• facebook
  • twitter
Wednesday, 7 January, 2026

জেএনইউ ক্যাম্পাসে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নিয়ে ‘উস্কানিমূলক’ স্লোগান

এফআইআর-এর দাবি জানিয়ে দিল্লি পুলিশের দ্বারস্থ বিশ্ববিদ্যালয়

জেএনইউয়ে পড়ুয়াদের বিক্ষোভ।

‘উস্কানিমূলক’ ও ‘আপত্তিকর’ স্লোগান দেওয়ার অভিযোগে তীব্র বিতর্ক ছড়াল জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে। খোদ দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে লক্ষ্য করে এই স্লোগান ওঠে বলে অভিযোগ। সোমবার রাতে ক্যাম্পাসে ঘটে যাওয়া ওই ঘটনার পর এ বার এফআইআর দায়েরের দাবিতে দিল্লি পুলিশের শরণাপন্ন হল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার দুপুরে দিল্লির বসন্ত কুঞ্জ থানার স্টেশন হাউস অফিসারকে চিঠি লিখেছেন জেএনইউ-এর মুখ্য নিরাপত্তা আধিকারিক। চিঠিতে অভিযোগ করা হয়েছে, ২০২০ সালের দিল্লি হিংসা মামলায় সুপ্রিম কোর্ট জেএনইউ-এর দুই প্রাক্তন ছাত্রনেতা উমর খালিদ ও শারজিল ইমামের জামিনের আবেদন খারিজ করার পরই একদল পড়ুয়া ক্যাম্পাসে জমায়েত করে বিক্ষোভ দেখান। ওই বিক্ষোভ চলাকালীন সবরমতী হস্টেলের বাইরে প্রধানমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরুদ্ধে বিতর্কিত স্লোগান দেওয়া হয়।

Advertisement

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, সোমবার রাতের ওই বিক্ষোভের একাধিক ভিডিয়ো ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে এসেছে। সেই ভিডিও ঘিরে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। নিরাপত্তা আধিকারিকের চিঠিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, এ ধরনের স্লোগান গণতান্ত্রিকভাবে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। এবং জেএনইউ-এর আচরণবিধির সরাসরি লঙ্ঘন। এতে প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা, সম্প্রীতি ও ক্যাম্পাসের সামগ্রিক নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলেও চিঠিতে দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি বলা হয়েছে, ওই স্লোগানগুলি কোনও ভাবেই স্বতঃস্ফূর্ত বা অনিচ্ছাকৃত নয়। বরং ইচ্ছাকৃত ও সচেতনভাবেই দেওয়া হয়েছে।

Advertisement

দিল্লি পুলিশকে পাঠানো চিঠিতে অদিতি মিশ্র, গোপিকা বাবু, সুনীল যাদব, দানিশ আলি, সাদ আজমি, মেহবুব ইলাহি, শুভম ও পকীজা খান-সহ একাধিক পড়ুয়ার নাম উল্লেখ করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, নাম উল্লেখ থাকা পড়ুয়ারা সকলেই ওই জমায়েতে উপস্থিত ছিলেন।

তবে এই অভিযোগ মানতে নারাজ জেএনইউ ছাত্র সংসদের সভাপতি অদিতি মিশ্র। তিনি জানিয়েছেন, ২০২০ সালের ৫ জানুয়ারি ক্যাম্পাসে ঘটে যাওয়া হিংসার ঘটনার প্রতিবাদে প্রতি বছর ওই দিন পড়ুয়ারা বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন। তাঁর দাবি, ওই কর্মসূচিতে ওঠা স্লোগান আদর্শগত ছিল, কাউকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করা তাঁদের উদ্দেশ্য ছিল না।

উল্লেখ্য, ২০২০ সালের সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন বিরোধী আন্দোলনের সময় দিল্লিতে সংঘটিত হিংসায় ৫৩ জনের মৃত্যু হয়েছিল। ওই মামলায় ‘অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রে’ যুক্ত থাকার অভিযোগে জেএনইউ-এর প্রাক্তনী উমর খালিদ ও শারজিল ইমাম-সহ একাধিক জনকে গ্রেপ্তার করে দিল্লি পুলিশ। তাঁদের বিরুদ্ধে বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইনে মামলা রুজু করা হয়। সোমবার সুপ্রিম কোর্ট উমর ও শারজিলের জামিনের আবেদন খারিজ করেছে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, অন্তত এক বছর পরে ফের জামিনের আবেদন করতে পারবেন তাঁরা। যদিও ওই মামলায় বাকি পাঁচ অভিযুক্তকে জামিন দিয়েছে শীর্ষ আদালত।

এই পরিস্থিতিতে জেএনইউ ক্যাম্পাসে ঘটে যাওয়া বিক্ষোভ এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এফআইআর করার সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।

Advertisement