• facebook
  • twitter
Sunday, 11 January, 2026

পাকিস্তান থেকে যুদ্ধবিমান কেনার ইঙ্গিত বাংলাদেশ বায়ুসেনার

জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে কড়া নজরদারির বার্তা দিল্লির

প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র

বাংলাদেশের বায়ুসেনা প্রধান হাসান মাহমুদ খান সম্প্রতি ইসলামাবাদ সফরে গিয়েছিলেন। সেই সফর ঘিরে দক্ষিণ এশিয়ার কূটনৈতিক ও সামরিক মহলে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। পাক সেনার প্রচার ও তথ্য শাখার তরফে প্রকাশিত বিবৃতি অনুযায়ী, পাকিস্তানের কাছ থেকে যুদ্ধবিমান কেনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা চালিয়েছেন বাংলাদেশের বায়ুসেনা প্রধান। সব কিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে অদূর ভবিষ্যতেই এই বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে।

এই প্রেক্ষিতে বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছে দিল্লি। বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল সাপ্তাহিক সাংবাদিক বৈঠকে স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ‘গোটা পরিস্থিতির দিকে আমরা খুব কাছ থেকে নজর রাখছি। এই বিষয়টির সঙ্গে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তার সরাসরি যোগ রয়েছে।’ তাঁর এই মন্তব্যে স্পষ্ট, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সামরিক ঘনিষ্ঠতা নিয়ে উদ্বিগ্ন ভারত।

Advertisement

উল্লেখ্য, কয়েকদিন আগেই পাকিস্তানি সেনার প্রচার বিভাগ ইন্টার সার্ভিস জনসংযোগ দপ্তর বাংলাদেশের বায়ুসেনা প্রধানের সফর নিয়ে বিস্তারিত বিবৃতি দেয়। সেখানে বলা হয়, পাকিস্তানের বায়ুসেনা প্রধান জাহির আহমেদ বাবরের সঙ্গে বৈঠক করেন হাসান মাহমুদ খান। ওই বৈঠকে দুই দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে বিস্তর আলোচনা হয়। বিশেষভাবে আলোচনার কেন্দ্রে ছিল পাকিস্তানের তৈরি যুদ্ধবিমান কেনার সম্ভাবনা নিয়ে।

Advertisement

পাকিস্তানের দাবি অনুযায়ী, বাংলাদেশের বায়ুসেনা আধুনিক যুদ্ধবিমান কেনার বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে। সেই তালিকায় রয়েছে ‘জেএফ ১৭ থান্ডার’ যুদ্ধবিমান। এই যুদ্ধবিমান যৌথভাবে তৈরি করেছে চিন ও পাকিস্তান। সাড়ে চার প্রজন্মের এই আধুনিক যুদ্ধবিমানে উন্নত এভিওনিক ব্যবস্থা রয়েছে। এটি দূরপাল্লার অস্ত্র বহনে সক্ষম বলে জানা যায়। পাকিস্তানের বক্তব্য, এই যুদ্ধবিমান কেনা নিয়ে ইতিমধ্যেই দুই দেশের মধ্যে প্রাথমিক স্তরের আলোচনা হয়ে গিয়েছে।

বর্তমানে বাংলাদেশের বায়ুসেনা আধুনিক হাতিয়ার ও উন্নত যুদ্ধবিমানের সন্ধানে রয়েছে। সেই লক্ষ্যেই তারা নতুন করে প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা সাজাচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েনের আবহে বাংলাদেশ ধীরে ধীরে পাকিস্তানের সঙ্গে সামরিক ও প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ঘনিষ্ঠতা বাড়ানোর পথে হাঁটছে। এই প্রবণতাই দিল্লির কপালে ভাঁজ ফেলেছে।

দিল্লির কূটনৈতিক মহলের বক্তব্য, দক্ষিণ এশিয়ায় সামরিক ভারসাম্য বিঘ্নিত হয় এমন কোনও পদক্ষেপ ভারতের পক্ষে উদ্বেগের। তাই বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধবিমান কেনাবেচার সম্ভাব্য চুক্তি জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে প্রভাব ফেললে ভারত তা মেনে নেবে না বলেই স্পষ্ট ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। এই মুহূর্তে গোটা পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রেখেছে দিল্লি।

Advertisement