• facebook
  • twitter
Tuesday, 3 February, 2026

মোদী ছাড়াই ট্রাম্প কেন বাণিজ্য চুক্তি ঘোষণা করলেন? সরব কংগ্রেস

কৃষিক্ষেত্র নিয়েও কংগ্রেসের উদ্বেগ তীব্র। ট্রাম্পের বক্তব্যে আমেরিকার জন্য ভারতের কৃষিক্ষেত্র উন্মুক্ত করার ইঙ্গিত রয়েছে বলে দাবি করেছে তারা।

ভারত-আমেরিকার সম্ভাব্য বাণিজ্যচুক্তি ঘিরে মোদী সরকারের ভূমিকা ও স্বচ্ছতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলল কংগ্রেস। কেন এত গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যচুক্তির ঘোষণা ভারত সরকার বা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর তরফে না এসে একতরফাভাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প করলেন— এই প্রশ্নে সরব হয়েছে বিরোধী শিবির। একই সঙ্গে চুক্তির সম্পূর্ণ বিস্তারিত প্রকাশের দাবি জানানো হয়েছে।

সোমবার রাতে ভারতীয় সময় অনুযায়ী ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর ট্রুথ সোশ্যাল মাধ্যমে ভারত-আমেরিকার মধ্যে একটি নিশ্চিত বাণিজ্যচুক্তি বা শুল্ক সমঝোতায় পৌঁছনোর কথা ঘোষণা করেন। সেই পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, ‘প্রধানমন্ত্রী মোদীর প্রতি বন্ধুত্ব ও শ্রদ্ধার কারণে তাঁর অনুরোধে আমরা ভারত এবং আমেরিকার মধ্যে অবিলম্বে একটি বাণিজ্যচুক্তি করতে সম্মত হয়েছি।’ এই বক্তব্যকে সামনে রেখেই কংগ্রেস প্রশ্ন তুলেছে— ভারতের সার্বভৌম বাণিজ্যনীতির মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে ঘোষণা কেন বিদেশি রাষ্ট্রনেতার মুখে?

Advertisement

কংগ্রেসের দাবি, এই চুক্তির প্রভাব সরাসরি পড়বে দেশের কৃষক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও শিল্পক্ষেত্রের উপর। অথচ এখনও পর্যন্ত ভারত সরকার এই বিষয়ে সংসদ বা দেশবাসীর সামনে কোনও ব্যাখ্যা দেয়নি। বিরোধীদের আশঙ্কা, শুল্ক ও অশুল্ক বাধা কার্যত ‘শূন্যে’ নামিয়ে এনে মার্কিন পণ্যের জন্য ভারতের বাজার উন্মুক্ত করার প্রস্তুতি নিচ্ছে মোদী সরকার। তার ফল ভোগ করতে হবে দেশীয় উৎপাদক ও ব্যবসায়ীদের।

Advertisement

এই প্রসঙ্গে কংগ্রেস গত বছর মে মাসে ভারত-পাকিস্তান সংঘর্ষবিরতির ঘটনাও টেনে এনেছে। সে সময়ও ভারত সরকারের আগে সংঘর্ষবিরতির ঘোষণা করেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। কংগ্রেসের বক্তব্য, ‘সংঘর্ষবিরতির মতো এবার বাণিজ্যচুক্তির ঘোষণাও করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এটা কি কাকতালীয়, না কি ভারতের কূটনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে কোনও দুর্বলতার ইঙ্গিত?’

কৃষিক্ষেত্র নিয়েও কংগ্রেসের উদ্বেগ তীব্র। ট্রাম্পের বক্তব্যে আমেরিকার জন্য ভারতের কৃষিক্ষেত্র উন্মুক্ত করার ইঙ্গিত রয়েছে বলে দাবি করেছে তারা। কংগ্রেসের প্রশ্ন, ‘চুক্তিটি আসলে কী? ভারতীয় কৃষকদের স্বার্থ ও সুরক্ষা কী ভাবে নিশ্চিত করা হচ্ছে? সরকার কী পরিকল্পনা করেছে, তা দেশবাসীর সামনে স্পষ্ট করতে হবে।’

রাশিয়া থেকে তেল কেনা নিয়েও বিতর্ক উসকে দিয়েছেন ট্রাম্প। তাঁর দাবি, রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করতে রাজি হয়েছেন মোদী এবং তার বদলে আমেরিকা থেকে বেশি করে তেল কিনবে ভারত। এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত ভারত সরকারের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। কংগ্রেসের সরাসরি প্রশ্ন, ‘মোদী সরকার কি সত্যিই এই শর্তে সম্মতি দিয়েছে?’

এখানেই শেষ নয়। ট্রাম্প আরও দাবি করেন, আমেরিকা থেকে প্রায় ৪৫ লক্ষ ২৫ হাজার ৬২২ কোটি টাকার পণ্য কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মোদী। কংগ্রেস প্রশ্ন তুলেছে, তা হলে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’র ভবিষ্যৎ কী? দেশীয় উৎপাদন ও আত্মনির্ভরতার স্বপ্ন কি বাণিজ্যচুক্তির নামে বিসর্জন দেওয়া হচ্ছে?

সব মিলিয়ে কংগ্রেসের স্পষ্ট দাবি, এই বাণিজ্যচুক্তি সম্পর্কে বিস্তারিত জানার অধিকার সংসদ ও দেশের প্রতিটি নাগরিকের রয়েছে। অবিলম্বে সরকারকে সব তথ্য প্রকাশ করে দেশবাসীর কাছে জবাবদিহির দাবিতেই চাপ বাড়াচ্ছে বিরোধীরা।

Advertisement