বাংলাদেশে ভারত বিরোধিতার ঢেউ যতই বাড়ছে। ততই ঘোলা জলে মাছ ধরতে নেমে পড়েছে পাকিস্তান। কয়েকদিন আগেই পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী ইসহাক দার বাংলাদেশকে হারিয়ে যাওয়া ভাই বলে উল্লেখ করেছিলেন। আর এবার ঢাকা সফরে এসেছিলেন পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের প্রতিনিধি দল। যা নিয়ে রীতিমত উদ্বেগে ভারতের বিদেশমন্ত্রক। গোটা পরিস্থিতির দিকে কড়া নজর রাখছে দিল্লি। বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, ‘আশপাশে প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলির গতিবিধি ভারতের রাষ্ট্রীয় সুরক্ষার সঙ্গে সম্পর্কিত। আরও বেশি করে সেগুলির ওপর নজর রাখা চলছে। যদি প্রয়োজন হয় এই বিষয়ে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
একটা সময় ভারতবন্ধু বাংলাদেশ এই কথাটি দুদেশের মানুষ জানতো ও মেনেও চলতো। কিন্তু হাসিনা সরকারের পতনে সবকিছুই বদলে গিয়েছে। মুহাম্মদ ইউনূস পরিচালিত অন্তর্বর্তী সরকারের শুরু থেকেই ভারত বিদ্বষের আঁচ পাওয়া যাচ্ছিলো। সময় যত গড়িয়েছে, জামাতের রমরমাও বেড়েছে সমানতালে। পাল্টে দেওয়া হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস। মুছে ফেলা হয়েছে বঙ্গবন্ধুর অবদান। একাত্তরের গণহত্যা ভুলে ইউনুসের নতুন বাংলাদেশ এখন কাছে টানছে পাকিস্তানকে। আর পাকিস্তান এই সুযোগের সদব্যবহার করতে চাইছে পুরোদমে। সম্প্রতি আইএসআই-এর ডিরেক্টর জেনারেল অফ অ্যানালিসিস মেজর জেনারেল শাহিদ আমির আফসারও বাংলাদেশ সফরে গিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। তাঁর সঙ্গে ছিলেন আইএসআই প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল আসিম, ও আর এক অফিসার। বাংলাদেশের সেনার অফিসারদের সঙ্গে নাকি দীর্ঘক্ষণ বৈঠক করেছেন তাঁরা। তবে এই বৈঠক নিয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছে দুইপক্ষই।
Advertisement
বাংলাদেশ-পাকিস্তানের এই গোপন আঁতাতকে একেবারেই ভালো চোখে দেখছে না ভারত। এমনিতেই সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া লাগানো নিয়ে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) নানাভাবে অশান্তি বাধানোর চেষ্টা করেছে ভারতের সীমান্ত রক্ষীদের সঙ্গে। এই নিয়ে দুই দেশের কূটনৈতিক টানাপোড়েনও তুঙ্গে উঠেছে। এর মধ্যেই ভারতের সাধারণতন্ত্র দিবস উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকায় আপ্স আলার্ট জারি করেছে বিএসএফ। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক কর্মকান্ডকে মোটেই হালকাভাবে নিচ্ছে না ভারত। এই বিষয়ে বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়ালকে জিজ্ঞাসা করে হলে তিনি জানিয়েছেন, ‘বাংলাদেশের সঙ্গে ভারত বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়, তবে আমাদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার কোনও সম্ভাবনা তৈরি হলে প্রয়োজনে যেকোনও পদক্ষেপ করা হবে।’
Advertisement
কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এখন ইউনূস সরকারের মূল লক্ষ্যই হলো ভারত বিরোধিতা। ফলে পুরনো রাগ মেটাতে এই সুযোগকেই কাজে লাগাতে খামতি রাখছে না পাকিস্তান। ইতিমধ্যেই বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে পাকিস্তানের সঙ্গে কূটনৈতিক, বাণিজ্যিক এবং সামরিক সুসম্পর্ক তৈরির দিকে জোর দিয়েছে ঢাকা। অন্যদিকে বাংলাদেশে গাজিপুরের সমরাস্ত্র নির্মাণের কারখানায় তাদের শাহিন ক্ষেপণাস্ত্র বানানোর প্রস্তাব দিয়েছে পাকিস্তান। বাংলাদেশের হাতে পাকিস্তানি ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র থাকলে পূর্ব ও পশ্চিম— দুই সীমান্তেই চাপে থাকবে ভারত। সব মিলিয়ে দিল্লির উদ্বেগের যথেষ্ঠ কারণ রয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে। সেই কারণে দেশের নিরাপত্তার স্বার্থে বাংলাদেশের প্রতিটি পদক্ষেপের দিকে নজর রাখছে ভারত।
Advertisement



