলতি বছরের গ্লোবাল নিউট্রিশন রিপোর্ট ডেরেকের আক্রমণে শান দিয়েছে।
গ্লোবাল নিউট্রিশন রিপোর্ট অনুযায়ী, পাঁচ বছরের নিচে থাকা ভারতীয় শিশুদের ১৭ শতাংশ অপুষ্টিজনিত রোগে ভুগছে, যা গোটা বিশ্বে সর্বাধিক। তথ্য-পরিসংখ্যানকে হাতিয়ার করে ডেরেকের স্পষ্ট অভিযোগ, ‘মহিলাদের রক্তাল্পতা দূর করার জন্য ভারতে কোনও পদক্ষেপই গ্রহণ করা হয়নি৷ পাঁচ বছরের নিচে থাকা ভারতীয় শিশুদের ১৭ শতাংশ অপুষ্টিজনিত রোগে ভুগছে অর্থাৎ আমাদের দেশে ১৪ লক্ষ শিশু অপুষ্টিজনিত রোগের শিকার। ১০ লক্ষ লোক সিকল সেল ম্যালেরিয়ায় ভুগছে অপুষ্টির কারণে।’ এখানেই শেষ নয়, ডেরেক ও’ব্রায়েনের আরও অভিযোগ, ‘বিজেপিশাসিত রাজ্য উত্তরপ্রদেশে খাদ্য না পাওয়া শিশুদের সংখ্যা সব থেকে বেশি এবং মধ্যপ্রদেশে অপুষ্টির সঙ্গে লড়াই করার জন্য জনপিছু সরকারি বরাদ্দের পরিমাণ মাত্র ১২ টাকা!’
‘দেশের অপুষ্টির কদর্য ছবিটা ঢেকে রাখতে মরিয়া প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী’, অপুষ্টি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীকে এভাবেই বিঁধেছেন ডেরেক। পাশাপাশি নাম না করে ডেরেক তোপ দেগেছেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় নারী ও শিশুকল্যাণ মন্ত্রী স্মৃতি ইরানিকেও। প্রসঙ্গত, ২০১২ সালে ভারতের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অপুষ্টিজনিত সমস্যায় ভুগেছিল গুজরাট। সেই সময়ে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের তরফে গুজরাটের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর একটি সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছিল৷ তাঁর রাজ্যে শিশুদের মারাত্মক অপুষ্টির কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে নরেন্দ্র মোদী দাবি করেছিলেন, কন্যাসন্তানরা দুধ খেতে চায় না, মোটা হয়ে যাবে বলে!
এদের হাতে টাকা থাকলেও এরা বেশি মাত্রায় সৌন্দর্য্য-সচেতন৷ গুজরাটের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রীর এই হাস্যকর দাবি রীতিমতো বিস্ময় তৈরি করেছিল গোটা বিশ্বে৷ স্বাস্থ্য মহলের কটাক্ষের সম্মুখীন হতে হয়েছিল তৎকালীন গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রীকে। গুজরাট-কেন্দ্রিক চিত্রটাই এবার গোটা ভারতে প্রতিফলিত হলো, এমনই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। ভারতের অপুষ্টির জন্য রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে বিজেপিকেই। ইউনিসেফের রিপোর্ট বলছে, ২০১৯ সালের প্রথম দিনে ভারতে ৬৯ হাজার ৯৪৪ জন নবজাতকের জন্ম হয়েছে। এই বিপুল হারে জনসংখ্যা বৃদ্ধিই ভারতে অপুষ্টি বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। এই পরিস্থিতিতে জন্মহার নিয়ন্ত্রণেও ব্যর্থ কেন্দ্র, তোপ বিরোধীদের।




