• facebook
  • twitter
  • youtube
Friday, 5 June, 2026

জমি চুক্তি মামলায় রবার্ট ভদ্রাকে তলব দিল্লির আদালতের, তোলপাড় রাজনৈতিক মহলে

গুরগাঁওয়ের জমি চুক্তি মামলায় রবার্ট ভদ্রকে তলব দিল্লির আদালতের। অর্থ তছরুপের অভিযোগে নতুন করে রাজনৈতিক চর্চা তুঙ্গে।

দীর্ঘদিন ধরে চলা জমি চুক্তি সংক্রান্ত বিতর্কে ফের নতুন মোড়। দিল্লির একটি বিশেষ আদালত ব্যবসায়ী রবার্ট ভদ্রা-সহ মোট ন’জনকে তলব করেছে। ২০০৮ সালের হরিয়ানার গুরগাঁওয়ের শিকোহপুর গ্রামের একটি জমি লেনদেন ঘিরে অর্থ তছরুপের অভিযোগে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী ১৬ মে সকল অভিযুক্তকে হাজির হতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই মামলায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা অভিযোগ করেছে, সংশ্লিষ্ট জমি লেনদেনে অনিয়ম করে বেআইনি আর্থিক লাভ তোলা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, রবার্ট ভদ্রা, যিনি সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর স্বামী এবং প্রাক্তন কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধীর জামাই। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, একটি বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে প্রায় সাড়ে তিন একর জমি কেনাবেচার সময় ভুয়ো তথ্য ব্যবহার করা হয়েছিল। তদন্তকারী দপ্তরের দাবি, এই লেনদেনের মাধ্যমে প্রায় ৫৮ কোটি টাকার বেআইনি অর্থ নেওয়া হয়েছে।

এছাড়াও অভিযোগ, এই অর্থ বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে ঘুরিয়ে লুকোনোর চেষ্টা করা হয়। ইতিমধ্যেই প্রায় ৩৮ কোটির বেশি মূল্যের একাধিক সম্পত্তি অস্থায়ীভাবে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বলে তদন্তকারী দপ্তর জানিয়েছে। এই মামলার শুনানির আগে আদালত উভয় পক্ষের বক্তব্য বিস্তারিতভাবে শোনে। তারপরই অভিযোগ গ্রহণ করে অভিযুক্তদের তলব করার সিদ্ধান্ত নেয়।

তবে ভদ্রার পক্ষের আইনজীবীরা আদালতে দাবি করেছেন, তাঁর মক্কেলের বিরুদ্ধে অর্থ তছরুপের কোনও প্রমাণ নেই। তাই এই অভিযোগ গ্রহণ না করার আবেদনও জানানো হয়েছিল। রাজনৈতিক মহলেও এই ঘটনাকে ঘিরে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। বিরোধী শিবিরের একাংশের দাবি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই এই ধরনের মামলা সামনে আনা হচ্ছে। অন্যদিকে, শাসক পক্ষের বক্তব্য, তদন্ত প্রক্রিয়া আইনের পথেই এগোচ্ছে।

উল্লেখ্য, ২০১২ সালে প্রথম এই জমি চুক্তি নিয়ে বিতর্ক সামনে আসে, যখন এক শীর্ষ আমলা এই লেনদেন বাতিল করেছিলেন। পরে প্রশাসনিক স্তরে ভিন্ন মত উঠে এলেও, রাজ্য রাজনীতির পালাবদলের পর ফের তদন্ত শুরু হয়।