বিমান দুর্ঘটনায় প্রয়াত মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ার। বারামতী বিমানবন্দরে অবতরণের সময় আচমকাই ভেঙে পড়ে তাঁর ব্যক্তিগত বিমান। ডিজিসিএ-র সূত্রে খবর, মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী-সহ বিমানে থাকা সকলেরই মৃত্যু হয়েছে। আর এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই শোকের ছায়া রাজনীতি মহলে। দুর্ঘটনায় মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পওয়ারের মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অজিতের আকস্মিক মৃত্যুতে গভীর ভাবে মর্মাহত পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী। শোকপ্রকাশ করে এক্স হ্যান্ডলে তিনি বিমান দুর্ঘটনার সঠিক তদন্তের দাবি তুলেছেন।
ঘটনার পরেই সমাজমাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী লেখেন, ‘অজিত পওয়ারের আকস্মিক মৃত্যুতে গভীরভাবে মর্মাহত এবং স্তম্ভিত। আজ সকালে বারামতীতে এক ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় মহারাষ্ট্রের উপ-মুখ্যমন্ত্রী এবং তাঁর সহযাত্রীদের মৃত্যু হয়েছে। এ এক বিরাট ক্ষতি।‘ অজিত পওয়ারের কাকা শরদ পাওয়ার এবং পরিবারের প্রতি সমবেদনাও জানিয়েছেন মমতা। পাশাপাশি এই ঘটনায় যথাযথ তদন্তের দাবিও জানিয়েছেন তিনি। এক্স হ্যান্ডেলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লিখছেন, ‘এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রয়োজন।‘
Advertisement
অজিত পাওয়ারের ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফডনবিশের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন তিনি। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গেও কথা হয় ফডনবিশের। সমাজমাধ্যমে অজিত পাওয়ারকে জননেতা বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি লেখেন, ‘অজিত পাওয়ার জননেতা ছিলেন। তৃণমূল স্তর পর্যন্ত তাঁর যোগাযোগ ছিল। মহারাষ্ট্রের জনগণের সেবায় তাঁর সর্বদা অগ্রণী ভূমিকা থাকত। পরিশ্রমী এবং সর্বজন সম্মানিত অজিতের মৃত্যু অত্যন্ত দুঃখজনক।‘ দুর্ঘটনায় নিহত অন্যান্যদের পরিবারের প্রতিও সমবেদনা জানান প্রধানমন্ত্রী।
Advertisement
বুধবার সকাল পৌনে ৯টা নাগাদ বারামতী বিমানবন্দরে নামার সময় ভেঙে পড়ে অজিতের বিমানটি। ভেঙে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাতে আগুন ধরে যায়। জেলা পরিষদের নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীদের হয়ে প্রচারের জন্য মুম্বই থেকে বারামতী যাচ্ছিলেন মহারাষ্ট্রের মহাগঠবন্ধন সরকারের অন্যতম শরিক তথা উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত। তিনি ছাড়াও বিমানে ছিলেন তাঁর দু’জন নিরাপত্তারক্ষী, একজন পাইলট এবং ফার্স্ট অফিসার।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহ, তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, সকলেই অজিতে মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেছেন। রাজ্যসভার সাংসদ তথা উদ্ধব ঠাকরে গোষ্ঠীর শিবসেনা নেতা সঞ্জয় রাউত অজিতের মৃত্যুকে মহারাষ্ট্রের ‘কালো দিন’ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, অজিত ছাড়া মহারাষ্ট্রের রাজনীতি অপূর্ণ।
তবে কীভাবে দুর্ঘটনা ঘটল তা এখনও জানা যায়নি। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। বারামতী বিমানবন্দরের ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক শিবাজি তওয়ারে জানিয়েছেুন, বিমানটি নামার সময় রানওয়ের একদম ধারে চলে যায়। তার পরেই বিমানটি ভেঙে পড়ে এবং আগুন ধরে যায়।
Advertisement



