• facebook
  • twitter
  • youtube
Tuesday, 6 October, 2026

নির্বাচন সদন অভিযানে যোগ বিজেডির, আটকানো হল রাহুল-প্রিয়াঙ্কা-অখিলেশদের

রাহুল অভিষেকরা কিছু দূর এগোতেই তাঁদের আটকে দেন পুলিশকর্মীরা। পুলিশ বাধা দিলে রাস্তাতেই বসে বিক্ষোভ দেখা শুরু করেন সাংসদেরা

নির্বাচন সদন অভিযানে যোগ বিজেডির, আটকানো হল রাহুল-প্রিয়াঙ্কা-অখিলেশদের

Image: IANS

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে মঙ্গলবার মিছিলের ডাক দেন বিরোধী সাংসদেরা (INDIA bloc MPs’ march to ECI)। নির্বাচন সদন থেকে অভিযান শুরু করেন ইন্ডিয়ার নেতারা। এদিন সকাল ১১টায় সংসদ ভবনের মকরদ্বার থেকে মিছিল শুরু করেন রাহুল, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, মল্লিকার্জুন খাড়গে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও অখিলেশ যাদবেরা।

রাহুল অভিষেকরা কিছু দূর এগোতেই তাঁদের আটকে দেন পুলিশকর্মীরা। পুলিশ বাধা দিলে রাস্তাতেই বসে বিক্ষোভ দেখা শুরু করেন সাংসদেরা। মূলত ‘ইন্ডিয়া’-র সদস্যরা থাকলেও (INDIA bloc MPs’ march to ECI) এই মিছিলে যোগ দিতে দেখা যায় বিজু জনতা দল(বিজেডি)। তারা এই জোটের সামিল নয়।

ভোটার তালিকায় নতুন নাম তোলার জন্য ব্যবহৃত ফর্ম ৬ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণের পরই বিরোধীদের এই আন্দোলন নতুন মাত্রা পেয়েছে। সোমবার শীর্ষ আদালত স্পষ্ট করে জানিয়ে দেয়, ফর্ম ৬-এর কোনও পরিবর্তিত সংস্করণকে তারা অনুমোদন দেয়নি। এই পর্যবেক্ষণকে সামনে রেখে এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে জবাবদিহি চেয়ে সরব হয়েছে বিরোধী দলগুলি।

আরও পড়ুন: বিরোধীদের মিছিল আটকাতে দিল্লি জুড়ে মোতায়েন ৩০০০ পুলিশকর্মী

মঙ্গলবারের কর্মসূচিকে ঘিরে দিল্লির মধ্যাঞ্চলে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়। নির্বাচন সদরের দিকে যাওয়া বিভিন্ন রাস্তায় একাধিক স্তরে ব্যারিকেড বসানো হয় এবং বিপুল সংখ্যক পুলিশকর্মী মোতায়েন করা হয়। সমাজবাদী পার্টির সাংসদ ধর্মেন্দ্র যাদব জানান, পুলিশের বাধা থাকলেও তাঁরা মিছিল এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করবেন।

বিজেপির পক্ষ থেকে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে আক্রমণের অভিযোগ তোলা হলেও তা খারিজ করেন ধর্মেন্দ্র। তাঁর প্রশ্ন, নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের জবাব বিজেপিকে কেন দিতে হবে। তাঁর বক্তব্য, নির্বাচন কমিশনেরই নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করা উচিত।

বিজেডির রাজ্যসভার সাংসদ সুলতা দেও জানান, তাঁর দলের এই কর্মসূচিতে যোগ দেওয়াকে কোনও  রাজনৈতিক জোটের দিকে ঝোঁকা হিসেবে দেখা উচিত নয়। তাঁর কথায়, বিজেডি না ‘ইন্ডিয়া’ জোটে রয়েছে, না এনডিএ-তে। ওড়িশায় ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়েও তাদের নিজস্ব আপত্তি রয়েছে বলেই তিনি জানান।

ফর্ম ৬ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ

সোমবার ফর্ম ৬ নিয়ে শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত জানান, আদালত কোনও পরিবর্তিত ফর্ম অনুমোদন করেনি। সংশ্লিষ্ট রিপোর্ট পাওয়ার পরে ফর্মে পরিবর্তন কে করেছিলেন, তা খতিয়ে দেখা হবে বলেও জানান তিনি।

আরও পড়ুন: যৌন হেনস্থার অভিযোগের মধ্যেই পুলিশ আধিকারিকের পদোন্নতি! এফআইআর না হওয়ায় প্রশ্ন, কী বলছে দিল্লি পুলিশ?

নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত এবং এসআইআর প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দায়ের হওয়া মামলার শুনানিতেই এই পর্যবেক্ষণ করে শীর্ষ আদালত। আদালত সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির জবাব চেয়েছে। তবে এই পর্যায়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে পদ থেকে সরানোর কোনও নির্দেশ দেওয়া হয়নি।

সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণের প্রসঙ্গ তুলে সিপিআই(এম) সাংসদ জন ব্রিটাস জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করেন। আরজেডি সাংসদ মনোজ ঝাও ফর্ম ৬ নিয়ে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

কংগ্রেসের সাংসদ ইমরান মাসুদ দিল্লিতে বিক্ষোভ ঘিরে কড়া নিরাপত্তার সমালোচনা করে জ্ঞানেশের পদত্যাগ দাবি করেন। কংগ্রেস সাংসদ হিবি ইডেন নির্বাচন প্রক্রিয়ার প্রতি মানুষের আস্থা বজায় রাখতে ‘মুক্ত, অবাধ ও স্বচ্ছ’ নির্বাচন ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।

কংগ্রেস সাংসদ ধরমবীর গান্ধীর অভিযোগ, বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চার সাংসদ বিজয় কুমার হানসদকও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শিবসেনা (উদ্ধব বালাসাহেব ঠাকরে)-র নেতা সঞ্জয় রাউতও জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করেছেন। তাঁদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

দেখুন: