• facebook
  • twitter
Saturday, 17 January, 2026

কাস্ট সেন্সাসে অংশ নেবেন না, লিখিত প্রত্যাখ্যান সুধা-নারায়ণ মূর্তির

ইনফোসিস পরিবার

সুধা-নারায়ণ মূর্তির পরিবার।

কর্নাটকের জাতিগত সমীক্ষা বা কাস্ট সেন্সাসে অংশগ্রহণ করবেন না বলে লিখিতভাবে জানিয়ে দিয়েছেন ইনফোসিস প্রতিষ্ঠাতা নারায়ণ মূর্তির পরিবার। রাজ্যসভার সাংসদ ও নারায়ণ মূর্তির স্ত্রী সুধা মূর্তির বক্তব্য, তাঁরা এই সমীক্ষার মাধ্যমে সরকারের কাজে কার্যত কোনো ভূমিকা রাখবে না। ফলে এই কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করলে তাতে তাঁদের কোনও উপকার হবে না।

তবে এই সমীক্ষায় না যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্তের জন্য তাঁরা ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়েছেন। সুধা মূর্তির পরিবার একথাও বলেছে যে, তাঁরা সমাজের পিছিয়ে পড়া অংশের প্রতিনিধি নন, ফলে নিজেকে সেই শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত করে তথ্য প্রদানের অনিচ্ছা ব্যক্ত করেছেন। মূর্তি দম্পতি প্রশাসনকে সরাসরি তাঁদের এই অবস্থান জানিয়েছেন।

Advertisement

প্রসঙ্গত, কর্নাটকে এই জাতিগত সমীক্ষা চালাচ্ছে ‘কর্নাটক স্টেট কমিশন ফর ব্যাকওয়ার্ড ক্লাস’। প্রশাসনের পরিকল্পনা অনুসারে, ২২ সেপ্টেম্বর থেকেই সমীক্ষা শুরু হয়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ৬০টি প্রশ্নের উত্তর নেওয়া হচ্ছে। পুরো প্রক্রিয়া ১৯ অক্টোবরের মধ্যে শেষ করে ডিসেম্বরের মধ্যে রিপোর্ট দাখিলের কথা। এই সমীক্ষা করাতে মোট খরচ ধার্য করা হয়েছে ৬০ কোটি টাকা।

Advertisement

রাজ্য সরকারের তৎপরতা ও সমীক্ষার স্বচ্ছতা নিয়ে জনমনে উদ্বেগ থাকা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট দপ্তর বারবার নিশ্চিত করেছে যে, সমীক্ষায় সংগৃহীত যাবতীয় তথ্য গোপন রাখার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। তবু মূর্তি পরিবারের বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, ব্যক্তিগত বিবেচনায় তাঁরা এই নিশ্চয়তাকে যথেষ্ট মনে করছেন না।

এই প্রসঙ্গে কর্নাটকের উপ-মুখ্যমন্ত্রী ডিকে শিবকুমার বলেছেন, ‘এই সমীক্ষায় যোগ দেওয়ার জন্য আমরা কাউকে জোর করতে পারি না। অংশগ্রহণ সম্পূর্ণ ঐচ্ছিক।’ উল্লেখ্য, কর্নাটক হাইকোর্টও সেপ্টেম্বরের মধ্যে নির্দেশ দিয়েছিল, জাতিগত সমীক্ষায় যোগ দেওয়া একেবারেই ঐচ্ছিক এবং প্রশাসনকে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তা স্পষ্টভাবে জানাতে হবে। হাই কোর্টের রায় অনুযায়ী, ইচ্ছুক না থাকলে কেউ তাঁর ব্যক্তিগত তথ্য দিতে বাধ্য নয়।

তবে সুধা মূর্তির পরিবার সমীক্ষায় অংশ না নেওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই রাজ্যজুড়ে বিতর্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন নামিদামি পরিবারের প্রত্যাখ্যান সমাজের কিছু অংশে মানুষের সন্দেহকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। ফলে সরকারের গোপনীয়তা ও কার্যক্রম  নিয়ে অতিরিক্ত পর্যালোচনা বাড়বে। অন্যদিকে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে আবার বলা হচ্ছে, ব্যক্তিগত বক্তব্যকে সম্মান করা হবে এবং রাজ্যের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর প্রকৃত চিত্র তৈরিতেই এই সমীক্ষা প্রয়োজনীয়।

মূর্তি পরিবারের লিখিত ঘোষণায় তাঁদের অবস্থান ও হাইকোর্টের রায়— দুই দিককেই সামনে রেখে এখন দেখার বিষয়, কীভাবে সমীক্ষার ফলপ্রকাশ ও নথি গ্রহণের প্রক্রিয়া এগোতে পারে এবং কীভাবে মানুষের আস্থা পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হবে।

Advertisement