• facebook
  • twitter
Wednesday, 7 January, 2026

টাকা আদায় করতে অপহরণ

মেয়েটি কোনরকমে মুখের বাঁধা খুলে চিৎকার করলে প্রতিবেশীরা চলে আসেন। অবস্থা বেগতিক দেখে ট্রলি ব্যাগ রাস্তাতেই ফেলে রেখে পালিয়ে যান সঞ্জয়।

প্রতীকী চিত্র

ধারের টাকা ফিরে পেতে শিশুকে ট্রলি ব্যাগে ঢুকিয়ে অপহরণ করার চেষ্টা করলেন এক গৃহশিক্ষক। ইতিমধ্যেই অভিযুক্ত গৃহশিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি ঘটেছে নন্দীগ্রামের গড়চক্র বেড়িয়ার কাঁটাখালি এলাকায়। অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম সঞ্জয় পতি। তিনি শিমূলকুন্ডু গ্রামের বাসিন্দা। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সঞ্জয় একজনের বাড়ি পড়াতে যেতেন। ওই বাড়ির শিশুকেই দোলের দিন ট্রলি ব্যাগে ভরে অপহরণের চেষ্টা করেন সঞ্জয়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শিশুটির বাবা-মা ছোট ব্যবসায়ী। তাঁরা বেশিরভাগ সময়েই বাড়িতে থাকতেন না।

শুক্রবার দোলের দিনও তাঁরা বাড়িতে ছিলেন না। আর এই সুযোগটিই কাজে লাগান সঞ্জয়। অভিযোগ, শিশুটিকে ট্রলি ব্যাগে ভরে অপহরণের চেষ্টা করেন তিনি। প্রথমে নিঃশব্দে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যেতে চান। কিন্তু বেরোনোর সময় ওই বাড়ির ৯ বছরের একটি মেয়ে তাঁকে দেখে ফেলে। কিন্তু সঞ্জয় তাঁকেও রেয়াত করেননি। মেয়েটির মুখ হাত-পা বেঁধে সেখানেই ফেলে রেখে চলে যাওয়ার চেষ্টা করেন।

Advertisement

মেয়েটি কোনরকমে মুখের বাঁধা খুলে চিৎকার করলে প্রতিবেশীরা চলে আসেন। অবস্থা বেগতিক দেখে ট্রলি ব্যাগ রাস্তাতেই ফেলে রেখে পালিয়ে যান সঞ্জয়। খবর যায় পুলিশে। তারা ট্রলিব্যাগটি উদ্ধার করে নন্দীগ্রাম-২ ব্লকের ঘোলপুকুরিয়া এলাকা থেকে। শিশুটিকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে পাঠানো হয়। খোঁজ শুরু হয় সঞ্জয়ের। শনিবার তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

Advertisement

এছাড়াও এই ঘটনায় গ্রেপ্তার হয়েছে আরও চারজন। জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পারে, শিশুর বাবা সঞ্জয়ের থেকে দশ হাজার টাকা ধার নিয়েছিলেন। কিন্তু অনেকবার বলা সত্ত্বেও তা ফেরত দিচ্ছিলেন না। তাই টাকা আদায়ের জন্য অপহরণের ছক কষেন সঞ্জয়। পুলিশের জেরায় সঞ্জয় জানিয়েছেন, টাকা পেলেই শিশুটিকে ছেড়ে দিতেন তিনি। অন্য কোনো খারাপ উদ্দেশ্য তাঁর ছিল না। এই কাজটি করার জন্য তাঁকে পরামর্শ দিয়েছিলেন এক বন্ধু। সমস্ত বিষয়টি খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

Advertisement