সবরীমালা মন্দিরে সোনা চুরির ঘটনায় গঠিত বিশেষ কমিটির তদন্তের অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করল কেরল হাইকোর্ট। মামলার তদন্ত আরও সুচারুভাবে সম্পন্ন করার জন্য এই বিশেষ দলকে অতিরিক্ত ছ’সপ্তাহ সময় দিয়েছে বিচারপতি রাজা বিজয় রাঘবন ভি এবং বিচারপতি কেভি জয়কুমারের ডিভিশন বেঞ্চ।
এদিন আদালতে পেশ করা তদন্ত রিপোর্ট খতিয়ে দেখে বিচারপতিরা জানান, এখনও পর্যন্ত তদন্তের গতিপ্রকৃতি আশাব্যঞ্জক। একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সূত্র ও নথি সংগ্রহ করা হয়েছে এবং বেশ কিছু সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়েছে। তবে তদন্তের পরিধি আরও বিস্তৃত হওয়ায়, সমস্ত দিক খতিয়ে দেখতে অতিরিক্ত সময় প্রয়োজন বলে আদালতের কাছে আবেদন জানায় বিশেষ তদন্তকারী দল।
Advertisement
প্রসঙ্গত, এই মামলাটি ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই রাজ্যজুড়ে ব্যাপক চর্চা ও রাজনৈতিক বিতর্ক চলছিল। সবরীমালা মন্দিরে ভক্তদের দান করা সোনা সংরক্ষণ ও তার হিসাব সংক্রান্ত বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল বলে আদালত মন্তব্য করেছে। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত সম্পত্তি ও দানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রশাসনের অন্যতম দায়িত্ব বলেও পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করা হয়েছে। আদালতের মতে, এই মামলায় কোনও ধরনের তাড়াহুড়ো না করে পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তই একমাত্র গ্রহণযোগ্য।
Advertisement
বিশেষ তদন্ত দল আদালতকে জানিয়েছে, সোনা সংরক্ষণের প্রক্রিয়া, পরিবহণ ব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি আগের বছরগুলির নথি ও অডিট রিপোর্টও পুনরায় পরীক্ষা করা হচ্ছে। তদন্তে কোনও গাফিলতি বা অনিয়ম ধরা পড়লে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।
এই মামলাকে ঘিরে বিভিন্ন পক্ষের তরফে দ্রুত চার্জশিট দাখিলের দাবি উঠলেও আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তদন্তের মানের সঙ্গে কোনও আপস করা হবে না। বিচারপতিদের মতে, সঠিক ও নিরপেক্ষ তদন্তই এই ঘটনার প্রকৃত সত্য সামনে আনতে পারে।
আদালতের এই নির্দেশের পর বিশেষ তদন্ত দল নতুন সময়সীমার মধ্যে বাকি কাজ শেষ করার প্রস্তুতি শুরু করেছে। আগামী ছ’সপ্তাহ পর মামলার অগ্রগতি নিয়ে ফের কেরল হাইকোর্টে রিপোর্ট জমা দেওয়া হবে। এখন এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিকে নজর রাজ্যবাসীর।
Advertisement



