• facebook
  • twitter
Wednesday, 14 January, 2026

রাফালেই ভরসা, ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ ছাতার তলায় ভারতে তৈরি হতে পারে ১১৪ যুদ্ধবিমান

২০২০ সালের জুলাই মাস থেকে ধাপে ধাপে ভারতীয় বায়ুসেনার হাতে এসেছে ফ্রান্স থেকে কেনা ৩৬টি রাফাল যুদ্ধবিমান। এর মধ্যে আটটি ছিল দু’আসনবিশিষ্ট প্রশিক্ষণ বিমান।

‘আত্মনির্ভর ভারত’ এবং ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ কর্মসূচিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিতে বড়সড় প্রতিরক্ষা পরিকল্পনার পথে হাঁটতে চলেছে কেন্দ্রীয় সরকার। ফ্রান্সের প্রতিরক্ষা সংস্থা দাসো অ্যাভিয়েশনের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে ভারতে রাফাল যুদ্ধবিমানের গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ উৎপাদন এবং মোট ১১৪টি যুদ্ধবিমান নির্মাণের প্রস্তুতি শুরু করেছে দিল্লি। প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সূত্রে খবর, চলতি সপ্তাহেই এই প্রকল্প নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

প্রায় ৩ লক্ষ ২৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের এই প্রস্তাবিত চুক্তি চূড়ান্ত হলে তা স্বাধীন ভারতের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ প্রতিরক্ষা চুক্তি হিসেবে নজির গড়তে পারে। ইতিমধ্যেই প্রতিরক্ষা সচিবের নেতৃত্বাধীন ডিফেন্স প্রোকিওরমেন্ট বোর্ড (ডিআরবি) প্রকল্পটির প্রাথমিক মূল্যায়ন সম্পন্ন করেছে। ডিআরবি-র অনুমোদন মিললেই প্রস্তাবটি প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহের নেতৃত্বাধীন ডিফেন্স অ্যাকুইজিশন কাউন্সিলের (ডিএসি) সামনে পেশ করা হবে।

Advertisement

পরিকল্পনা অনুযায়ী, যৌথ উদ্যোগে তৈরি রাফাল যুদ্ধবিমানের প্রথম পর্যায়ে প্রায় ৩০ শতাংশ যন্ত্রাংশ দেশীয় সংস্থার মাধ্যমে উৎপাদিত হবে। ধাপে ধাপে এই হার বাড়িয়ে ৬০ শতাংশে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য স্থির করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রস্তাবিত ১১৪টি যুদ্ধবিমানের মধ্যে ১৮টি সরাসরি ফ্রান্স থেকে আমদানি করা হবে বলে জানা গিয়েছে। তুলনায় রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা হ্যাল নির্মিত তেজস যুদ্ধবিমানের উন্নত সংস্করণে বর্তমানে প্রায় ৬২ শতাংশ দেশীয় উপাদান ব্যবহৃত হচ্ছে।

Advertisement

উল্লেখ্য, ২০২০ সালের জুলাই মাস থেকে ধাপে ধাপে ভারতীয় বায়ুসেনার হাতে এসেছে ফ্রান্স থেকে কেনা ৩৬টি রাফাল যুদ্ধবিমান। এর মধ্যে আটটি ছিল দু’আসনবিশিষ্ট প্রশিক্ষণ বিমান। সীমান্তে উত্তেজনাকালীন পরিস্থিতিতে রাফালের কার্যকারিতা এবং অপারেশনাল সাফল্যে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন বায়ুসেনার শীর্ষ কর্তারা। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই প্রধানমন্ত্রী নেতৃত্বাধীন নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রিগোষ্ঠী গত বছর আরও রাফাল সংগ্রহ বা ভারতে যৌথ উৎপাদনের বিষয়ে নীতিগত সম্মতি দেয়।

বর্তমানে মিগ-২১ এবং মিগ-২৩-এর মতো পুরনো যুদ্ধবিমান অবসর নেওয়ায় বায়ুসেনার স্কোয়াড্রন সংখ্যায় ঘাটতি তৈরি হয়েছে। সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধুমাত্র তেজস মার্ক-১এ দিয়ে সেই ঘাটতি পূরণ করা কঠিন। এই বাস্তবতায় ‘অপারেশন সিঁদুর’-এ পরীক্ষিত রাফাল যুদ্ধবিমানকেই ভবিষ্যতের প্রধান ভরসা হিসেবে দেখতে চাইছে বায়ুসেনা।

নতুন পরিকল্পনায় শুধু অতিরিক্ত রাফাল সংগ্রহ নয়, বর্তমানে ব্যবহৃত রাফাল এফ-৩আর প্লাস যুদ্ধবিমানগুলিকে আরও উন্নত রাফাল এফ-৫ সংস্করণে রূপান্তরের বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতের ফিউচার কমব্যাট এয়ার সিস্টেম-এর জন্য ভারতীয় বায়ুসেনাকে প্রযুক্তিগতভাবে প্রস্তুত করে তোলাই কেন্দ্রের মূল লক্ষ্য।

Advertisement