ভারতে সন্ত্রাসী হামলার ছক কষার অভিযোগে লস্কর-ই-তৈবার সদস্য শাব্বির আহমেদ লোনকে দিল্লি থেকে গ্রেপ্তার করেছে কেন্দ্রীয় সংস্থা ও দিল্লি পুলিশের বিশেষ শাখা। জানা যাচ্ছে, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে দিল্লির সীমান্ত থেকে এই জঙ্গিকে গ্রেপ্তার করা হয়। শাব্বির, রাজা ও কাশ্মীরি নামেও পরিচিত, জম্মু ও কাশ্মীরের শ্রীনগর জেলার কাঙ্গানের বাসিন্দা। গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে, তিনি দীর্ঘদিন বাংলাদেশে আত্মগোপন করে সেখান থেকেই ভারতের বিরুদ্ধে নাশকতামূলক কার্যকলাপ পরিচালনা করছিলেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের নির্দেশে কাজ করতেন শাব্বির। বাংলাদেশে বসে তিনি স্থানীয় তরুণদের লস্করের জঙ্গি হিসেবে নিয়োগ করতেন এবং ভারতে অবৈধভাবে বসবাসকারী কিছু বাংলাদেশি নাগরিককেও সন্ত্রাসমূলক কাজে যুক্ত করতেন। সম্প্রতি দিল্লি ও আশপাশ এলাকায় সক্রিয় একটি জঙ্গি নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে অভিযানে নেমে পুলিশ বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে। সেই সূত্র ধরেই শাব্বিরের হদিশ মেলে।
Advertisement
তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, গত দুই দশকের বেশি সময় ধরে লস্করের সঙ্গে যুক্ত শাব্বির পাকিস্তানের মুজফ্ফরাবাদে জঙ্গি প্রশিক্ষণ নেয়। তিনি ‘দওড়া-এ-আম’ ও ‘দওড়া-এ-খাস’— উভয় স্তরের প্রশিক্ষণই সম্পন্ন করেন। ২০০৭ সালে দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেলের হাতে অস্ত্রসহ প্রথমবার গ্রেপ্তার হন তিনি। তাঁর কাছ থেকে একে-৪৭ উদ্ধার হয়েছিল। যার জেরে ১১ বছর তিহার জেলে বন্দি ছিল এই অপরাধী। ২০১৮ সাল পর্যন্ত তিনি তিহাড় জেলে বন্দি ছিলেন, পরে জামিনে মুক্তি পান এবং এরপর বাংলাদেশে পালিয়ে যান।
Advertisement
তদন্তকারীদের তরফে জানা যাচ্ছে, শুধু জঙ্গি হামলার পরিকল্পনা নয় লস্করের নয়া মডিউলে সদস্য বাড়ানোরও দায়িত্ব ছিল লোনের উপর। ২০০৭ সালে ২৬/১১ মুম্বই হামলার ষড়যন্ত্রী হাফিজ সইদ ও লস্কর কমান্ডার জাকিউর রহমান লাখভির সঙ্গেও সরাসরি যোগ ছিল লোনের। বর্তমানে তাঁকে জেরা করে ভারতে সম্ভাব্য হামলার পরিকল্পনা, সহযোগী ও নেটওয়ার্ক সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানার চেষ্টা করছে তদন্তকারী সংস্থাগুলি।
Advertisement



