মহারাষ্ট্রের এনসিপি নেতা অজিত পাওয়ারের মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনার তদন্তকে ঘিরে নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে। তাঁর মৃত্যুর রহস্য উদ্ঘাটনের দাবিতে তাঁর স্ত্রী তথা রাজ্যের উপ-মুখ্যমন্ত্রী সুনেত্রা পাওয়ার সিবিআই তদন্তের আবেদন জানিয়েছেন। মঙ্গলবার তিনি দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীসের সঙ্গে দেখা করে বিষয়টি তুলে ধরেন। এর আগে তদন্তের ধীরগতির অভিযোগ তুলেছিলেন অজিতের ভাইপো ও বিধায়ক রোহিত পাওয়ারও।
সিবিআই তদন্ত দাবি করার পরই কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রক জানিয়েছে, দুর্ঘটনাগ্রস্ত বিমানের ব্ল্যাক বক্স ভয়াবহ আগুন ও উচ্চ তাপমাত্রায় গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে ককপিট ভয়েস রেকর্ডার থেকে তথ্য উদ্ধার করতে সমস্যা হচ্ছে।
Advertisement
বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় সেই তথ্য পুনরুদ্ধারের চেষ্টা চলছে। তদন্ত করছে এয়ারক্র্যাফ্ট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো তথা এএআইবি। সংস্থার দাবি, ডিজিটাল ফ্লাইট ডেটা রেকর্ডার থেকে কিছু তথ্য উদ্ধার করা গেলেও ভয়েস রেকর্ডারের বিশ্লেষণ এখনও জটিল পর্যায়ে রয়েছে।
Advertisement
গত ২৮ জানুয়ারি মুম্বাই থেকে নিজের নির্বাচনী কেন্দ্র বারামতী যাওয়ার পথে একটি ভাড়া করা ছোট বিমান রানওয়ের অদূরে ভেঙে পড়ে। দুর্ঘটনায় অজিত পাওয়ার-সহ ৫ জনের মৃত্যু হয়। সরকারি সূত্রের মতে, দীর্ঘ সময় ধরে আগুনে পুড়ে যাওয়ার ফলে রেকর্ডিং যন্ত্রের সুরক্ষা স্তর নষ্ট হয়ে যায়। তবে বিশেষজ্ঞদের একাংশের প্রশ্ন—চরম দুর্ঘটনাতেও তথ্য সংরক্ষণের জন্য তৈরি ব্ল্যাক বক্স এতটা ক্ষতিগ্রস্ত হল কীভাবে।
এদিকে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে দুর্ঘটনার দিন নেওয়া এক প্রশাসনিক সিদ্ধান্তকে ঘিরে। অভিযোগ, সেই দিনেই সংখ্যালঘু দপ্তর থেকে একঝটকায় ৭৫টি শিক্ষা-সংক্রান্ত ফাইলে অনুমোদন দেওয়া হয়। স্কুলের স্বীকৃতি, অনুমতি ও অন্যান্য প্রশাসনিক ছাড়পত্র সংক্রান্ত এই বিপুল সংখ্যক ফাইল এত কম সময়ে অনুমোদন হওয়া অস্বাভাবিক বলে দাবি বিরোধীদের। তাঁদের প্রশ্ন, যথাযথ যাচাই-বাছাই করা হয়েছিল কি না এবং এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে অন্য কোনও প্রেক্ষাপট জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা উচিত।
এদিকে সূত্রের খবর, ঘটনার পর সংখ্যালঘু দপ্তরের এক শীর্ষ আধিকারিককে বদলি করা হয়েছে এবং গোটা প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশাসনিক তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। রাজনৈতিক মহলে এখন প্রশ্ন —একই দিনে এত ফাইল কেন অনুমোদিত হল ? সিদ্ধান্তগুলি আগে থেকে প্রস্তুত ছিল কি ? পুরো প্রক্রিয়া নিয়ম মেনেই হয়েছে কি ?
যদিও এই সব জল্পনা-কল্পনার মধ্যে এনসিপি প্রধান শরদ পাওয়ার স্পষ্ট জানিয়েছেন, তিনি এই ঘটনাকে কোনও ষড়যন্ত্র বলে মনে করেন না। তাঁর মতে, এটি নিছকই দুর্ঘটনা। এই দুর্ঘটনায় রাজ্য এক গুরুত্বপূর্ণ নেতাকে হারিয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে তদন্তের স্বচ্ছতা নিয়ে রাজনৈতিক চাপ বাড়ছে। ব্ল্যাক বক্সের ক্ষতি, প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের সময়কাল এবং দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ—সব মিলিয়ে রহস্যের জট কত দ্রুত খুলবে, এখন সেদিকেই নজর সব মহলের। সিবিআই তদন্তের দাবি ওঠায় দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ সামনে আসবে কি না, এখন সেটাই দেখার।
Advertisement



