‘অ-হিন্দুদের প্রবেশ নিষেধ’। এমনই সাইনবোর্ড পড়ল জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র হরিদ্বারের ‘হর কি পৌরি’তে। গঙ্গার ঘাট-সহ হর কি পৌরি এলাকায় এই সাইনবোর্ড দেখে শুরু হয়েছে বিতর্ক। এই ঘাটের সর্বোচ্চ পরিচালনাকারী সংস্থা গঙ্গা সভা শুক্রবার হোর্ডিং এবং ফ্লেক্স ব্যানার লাগিয়েছে।
ভারতের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র হরিদ্বারে শুধু দেশের মানুষই নন, প্রতিবছর ভিড় জমান বহু বিদেশি পর্যটকও। বিশেষ করে হরিদ্বারে বহু মানুষ আসেন তীর্থযাত্রায়। কিন্তু এবার সেই হরিদ্বারেই অ-হিন্দু প্রবেশ নিষেধ উল্লেখ করে হোর্ডিং পড়েছে হর কি পৌরির বিভিন্ন এলাকায়।
হরিদ্বার পুরনিগমের নগর-কমিশনার নন্দন কুমার জানিয়েছেন, বিষয়টি তাঁদেরও নজরে এসেছে। তবে প্রশাসনের দাবি, উত্তরাখণ্ড সরকার এই ধরণের কোনও নিষেধাজ্ঞা নিয়ে নির্দেশ জারি করেনি। নন্দন কুমার বলেন, ‘সরকারি নির্দেশ জারি হলে, আমরা সেইমতো পদক্ষেপ করব।’
‘গঙ্গা সভা’-র সভাপতি নীতিন গৌতম ১৯১৬ সালে প্রণীত হরিদ্বার পৌরসভার উপবিধির কথা উল্লেখ করেছেন। সেই উপবিধিতে আছে যে, হর-কি-পৌরি এলাকায় অ-হিন্দুদের প্রবেশ, বসবাস এবং বাণিজ্যিক কার্যকলাপ সীমাবদ্ধ করা হয়। এই আইন সম্পর্কে সকলকে অবহিত করার জন্য এই সাইনবোর্ড দেওয়া হয়.। তিনি বলেন, আইন এবং ঐতিহ্য সম্পর্কে মানুষের সঙ্গে তথ্য আদানপ্রদান করার জন্যই সাইনবোর্ড দেওয়া হয়েছে। যদিও এই বিধি এতদিন বলবৎ করা হয়নি। হঠাৎ কেন তা লাগু করতে হচ্ছে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
প্রসঙ্গত, এর আগেই মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি জানিয়েছিলেন, হরিদ্বার একটি পবিত্র শহর। সরকার এর পবিত্রতা রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। হিন্দু নন, এমন ব্যক্তিদের এই শহরে প্রবেশে অনুমতির বিষয়টি নিয়ে বিবেচনা করছে সরকার। এই পরিস্থিতিতে এই ধরণের হোর্ডিং এবং পোস্টার ঘিরে কংগ্রেস প্রশ্ন তুলেছে, কী করে এমন ধরণের নিষেধাজ্ঞা করা যায়। এলাকার সব প্রবেশ পথেই এগুলি জ্বল জ্বল করছে।
উত্তরাখণ্ডে এখন চলছে কুম্ভমেলার প্রস্তুতি। তাঁর আগেই এই ধরণের হোর্ডিং এবং সাইনবোর্ড পড়ায় বিতর্ক দানা বাঁধছে। জানা গিয়েছে এই বিষয়ে ভাবনা চিন্তা করছে উত্তরাখণ্ড সরকার। গঙ্গা সভার তরফে সমস্ত সরকারি বিভাগ, অন্য সংগঠন এবং সংবাদমাধ্যমগুলির কাছে আর্জি জানানো হয়, তারা যেন তাদের অ-হিন্দু কর্মীদের এই এলাকায় না পাঠায়। এলাকার শুদ্ধতা বজায় রাখার জন্যই তা প্রয়োজন বলে দাবি করা হয়েছে। যদিও কর্তব্যরত কর্মীদের এই আওতা থেকে বাদ রাখা হয়েছে।