• facebook
  • twitter
Friday, 30 January, 2026

দীর্ঘদিন সহবাসকে বিবাহ ধরে নেওয়া যাবে, সুপ্রিম কোর্টের বড় পর্যবেক্ষণ

উত্তরাধিকারে প্রভাব পড়বে কি?

প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র

সর্বোচ্চ আদালত জানিয়েছে, দীর্ঘদিন কোনো পুরুষ ও মহিলা একসঙ্গে থাকার পর সেই সম্পর্ককে বৈবাহিক ভাবাই যৌক্তিক—তৃতীয় পক্ষ যদি তা অস্বীকার করে এবং বৈবাহিক সম্পর্ক না-থাকার প্রমাণ হিসাবে ‘অকাট্য প্রমাণ’ দিতে না পারে। মৌলিক নীতি স্বরূপ সোমবার এই মন্তব্য করেন বিচারপতি সঞ্জয় কারোল ও বিচারপতি প্রশান্ত কুমারের ডিভিশন বেঞ্চ।

কর্ণাটকের একটি উত্তরাধিকার মামলার প্রেক্ষাপটে এই পর্যবেক্ষণ করা হয়। মামলার কেন্দ্রে ছিল দাসাভোবি নামে এক ব্যক্তির সম্পত্তি— এর মালিকানা কে পাবে তা নিয়েই বিবাদ। ভেঙ্কটাপ্পা ও সিদ্দামা দাবি করেছেন যে, তাঁদের মা দীর্ঘদিন ভিম্মাক্কারূপে ওই ব্যক্তির সঙ্গে সংসার করে এসেছিলেন এবং সেই সম্পর্ক থেকে তাঁদের জন্ম। অন্যদিক থেকে চৌদাম্মা ও তাঁর ছেলে বালাচরনাপ্পা দাবি করেন, চৌদাম্মাই বৈধ স্ত্রী ও উত্তরাধিকারী।

Advertisement

ঘটনার বিচারপর্বে কর্ণাটক হাইকোর্ট ২০১০ সালে ভেঙ্কটাপ্পা ও সিদ্দামার কাছে অনুকূল রায় দিয়েছিল। চৌদাম্মা সেই রায় চ্যালেঞ্জ করেন, পরবর্তীতে তিনি মারা গেলে অন্য কেউ তার হয়ে আপিল চালিয়ে যান। শীর্ষ আদালত আপিল খারিজ করে জানায় যে— যেখানে নৈমিত্তিক বা সাময়িক সম্পর্ক নয়, বরং বহু বছর ধরেই স্থায়ীভাবে একসঙ্গে থাকা প্রমাণিত, সেখানে সেই সম্পর্ককে বৈবাহিক হিসাবেই গ্রহণ করতে হবে। আদালতের ভাষায়, ‘তৃতীয় পক্ষ যতক্ষণ না অকাট্য প্রমাণ দিচ্ছে যে তাঁদের মধ্যে বৈবাহিক সম্পর্ক নেই, ততক্ষণ সেই সম্পর্ককে বৈবাহিক মনে না করার কোনো কারণ নেই’।

Advertisement

এই সিদ্ধান্তে সুপ্রিম কোর্টের পুরনো রায়গুলোর ধারাবাহিকতা লক্ষ্য করা গেছে— ১৯৭৮ সালে এবং প্রিভি কাউন্সিলকালের ১৯২৭ ও ১৯২৯ সালের কেসগুলোতেও একই মতামত পাওয়া যায় যে, দীর্ঘকাল একসঙ্গে বসবাসকে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক ধরে নেওয়া যেতে পারে, যতক্ষণ না তা খণ্ডন করার শক্ত প্রমাণ থাকে।

আইনবিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পর্যবেক্ষণ উত্তরাধিকার ও পারিবারিক আইন সম্পর্কিত বহু মামলায় উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে গ্রামীণ বা অনানুষ্ঠানিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে যেখানে বৈবাহিক দস্তাবেজ না থাকলেও বহু বছর ধরে সংসার চালানোর ঘটনা প্রচলিত— এ ধরনের সম্পর্কের সন্তানদের উত্তরাধিকার দাবি আরও সুদৃঢ় ভিত্তি পেতে পারে। অন্যদিকে, তৃতীয় পক্ষকে প্রতিরোধ করার জন্য আরও কঠোর ধরনের প্রমাণাদি উপস্থাপন করতে হবে।

শীর্ষ আদালত মামলাটি খারিজ করলেও আদালতের এই নীতিগত নির্দেশ ভবিষ্যতে অনুরূপ বিবাদে রায় প্রদানকালে মাইলফলক হিসেবে কাজে লাগবে বলে অভিমত প্রকাশ করেছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।

Advertisement