• facebook
  • twitter
Thursday, 21 May, 2026

‘বন্দে মাতরম’ বাধ্যতামূলক করা যায় না, মত জামাত-ই-ইসলামি হিন্দের নেতার

‘বন্দে মাতরম’ কাউকে জোর করে গাওয়ানো যায় না বলে মন্তব্য করলেন জামাত-ই-ইসলামি হিন্দের সহ-সভাপতি মালিক মোহতাসিম খান। ইদে গরু কোরবানি নিয়েও সংযমের আবেদন জানান তিনি।

‘বন্দে মাতরম’ গান বাধ্যতামূলক করা নিয়ে তীব্র আপত্তি জানালেন জামাত-ই-ইসলামি হিন্দের সহ-সভাপতি মালিক মোহতাসিম খান। পশ্চিমবঙ্গের মাদ্রাসাগুলিতে ‘বন্দে মাতরম’ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে বলে যে খবর সামনে এসেছে, তার প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, কোনও সরকার নাগরিকদের উপর নির্দিষ্ট কোনও গান গাওয়ার চাপ সৃষ্টি করতে পারে না।

এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মালিক মোহতাসিম খান বলেন, দেশপ্রেম বা দেশের প্রতি শ্রদ্ধা জোর করে চাপিয়ে দেওয়া যায় না। তাঁর বক্তব্য, ‘আমাদের জাতীয় সঙ্গীত “জন গণ মন” নিয়েও অতীতে বাধ্যতামূলক করার প্রশ্নে বিতর্ক হয়েছিল। দেশকে ভালবাসা এবং দেশের প্রতি শ্রদ্ধা সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত অনুভূতির বিষয়। কোনও সরকার নাগরিকদের বলে দিতে পারে না, কোন গান গাইতে হবে আর কোন গান গাওয়া যাবে না। এই বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের স্পষ্ট নির্দেশও রয়েছে।’

Advertisement

তিনি আরও বলেন, কেউ চাইলে ‘বন্দে মাতরম’ গাইতেই পারেন। কিন্তু কেউ যদি তা গাইতে না চান, তাহলে তাঁকে বাধ্য করা উচিত নয়। তাঁর মতে, মাদ্রাসাগুলিরও এই বিষয়ে নিজেদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার রয়েছে। মালিক মোহতাসিম খানের বক্তব্য, ‘এটি যদি শুধুমাত্র পরামর্শ হিসেবে দেওয়া হয়, তাহলে আলাদা বিষয়। কিন্তু সেটিকে বাধ্যতামূলক নির্দেশে পরিণত করা হলে তা সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনার বিরোধী হবে।’

Advertisement

এদিন ইদ-উল-আজহা উপলক্ষে গবাদি পশু জবাই সংক্রান্ত বিধিনিষেধ নিয়েও মন্তব্য করেন জামাত নেতা। তিনি বলেন, মুসলিম সম্প্রদায়ের কাছে কোরবানির জন্য গরু ছাড়াও মহিষ, ছাগল, ভেড়া-সহ একাধিক বিকল্প রয়েছে। ফলে গরু কোরবানি নিয়ে জোরাজুরি না করার জন্য পশ্চিমবঙ্গের মুসলিম সমাজের কাছেও আবেদন জানান তিনি। তাঁর বক্তব্য, ‘আমাদের কাছে বহু হালাল বিকল্প রয়েছে। তাই গরু কোরবানি নিয়েই জোর দেওয়ার প্রয়োজন নেই।’

তবে একই সঙ্গে গবাদি পশুর বেচাকেনার উপর কড়া বিধিনিষেধের সমালোচনাও করেন তিনি। তাঁর দাবি, দেশের গ্রামীণ অর্থনীতির একটি বড় অংশ পশুপালন এবং গবাদি পশুর ব্যবসার উপর নির্ভরশীল। এই ধরনের নিষেধাজ্ঞা অর্থনীতির উপরও যথেষ্ট প্রভাব ফেলতে পারে। তিনি আরও দাবি করেন, দেশে বহু বড় কসাইখানা রয়েছে যেখানে গরুর মাংস প্রক্রিয়াকরণ এবং রপ্তানি করা হয়। সেই ক্ষেত্রেও সমানভাবে নজর দেওয়া উচিত বলে মত তাঁর।

Advertisement