• facebook
  • twitter
Saturday, 17 January, 2026

‘দুর্বলদের রক্ষা করাই আইনের কাজ’, মন্তব্য প্রধান বিচারপতির

হ্যানয়ে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় অংশ নিয়ে তিনি বলেন, 'প্রত্যেক আইনজীবী এবং বিচারকের নিজস্ব অভিজ্ঞতা, চিন্তাভাবনা ও দৃষ্টিভঙ্গি থাকে।

‘আইনের আসল কাজ হল দুর্বল, প্রান্তিক ও বঞ্চিত মানুষদের পাশে দাঁড়ানো।’ এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখার সময় এই বার্তা দিলেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি বিআর গাবাই। ভিয়েতনামের রাজধানী হ্যানয়ে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় অংশ নিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রত্যেক আইনজীবী এবং বিচারকের নিজস্ব অভিজ্ঞতা, চিন্তাভাবনা ও দৃষ্টিভঙ্গি থাকে। এই বৈচিত্র্যই আমাদের শক্তি। ন্যায়বিচারের ক্ষেত্রে এই বৈচিত্র্যকে কাজে লাগাতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি নিজে নিম্নবর্গের পরিবারে জন্মেছি। কিন্তু তাতে আমার সম্মান কমে যায় না। আমাদের সংবিধান প্রত্যেক নাগরিককে সমান মর্যাদা দিয়েছে।’ প্রধান বিচারপতি জানান, গৌতম বুদ্ধ, মহাত্মা গান্ধী এবং বিআর আম্বেদকরের আদর্শ তাঁকে অনুপ্রাণিত করেছে। তাঁদের চিন্তাভাবনা থেকেই তিনি আইনের গভীরতর উদ্দেশ্য বুঝেছেন। আইনের মূল উদ্দেশ্য হল, সমাজের শ্রেণিবিভাজন ভেঙে ফেলা ও প্রান্তিকদের শক্তিশালী করে তোলা।

Advertisement

প্রধান বিচারপতি বিআর গাবাই এও মনে করিয়ে দেন, ‘ন্যায়বিচার শুধুই আদালতের চার দেওয়ালে সীমাবদ্ধ নয়। সাংবিধানিক মূল্যবোধ থাকা উচিত অফিস, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সমাজের সর্বত্র।’

Advertisement

প্রসঙ্গত, কিছুদিন আগেই সুপ্রিম কোর্টের ভরা এজলাসে একটি অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। এক আইনজীবী বিচারপতি গাবাইয়ের দিকে জুতো ছুঁড়ে মারার চেষ্টা করেন। অভিযোগ, প্রধান বিচারপতির একটি মন্তব্যে তিনি সনাতন ধর্মের অবমাননা অনুভব করেছিলেন। যদিও বিচারপতি গাবাই স্পষ্ট করেন, তাঁর মন্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা করা হয়েছে। তিনি সব ধর্মকে সমানভাবে সম্মান করেন।

তিনি বলেন, ‘আমি কাউকে বা কোনও ধর্মবিশ্বাসকে ছোট করিনি। সংবিধান অনুযায়ী, প্রত্যেক ধর্ম ও বিশ্বাসের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা থাকা উচিত।’ সমগ্র বক্তব্যে প্রধান বিচারপতি বোঝাতে চেয়েছেন, আইনের উদ্দেশ্য শুধু শাস্তি দেওয়া নয়, বরং সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা। বিশেষ করে যাঁরা পিছিয়ে পড়েছেন, তাঁদের পাশে দাঁড়ানোই আইনের আসল কর্তব্য।

Advertisement