• facebook
  • twitter
Sunday, 11 January, 2026

শিমলায় একাধিক বাড়িতে ফাটল, রাস্তায় বহু পরিবার

রাতারাতি ১৫টি পরিবারের ৪০ জন বাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়

শিমলার একের পর এক বাড়িতে ফাটল দেখা দিয়েছে। ভয়ে রাস্তায় আশ্রয় নিয়েছে স্থানীয়রা। শুক্রবার রাতে হঠাৎ সঞ্জৌলি এলাকায় বেশ কয়েকটি বাড়িতে ফাটল দেখা যায়। এর ফলে আতঙ্ক ছড়ায় এলাকায়। রাতারাতি ১৫টি পরিবারের ৪০ জন বাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়।

সূত্রের খবর অনুসারে চালাউন্তি বাইপাসের কাছে সুড়ঙ্গের কাজ চলছে। ভারী ভারী যন্ত্রপাতি নিয়ে খনন করা হচ্ছে। সন্দেহ করা হচ্ছে, তার জেরে যে কম্পন সৃষ্টি হয়েছে, সেই কম্পনেই বাড়িগুলিতে ফাটল ধরেছে। তবে নেপথ্যে অন্য কোনও কারণ আছে কি না তা খতিয়ে দেখা শুরু করেছে প্রশাসন। এতগুলি বাড়িতে ফাটল ধরায় ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ এবং জেলা প্রশাসনের আধিকারিকরা। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন তাঁরা। জেলাশাসক পঙ্কজ শর্মার নির্দেশে ফাটল ধরা বাড়িগুলি খালি করানো হয়। ওই এলাকায় যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়।

Advertisement

স্থানীয় এক বাসিন্দা জানিয়েছেন, নির্মাণ সংস্থাকে সড়ঙ্গের কাজের জেরে তাঁদের ঘরবাড়ির ক্ষতির কথা জানানো হয়েছিল। ফাটল দেখা দেয় কয়েকটি বাড়িতে। তাঁর কথায়, ‘খবর পেয়ে নির্মাণকারী সংস্থার আধিকারিকেরা এসে দেখে যান। সেই সঙ্গে বলে যান, এতে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। এই ধরনের ফাটল খুবই স্বাভাবিক। সেই আধিকারিকই আবার আমাদের এসে বাড়ি খালি করার পরামর্শ দিয়েছেন।’

Advertisement

রাজ্যের পঞ্চায়েতি রাজ মন্ত্রী অনিরুদ্ধ সিংহ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির সঙ্গে কথা বলেন। তাদের সব রকম সহযোগিতার আশ্বাসও দিয়েছেন। মন্ত্রীর দাবি, গত দেড় বছর ধরে এই বিষয়টি জানিয়ে আসছেন কেন্দ্রীয় পরিবহণ মন্ত্রী নিতিন গড়কড়ী এবং জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষকে। একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে। জমিগুলিতে সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি খতিয়ে দেখার জন্য। গত বছরে জুনে ধসের কারণে সঞ্জৌলির কাছেই মাঠু কলোনিতে একটি বহুতল ভেঙে পড়েছিল। চার লেনের সড়ক তৈরির জন্য পাহাড় কাটার কাজ চলছিল। আর সেই কারণেই দুর্ঘটনাটি ঘটে।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে উত্তরাখণ্ডের জোশীমঠে প্রায় ৯০০ বাড়িতে ফাটল দেখা দেয়।রাস্তাঘাট, জমি এবং স্থানীয় মন্দিরগুলিতেও ফাটল দেখা যায়। বহু পরিবার ঘর ছাড়া হয়। উত্তরাখণ্ডের আরও কয়েকটি পাহাড়ঘেরা শহরেও আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল। কর্ণপ্রয়াগ, উত্তরকাশী, গুপ্তকাশী, হৃষীকেশ, নৈনিতাল এবং মসুরীর মতো শহরগুলিতে ফাটল দেখা গিয়েছিল। ৫২০ মেগাওয়াট তপোবন-বিষ্ণুগড় জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেলে জলাধার ফেটে যাওয়ায় সঙ্কট বাড়ে জোশীমঠের, দাবি বাসিন্দাদের। প্রশাসন এই অভিযোগ উড়িয়ে দেয়। শিমলার সঞ্জৌলির ক্ষেত্রেও সেই উন্নয়নকেই দায়ী করছেন স্থানীয়েরা।

Advertisement