ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদির মৃত্যুর পর থেকে বাংলাদেশে যে অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়েছে, তা নিয়ে অবশেষে মুখ খুলল ভারত। সরকারি ভবন ও সংবাদপত্রের দপ্তরে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগের পাশাপাশি সংখ্যালঘুদের উপর নৃশংস অত্যাচারের অভিযোগ সামনে আসতেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দিল্লি। ময়মনসিংহে দীপুচন্দ্র দাস নামে এক যুবককে পিটিয়ে খুন করার ঘটনায় দোষীদের দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি জানিয়েছে ভারত।
বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এক বিবৃতিতে বলেন, ‘বাংলাদেশের পরিস্থিতির দিকে কঠোরভাবে নজর রাখছে ভারত। সে দেশের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমাদের আধিকারিকরা নিয়মিত যোগাযোগে রয়েছেন। সংখ্যালঘুদের উপর হামলার ঘটনায় আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন— তা বাংলাদেশকে জানানো হয়েছে। ময়মনসিংহে দীপুর নৃশংস হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনতেই হবে, এই আবেদন আমরা জানিয়েছি।’
Advertisement
এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে দিল্লিতে অবস্থিত বাংলাদেশি দূতাবাসের সামনে শনিবার এক দল যুবক বিক্ষোভ দেখান। কয়েকটি বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যমে ওই ঘটনার ভুয়ো ও অতিরঞ্জিত বর্ণনা প্রকাশিত হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। এ প্রসঙ্গে রণধীর বলেন, ‘বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমের একাংশের ভুয়ো প্রচার চোখে পড়ছে। সত্যিটা হল, শনিবার দূতাবাসের সামনে ২০–২৫ জন যুবক শান্তিপূর্ণভাবে জড়ো হয়েছিলেন। তাঁরা ময়মনসিংহে দীপুর হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ জানান এবং বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের সুরক্ষার দাবি তোলেন। দূতাবাসে জোর করে প্রবেশের কোনও চেষ্টা হয়নি। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুরো ঘটনার দৃশ্য প্রকাশ্যেই রয়েছে।’ পাশাপাশি, ভারতের মাটিতে অবস্থিত যে কোনও বিদেশি প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে দিল্লি বদ্ধপরিকর বলেও জানান তিনি।
Advertisement
উল্লেখ্য, ময়মনসিংহের একটি বাড়িতে ভাড়া থাকতেন ২৭ বছরের যুবক দীপুচন্দ্র দাস। তিনি একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। বৃহস্পতিবার রাতে হাদির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ছড়িয়ে পড়া অশান্তির মধ্যেই উন্মত্ত জনতার হাতে দীপু আক্রান্ত হন বলে অভিযোগ। স্থানীয় সূত্রের দাবি, তাঁকে প্রকাশ্যে পিটিয়ে খুন করা হয়। তার পর দেহ একটি গাছে ঝুলিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। সেই নৃশংসতার দৃশ্য সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই দেশজুড়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
এই ঘটনায় ইতিমধ্যে ১২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে বাংলাদেশের পুলিশ। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস পৃথক বিবৃতিতে কঠোর পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছেন। পুলিশ প্রশাসনও তদন্তের কথা জানিয়েছে। তবু এই হত্যাকাণ্ডের পর বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে আতঙ্ক আরও গভীর হয়েছে বলেই মনে করছে ভারত। সেই উদ্বেগ প্রকাশ করেই দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাল দিল্লি।
Advertisement



